· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
জেলা · বরিশাল বিভাগ

ভোলা

Bhola

ভোলা জেলার ৭টি উপজেলা

ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি দ্বীপ জেলা ভোলা নামেও সর্বাধিক পরিচিত। এর পূর্বনাম দক্ষিণ শাহবাজপুর। ভোলা ইলিশের বাড়ি নামেও পরিচিত।

ইতিহাস

ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিন শাহবাজপুর। জে.সি. জ্যাক তার "বাকেরগঞ্জ গেজেটিয়ার"-এ বলেছেন যে দ্বীপটি ১২৩৫ সালে তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিল এবং এই এলাকায় চাষাবাদ শুরু হয়েছিল ১৩০০ সালে। ১৫০০ সালে পর্তুগিজ এবং মগ জলদস্যুরা এই দ্বীপে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে। শাহবাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলেও আরাকান ও মগ জলদস্যুরা তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে।

শাহবাজপুর ১৮২২ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ জেলার (বর্তমান বরিশাল) একটি অংশ ছিল। ১৯ শতকের শুরুতে, মেঘনা নদীর সম্প্রসারণের কারণে জেলা সদর থেকে দক্ষিণ শাহজাদপুরের সাথে সংযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ শাহবাজপুর ও হাতিয়াকে বাকেরগঞ্জ থেকে আলাদা করে নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোলা ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত নোয়াখালীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৬৯ সালে এটি একটি মহকুমা হিসেবে পুনরায় বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮৭৬ ​​সালে প্রশাসনিক সদর দফতর দৌলতখান থেকে ভোলায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৮৪ সালে এটি একটি জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

নামকরণের ইতিহাস

ভোলার নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি কাহিনি প্রচলিত আছে। ভোলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিল না। একসময় এটা পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার চলতো। থুরথুরে বুড়ো এক মাঝি খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজনকে পারাপারের কাজ করতো। তার নাম ছিল ভোলা গাজি পাটনি মতান্তরে ভোলা নাথ বাবু। আজকের যুগীরঘোলের কাছেই তার আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজির নামানুসারেই একসময় নামকরণ হয় ভোলা।

অবস্থান ও আয়তন

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা। জেলা প্রশাসন যাকে কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ বলে ঘোষণা করে। ভোলা জেলার উত্তরে বরিশাল জেলা ও মেঘনা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালী জেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলা ও মেঘনা নদী, পশ্চিমে বরিশাল জেলা ও পটুয়াখালী জেলা ও তেঁতুলিয়া নদী। এর মোট আয়তন ৩৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার।

শিক্ষাব্যবস্থা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি বেসরকারি মোট ২১ টি কলেজ রয়েছে। ১১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য দাখিল মাদরাসা রয়েছে।

গজারিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ

দৌলতখান সরকারি আবু আব্দুল্লাহ কলেজ

আব্দুল জব্বার সরকারি কলেজ

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

দৌলতখান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

দৌলতখান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

চরফ্যাশন টি. বি. উচ্চ বিদ্যালয়

সুকদেব মদন মোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ইলিশা ইউ সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আল মাদরাসাতুল আজিজিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, চরশুভি মাদরাসা

ভোলা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

ভোলা টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

ভোলা জেলা ৭টি উপজেলা, ১০টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

ভোলা জেলায় মোট ৭টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভোলা জেলার মোট জনসংখ্যা ১৭,৭৬,৭৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮,৮৪,০৬৯ জন এবং মহিলা ৮,৯২,৭২৬ জন। মোট পরিবার ৩,৭২,৭২৩টি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভোলা শহর ঢাকা থেকে নদী পথে দূরত্ব ১৯৫ কি.মি.। সড়কপথে বরিশাল হয়ে দূরত্ব ২৪৭ কি.মি. এবং লক্ষীপুর হয়ে দূরত্ব ২৪০কি.মি.। ভোলার সাথে অন্য কোনো জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। অন্য জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য ভোলাবাসীকে লঞ্চ,স্পিড বোট এবং ফেরীর উপর নির্ভর করতে হয়।

চিত্তাকর্ষক স্থান

নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ

বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর জমিদার বাড়ি

চিকিৎসা ব্যবস্থা

ভোলা জেলায় সদর হাসপাতাল চিকিৎসা সেবার জন্য নিবেদিত। এছাড়া উপজেলাসমূহে পৃথক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা

তোফায়েল আহমেদ রাজনীতিবিদ

নাজিউর রহমান মঞ্জুর, রাজনীতিবিদ

আবদুল হাই চৌধুরী, আইনজীবী

কামালুদ্দীন জাফরী, ইসলামি চিন্তাবিদ,

মোশারেফ হোসেন শাহজাহান, রাজনীতিবিদ

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন

আন্দালিব রহমান পার্থ, রাজনীতিবিদ

সিদ্দিকুর রহমান, রাজনীতিবিদ

নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, রাজনীতিবিদ

হাফিজ ইব্রাহিম, রাজনীতিবিদ

হাফিজ উদ্দিন আহমদ, রাজনীতিবিদ ও স্পীকার

নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, রাজনীতিবিদ

সাদ জগলুল ফারুক, রাজনীতিবিদ

জাফর উল্যাহ চৌধুরী, রাজনীতিবিদ

নাজিম উদ্দিন আলম, রাজনীতিবিদ

আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, রাজনীতিবিদ

নলিনী দাস, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী