· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ

চাঁদপুর

Chandpur

চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হলো চাঁদপুর জেলা। ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার অংশ থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। এটি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের ৪১তম ও জনসংখ্যার দিক থেকে ২২তম (২০২২) বৃহৎ জেলা। প্রশাসনিকভাবে চাঁদপুর ৮টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং উপজেলার সংখ্যানুসারে চাঁদপুর বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে এ জেলা অবস্থিত। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর নদী বন্দর একটি প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর। ইলিশ মাছের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল হিসেবে এই জেলা ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর হিসেবে পরিচিত।

অবস্থান ও আয়তন

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২৩°০০´ থেকে ২৩°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩২´ থেকে ৯১°০২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ (মতান্তরে ২৩০২৯´ থেকে ২৩০৪´ উত্তর অক্ষাংশ, ৯০০৬´ থেকে ৯০০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) জুড়ে চাঁদপুর জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৯৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ২০৮ কিলোমিটার। চাঁদপুর জেলার মোট আয়তন ১,৭৪০.৬ (মতান্তরে ১৬৪৫.৩২) বর্গ কিলোমিটার।

চাঁদপুর জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা, মেঘনা নদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর জেলা ও নোয়াখালী জেলা, পূর্বে কুমিল্লা জেলা, পশ্চিমে মেঘনা নদী, মুন্সীগঞ্জ জেলা, শরীয়তপুর জেলা ও বরিশাল জেলা। পদ্মা ও মেঘনা নদী দুটি চাঁদপুর শহরের নিকটে মিলিত হয়েছে।

ইতিহাস

বৃহত্তর কুমিল্লা, ত্রিপুরা ও নোয়াখালী অঞ্চল প্রাচীন বাংলার সমতট রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। সমতট রাজ্যের অন্যতম নগরগুলোর একটি ছিল রোহিতগিরি (বর্তমান ময়নামতি) যার অবস্থান কুমিল্লা শহরে। এ অঞ্চলের অধিবাসীগণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন বলে অনুমান করা হয়। খ্রিস্টিয় ৭ম শতাব্দীতে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ সমতট রাজ্যে আগমন করেছিলেন বলে তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে পাওয়া যায়। তিনি সমতটকে সমুদ্র তীরবর্তী নিম্ন আর্দ্র-ভূমি রূপে বর্ণনা করেছেন। প্রাচীন বাংলার মৌর্য ও গুপ্ত রাজারা এই অঞ্চল শাসন করেছেন।

১৫৬০ খ্রিস্টাব্দের জীন্ ডি ব্যারোসের মানচিত্রে নদী তীরবর্তী ‘ট্রপো’র অবস্থান দেখানো হয়েছে। উক্ত ‘ট্রপো’ তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা বা কুমিল্লা অঞ্চল। সুতরাং বর্তমান চাঁদপুরের ভৌগোলিক অবস্থান নিকট ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়। ১৬৫২ সালে পর্তুগীজ নাবিক স্যানসন দ্যা আবেভিল অঙ্কিত মানচিত্রে বান্দের নাম চিহ্নিত স্থানে একটি বড় নদী বন্দর ছিলো এবং সেটি চাঁদপুর বন্দর ছিলো। ১৭৭৯ খ্রি. ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালীন বাংলার যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তাতে কেবলমাত্র ত্রিপুরা জেলাই দেখানো হয়নি; চাঁদপুর ও কুমিল্লার সঠিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর ২নং সেক্টরের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালের ১২ মে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হাজীগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ৫০ জন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ গণহত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালালে পাকবাহিনীর ১৭ জন সৈন্য নিহত এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া, সূচীপাড়া এবং উনকিলার পূর্বাংশে বেলপুরের কাছে মিত্রবাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর সংঘর্ষে মিত্র বাহিনীর ১৩ জন সৈন্য এবং পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালের ১ অক্টোবর ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয়েছিল কুমিল্লা। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি (মতান্তরে ১ ফেব্রুয়ারি) প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লার দুইটি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হলে চাঁদপুর স্বতন্ত্র জেলায় উন্নীত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের অংশ হওয়ায় বাংলাদেশের দূরবর্তী জেলার মানুষ চাঁদপুরকে এখনো বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ হিসেবে চেনে।

