· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
বিভাগ

রংপুর

Rangpur

রংপুর বিভাগ বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের একটি। এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সপ্তম বিভাগ হিসেবে ঘোষিত হয়। রংপুর বিভাগের পূর্বে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্য এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলা, পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং দক্ষিণে রাজশাহী বিভাগ অবস্থিত।

ইতিহাস

বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক পুনঃবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি রংপুরকে দেশের সপ্তম বিভাগ হিসেবে অনুমোদন দেয়। এর আগে ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই মন্ত্রীসভার বৈঠকে রংপুরকে বিভাগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে একটি কমিটি তৈরি করা হয় এবং কমিটি ২১ জুলাই তারিখে প্রতিবেদন জমা দেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ জানুয়ারি ২০২২ এ এক ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। বিভাগীয় অফিসটি মোট ১৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত।

প্রাচীন শাসনঞ্চল

পৌরাণিক পুরাণবিদ্যা ও প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্য অনুসারে রংপুর অঞ্চল প্রাগজ্যোতিষ রাজ্য বা কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়। কথিত আছে, কামরূপাধিপতি রাজা ভগদত্ত ঘাঘট নদীর তীরে একটি 'রঙ্গমহল' নির্মাণ করেছিলেন, যা থেকে ক্রমান্বয়ে 'রঙ্গপুর' ও পরিশেষে 'রংপুর' নামের উদ্ভব ঘটে বলে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। ভৌগোলিকভাবে রংপুর প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদেরও একটি প্রান্তবর্তী অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা ছিল বাংলার প্রাচীনতম জনপদগুলোর অন্যতম এবং যার কেন্দ্র ছিল বর্তমান মহাস্থানগড়। সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে (আনুমানিক ৩৪০ খ্রিস্টাব্দ) এলাহাবাদ প্রশস্তির বিবরণ অনুযায়ী এ অঞ্চল কামরূপের একটি করদ রাজ্য হিসেবে গণ্য হতো, যা নির্দেশ করে যে চতুর্থ শতাব্দীতে এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রভাববলয়ে অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রকৃত শাসন-নিয়ন্ত্রণ কামরূপ রাজ্যের হাতেই ন্যস্ত ছিল। পরবর্তীকালে বর্মন রাজবংশ এবং তারও পরে পাল ও সেন রাজবংশ এ অঞ্চলে শাসন পরিচালনা করে বলে ঐতিহাসিক তথ্যে জানা যায়। এই সুদীর্ঘ প্রাচীন যুগে রংপুর মূলত কেন্দ্রীয় বাংলা (গৌড়, পুণ্ড্রবর্ধন) ও সংলগ্ন কামরূপ রাজ্যের মধ্যবর্তী একটি সীমান্তবর্তী অঞ্চল হিসেবে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করত, যেখানে প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র প্রায়শই পরিবর্তিত হতো।

সম্রাট আকবর এর সেনাপতি মানসিং ১৫৭৫ সালে এই রংপুর অঞ্চল কারায়ত্ত করেন। ১৬৮৬ সাল নাগাদ পুরো রংপুর অঞ্চল মোগল সাম্রাজের অধীনে চলে যায়। কুড়িগ্রামে অবস্থিত মোঘলবাসা, মোঘলহাট এখনো তার স্মৃতি বহন করে। তখন মূলত শাসনাঞ্চল ২ ভাগে ভাগ ছিল৷ এক অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ঘোড়াঘাটের সরকার এবং অন্যাংশ ছিল পিঞ্জিরার সরকার। ঘোড়াঘাট ও রংপুরের এই শাসন ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রণকর্তা ছিল রিয়াজ-আস-সালাতিন। কোম্পানি শাসনের শুরুতে রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও পীরগঞ্জসহ বেশকিছু অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ সহ অনেক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।

প্রশাসনিক বিভাজন

এই বিভাগটি ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত।