নীলফামারী জেলার ৬টি উপজেলা
নীলফামারী জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলা (দ্বিতীয় স্তরের প্রশাসনিক ইউনিট)। এটি রংপুর বিভাগের (বাংলাদেশের আটটি বিভাগের একটি যা ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারিতে সপ্তম বিভাগ হিসাবে গঠিত হয়) আটটি জেলার একটি অন্যতম সীমান্তঘেষা জেলা। এ জেলার সদর বা রাজধানীর নামও নীলফামারী। নীলফামারী জেলার উত্তর সীমান্তে ভারতের জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা এবং অন্য দিকে লালমনিরহাট জেলা, রংপুর জেলা, দিনাজপুর জেলা ও পঞ্চগড় জেলা অবস্থিত।
নীলফামারী জেলাকে নীলের দেশ বলা হয়। এই জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভূ-সংস্থান বেশ সমৃদ্ধ যা অন্যান্য জেলা থেকে এই জেলাকে কিছুটা হলেও আলাদা করেছে। জেলার উত্তর দিক উচু ও খরা পিরিত অঞ্চল, পূর্ব দিক তিস্তার বালুকাময় এলাকা, এই উচু ও বালুময় ভূমি ধীরে ধীরে দক্ষিণপশ্চিম দিকে উর্বর কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। নীলফামারী অতীত ইতিহাসের অনেক সাক্ষী বহন করে। এ জেলায় সত্যপীরের গান, হাঁস খেলা, মাছ খেলাসহ অনেক উৎসব ও মেলার আয়োজন হয়।
নীলফামারী একটি কৃষি প্রধান জেলা। এ জেলার ৬৮.৫% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানকার প্রধান শিল্প বয়ন, চাল, বাঁশ বেত প্রভৃতি। দারোয়ানী বস্ত্র কল এ জেলার সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। এছাড়া উত্তরা ইপিজেড ও সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর মত শিল্প পার্ক।
নামকরণ
দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা, টেঙ্গনমারী প্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়।
সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হতো এখানকার উর্বর মাটির গুণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এতদঅঞ্চলে। গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতন বাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি।ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীল খামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।
অবস্থান ও আয়তন
রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় ৪০০ কিঃমিঃ দুরে ১৫৮০.৮৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট নীলফামারী জেলার অবস্থান, যা কর্কটক্রান্তি রেখার সামান্য উত্তরে, ২৫°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°১৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৯°১২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ জেলার এবং উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে রংপুর জেলা, পূর্বে রংপুর জেলা ও লালমনিরহাট জেলা, পশ্চিমে দিনাজপুর জেলা ও পঞ্চগড় জেলা।
স্থানীয় সরকার
১৮৭৫ সালে মহকুমা ও পরে ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। প্রথম নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন এডভোকেট মমতাজুল হক। জুলাই গণ-অভ্যূত্থানের পর নতুন অন্তরবর্তী সরকার গঠিত হলে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়।
এই জেলায় মোট ৪ টি পৌরসভা
মোট ৬ টি উপজেলা নিয়ে নীলফামারী জেলা।
নীলফামারী জেলায় মোট ৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সৈয়দপুর
সৈয়দপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
নীলফামারী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, সদর
কচুকাটা মাঝাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসা।
ডিমলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, সদর
সাতপাই স্কুল ও কলেজ, সৈয়দপুর
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, সৈয়দপুর
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত)
সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডিমলা
লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজ, সৈয়দপুর
লায়ন্স স্কুল ও কলেজ, সৈয়দপুর
চড়াইখোলা স্কুল ও কলেজ, সদর
হাছ্না আইডিয়াল পাবলিক স্কুল ও কলেজ, বাবরীঝাড়, সদর
গোড় গ্রাম স্কুল ও কলেজ, সদর
হরিশ্চন্দ্রপাঠ স্কুল ও কলেজ, জলঢাকা
ছমির উদ্দিন স্কুল ও কলেজ, সদর
নগর দারোয়ানী স্কুল ও কলেজ , সদর
শৌলমারী গার্লস স্কুল ও কলেজ, জলঢাকা
কৈমারী স্কুল ও কলেজ, জলঢাকা
নীলফামারী সরকারি কলেজ, সদর
কচুকাটা মাঝাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসা।
নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ, সদর
মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ, সদর
ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজ, ডিমলা
সুন্দরখাতা শফিকুল গনি স্বপন ফাজিল মাদ্রাসা, বালাপাড়া, ডিমলা
সুন্দরখাতা স্কুল ও কলেজ, বালাপাড়া, ডিমলা
সোনাখুলী মুন্সীপাড়া কামিল এম এ মাদ্রাসা, সৈয়দপুর
