· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
জেলা · বরিশাল বিভাগ

ঝালকাঠি

Jhalakathi

ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলা

ঝালকাঠি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি জেলা বা অঞ্চল।

নদী বন্দরের জন্য ঝালকাঠি সবসময় ইউরোপীয়দের আকর্ষণ করেছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ডাচ ও ফরাসিরা এখানে ব্যবসা কেন্দ্র খুলেছিল। বাণিজ্যিক গুরুত্বের জন্য ঝালকাঠিকে দ্বিতীয় কলকাতা বলা হত।

ইতিহাস

ঝালকাঠি পূর্বে পিরোজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত। ১ এপ্রিল ১৮৭৫ সালে ঝালকাঠি পৌরসভার গোড়াপত্তন হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে সেনাবাহিনী কর্তৃক কুলকাঠিতে ১৭ জন মুসলমান নিহত হন। স্থানীয় দাঙ্গা নিরসন ও শৃঙ্খলা প্রদানের জন্য ১৮৮২ সালে ঝালকাঠিতে একটি পুলিশ থানা স্থাপন করা হয়। নদী বন্দরের জন্য ঝালকাঠি সবসময় ইউরোপীয়দের আকর্ষণ করেছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ডাচ ও ফরাসিরা এখানে ব্যবসা কেন্দ্র খুলেছিল। বাণিজ্যিক গুরুত্বের জন্য ঝালকাঠিকে দ্বিতীয় কলকাতা বলা হত। কিছু স্থানীয় রাজাকার এর সহায়তায় ১৬ই জুন ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনী তাদের হত্যা করে। স্বাধীনতা লাভের পরে ১৯৭২ সালের ১ জুলাই ঝালকাঠি থানাকে পিরোজপুর জেলার মহকুমায় উন্নীত করা হয়।

অবস্থান ও আয়তন

এ উপজেলার মোট আয়তন ৭৫৮.০৬ বর্গকিলোমিটার। ঝালকাঠি উপজেলার উত্তর ও পূর্বে বরিশাল জেলা, পূর্ব ও দক্ষিণে পটুয়াখালী জেলা পশ্চিমে পিরোজপুর জেলা, দক্ষিণে বিষখালী নদী ও বরগুনা জেলা।

প্রধান নদী

বাসন্ডা নদী।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

ঝালকাঠি জেলা ৪টি উপজেলা, ৪টি থানা, ২টি পৌরসভা, ৩২টি ইউনিয়ন, ৪০০টি মৌজা, ৪৪৯টি গ্রাম ও ২টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

ঝালকাঠি জেলায় মোট ৪টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ঝালকাঠি জেলার মোট জনসংখ্যা ৬,৮২,৬৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩,২৯,১৪৭ জন এবং মহিলা ৩,৫৩,৫২২ জন। মোট পরিবার ১,৫৮,১৩৯টি।

শিক্ষা

২০২৪ তথ্য অনুযায়ী ঝালকাঠি জেলার সাক্ষরতার হার ৫৯.৪৪%।

অর্থনীতি

প্রধান শস্য: ধান।

প্রধান ফল: আম, কলা, জলপাই, কাঠাল তাল, লিচু, নারিকেল, আমড়া, পেয়ারা, পান।

শিল্প-কারখানা: বরফ কল, ময়দার কল, লবণ কারখানা, রাইস মিল, তেলের কল, বিড়ি কারখানা।

কুটির শিল্প: গামছা শিল্প, মৃৎশিল্প।

ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন

সুজাবাদ কেল্লা, ঘোষাল রাজবাড়ী, পুরাতন পৌরসভা ভবন, মাদাবর মসজিদ, সুরিচোরা জামে মসজিদ, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা, গাবখান সেতু, কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ি, শের-ই বাংলা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ, বিনয়কাঠি, আটঘর নৌকা বাজার, ভীমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজার, পেয়ারা বাগান,কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি, মিঞা বাড়ির মসজিদ।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র

হাসপাতাল ২ টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪ টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ২২ টি।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

মাওলানা আহম্মদ হোসাইন রহঃ ছারছীনা দরবার শরীফের খলিফা পীর সাহেব ফয়রা দরবার শরীফ , প্রতিষ্ঠাতা ফয়রা নেছারীয়া ফাজিল মাদ্রাসা।

আযীযুর রহমান কায়েদ - উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদী, ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সমাজসংস্কারক, ধর্ম প্রচারক ও সংস্কারক।

শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক - অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম - সাহিত্যিক

ইসমাত জাহান - সাবেক রাষ্ট্রদূত

আমির হোসেন আমু - সাবেক খাদ্য ও শিল্প মন্ত্রী

শাহজাহান ওমর - রাজনীতিবিদ

ওসমান হাদি - রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী

আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী - ইসলামী শিক্ষাবিদ,সংগঠক,পীর ও ধর্ম সংস্কারক

বরিশাল বিভাগের অন্য জেলা