সৈয়দপুর সরকারি কলেজ, সৈয়দপুর
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সৈয়দপুর
কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজ, সৈয়দপুর
সৈয়দপুর মহিলা কলেজ, সৈয়দপুর
ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজ, ডিমলা
ছোটখাতা বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসা, ডিমলা
জলঢাকা সরকারি কলেজ, জলঢাকা
শিমুলবাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজ, জলঢাকা
টেংগনমারী ডিগ্রী কলেজ, জলঢাকা
বালাগ্রাম কৃষি কলেজ, জলঢাকা
খুটামারা আলিম মাদ্রাসা, জলঢাকা
কিশোরীগঞ্জ সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ
চিলাহাটি সরকারি কলেজ, ডোমার
ঝুনাগাছ চাপানী সরকারি মহিলা কলেজ, ডিমলা
সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল, সৈয়দপুর
নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সদর
নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সদর
কচুকাটা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়।
কচুকাটা নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়।
কচুকাটা স্বপ্নছোঁয়া প্রিক্যাডেট হাইস্কুল।
বামুনিয়া এস সি উচ্চ বিদ্যালয়, ডোমার।
কুন্দপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়
ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়, ডোমার
বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ডিমলা
বালাপাড়া নিউ মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডিমলা
সম্মিলিত বন্দর খড়িবাড়ী ও ছাতনাই বালাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, বালপাড়া, ডিমলা
ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
শিমুলবাড়ী এস. সি উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
চিড়াভিজা গোলনা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
গড়ধর্মপাল এসসি উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
খাটুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারী
আলোকিত কিন্ডারগার্টেন এন্ড স্কুল, খাটুরিয়া, ডোমার
সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয়, সদর
ডিমলা রাণী বৃন্দারাণী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,ডিমলা
ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডিমলা
খগাখড়িবাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ডিমলা
কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ডিমলা
বড়ভিটা মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কিশোরগঞ্জ
কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ
বাবরীঝাড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারী সদর
যাদুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারী সদর
যাদুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বালাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
জলঢাকা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
নিতাই উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ
মুশুরুত পানিয়াল পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ
বোতলাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুর
শ্বাষকান্দর আলিম মাদ্রাসা,সৈয়দপুর
খিলালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ
মীরগঞ্জ হাট বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা
শৌলমারী আনছারহাট দাখিল মাদরাসা,জলঢাকা
কুকড়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, সদর, নীলফামারী
দক্ষিণ বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ডিমলা
ডিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
দক্ষিণ বালাপাড়া ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিমলা
বাবুরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিমলা
অর্থনীতি
নীলফামারী মূলত একটি কৃষি নির্ভর জেলা। জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টা, ও মরিচ। জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদীর অববাহিকায় প্রচুর ভুট্টার চাষ হয়। ডোমার, ডিমলায় মরিচের চাষ হয়। এছাড়া আলু, ধান, গম, সরিষা, পাট, তামাক প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।
চিত্তাকর্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান
আদি নাম বিন্যাদিঘী বা বিরাট রাজার দিঘি - যা বর্তমান নীলসাগর নামে পরিচিত
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা,
জলঢাকা মুন্নু পার্ক(সাইটের পাড়) ও
শেখ পাড়া জামে মসজিদ, দক্ষিণ কিশামত গোড়গ্রাম, ৩নং খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন, সদর, নীলফামারী।
সিঙ্গেরগাড়ী জহুরিয়া দরবার শরীফ- মাগুড়া ইউনিয়ন, কিশোরগঞ্জ থানা।