চাঁদপুর জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক নিযুক্ত হন জানিবুল হক। জেলা সৃষ্টির পর চাঁদপুর শহরের ষোলঘর নামক স্থানে ২৮ নভেম্বর ১৯৯৯ তারিখে নতুন কালেক্টরেট ভবন উদ্বোধন করা হয়। এর পূর্ব পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা এবং তৎপূর্বে মহকুমা প্রশাসকের কার্যক্রম চাঁদপুরের বর্তমান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এর স্থানটিতে অবস্থিত ভবন হতে পরিচালিত হতো। উক্ত ভবনের পাশে এখনো চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের বাসভবন অবস্থিত।

নামকরণ

চাঁদপুর জেলার কোনো স্বতন্ত্র পূর্বনাম জানা যায় না। ঐতিহাসিকভাবে চাঁদপুর ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালের ১ অক্টোবর ত্রিপুরা জেলাকে কুমিল্লা নামকরণ করা হয়। ১৮৫৮ সালের ত্রিপুরা ১১টি থানা নিয়ে গঠিত ছিল। এর একটি ছিল জুবকীবাজার। একে পরবর্তীতে ১৮৭৮ সালে চাঁদপুর নামকরণ করা হয়। তাই কখনো কখনো জুবকীবাজার-কে চাঁদপুরের পূর্বনাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চাঁদপুর জেলার নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে ৪টি মত প্রচলিত আছে —

বারো ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুরের অংশবিশেষ ছিল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের অধিগত। তিনি এখানে একটি শাসনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐতিহাসিক জে. এম. সেনগুপ্তের মতে, জমিদার চাঁদরায়-এর নাম অনুসারে এই অঞ্চলের নাম হয় চাঁদপুর।

বর্তমান চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়ার (তৎকালীন পুরিন্দপুর মহল্লা) একজন সাধক ছিলেন চাঁদ ফকির। কথিত আছে, ১৭৮০ সাল বা তার কাছাকাছি সময়ে চাঁদ ফকির মারা গেলে তার অনুসারী ও ভক্তগণ এ অঞ্চলকে চাঁদপুর নামে অভিহিত করেন।

কথিত আছে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লি থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদীবন্দর স্থাপন করেছিলেন। পুরিন্দপুর এলাকায় তার বসবাস ছিল। তার নামানুসারে ‘চাঁদপুর’ নামটির উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে।

মনসামঙ্গল কাব্যের পৌরাণিক চরিত্র বণিক চাঁদ সদাগর এই অঞ্চলে বাণিজ্য করতে আসতেন বলে লোকশ্রুতি ছিল। সেখান থেকে এই অঞ্চলের নাম চাঁদপুর হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।

চাঁদপুর জেলার নামকরণ নিয়ে এই মতগুলোই বহুল প্রচলিত।

ভৌগোলিক পরিচয়

চাঁদপুর জেলার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন সম্পন্ন হয় প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন যুগে (প্রায় ২৬ লক্ষ বছর থেকে ১২ হাজার বছর পূর্বে)। তবে চাঁদপুর জেলার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত চরঞ্চল তুলনামূলক নবীন।

ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এফ. ই. পার্গিটার রচিত পূর্ব-ভারতীয় দেশসমূহের প্রাচীনকালের মানচিত্রে চাঁদপুর জেলার ভৌগোলিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই মানচিত্রে আজকের বাংলাদেশের এই অঞ্চলের দক্ষিণে সাগরনূপের, উত্তরে প্রাগজ্যোতিষ ও পূর্ব ভাগের পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল ‘কিরাতাস’ নামে অভিহিত ছিল। তৎকালীন লোহিত নদীর (আজকের ব্রক্ষ্মপুত্র নদ) পলি দ্বারা ‘কিরাতাস’ অঞ্চল গঠিত। ‘কিরাতাস’ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান নিয়েই তৎকালীন কুমিল্লা জেলা গঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ চাঁদপুর জেলাও উক্ত ‘কিরাতাস’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

টমাস ওয়াটারের মানচিত্রে পূর্ব-ভারতীয় অঞ্চলের এ স্থানে তিতাস ও সম্ভবতঃ গোমতী নদীর গতিপথের দক্ষিণে ‘শ্রীক্ষেত্র’ নামক স্থানের অবস্থান দেখানো হয়েছে। বর্তমান চাঁদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার পশ্চিমাংশ নিয়ে তৎকালীন ‘শ্রীক্ষেত্র’ গঠিত হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

চাঁদপুর জেলা ৮টি উপজেলা, ৮টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন, ১০৪১টি মৌজা, ১৩৬৫টি গ্রাম ও ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

চাঁদপুর জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ২৬,৩৫,৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২,২৮,৭৭৪ জন এবং মহিলা ১৪,০৫,৬৮২ জন। মোট পরিবার ৬,৩৫,৪৫৮টি। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৬০২ জন। চাঁদপুর জেলার ভোটার সংখ্যা মোট ১৪,১১,৬০৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৭,৩৬,৯৩৭ ও নারী ৬,৭৪,৬৬৯ জন।

চাঁদপুর জেলায় ত্রিপুরা, চাকমা ও বেদে সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এদের মধ্যে ত্রিপুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৪.৩৭% মুসলিম, ৫.৫৫% হিন্দু, ০.০১% বৌদ্ধ এবং ০.০২% খ্রিষ্টান ও ০.০৫% অন্যান্য ধর্মের অনুসারী।

শিক্ষা ব্যবস্থা

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার সাক্ষরতার হার ৬৮.০৫%। এ জেলায় রয়েছে:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় : ১টি সরকারি

মেডিকেল কলেজ : ১টি সরকারি

বেসরকারি অর্নাস কলেজ : ৪টি

বেসরকারি ডিগ্রি কলেজ : ২১টি

সরকারি স্কুুল এন্ড কলেজ : ১টি

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ১০টি

সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট : ১টি

মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট : ১টি

মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট : ১টি

সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ : ৩টি

মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ২৩৯টি

প্রাথমিক বিদ্যালয় : ১১২০টি

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : ১টি

হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ : ১টি

ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ : ১টি।

অর্থনীতি

চাঁদপুর জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। নদী তীরবর্তী এলাকা বলে প্রায় ৩০% মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত। এছাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক ব্যবসায়ী বিদ্যমান। জেলা সদরে অনেক মাছের আড়ত রয়েছে, যা জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাটে বড় বড় বহু শিল্পকারখানা রয়েছে। এই জায়গাটিকে সরকার বিসিক শিল্প নগরী ঘোষণা করে। এই এলাকাটি চাঁদপুর সহ অন্যান্য জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প নগরী। মেঘনার ভাঙ্গনে প্রতি বছর চাঁদপুর জেলার আয়তন কমে যায়। প্রতি বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়, ফলে বর্ষাকালে চাঁদপুর মাছের মাতৃভূমি হয়ে যায়। জেলার প্রধান শস্য ধান, পাট, গম, আখ। রপ্তানী পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, নারিকেল, চিংড়ি, আলু, ইলিশ মাছ, সবুজ শাক-সবজি, বিসিক নগরীর তৈরি পোশাক শিল্প।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

চাঁদপুর জেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল ঢাকা-চাঁদপুর মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর মহাসড়ক। শুধুমাত্র চাঁদপুর জেলার জন্য আলাদা একটি রেলপথ রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন চাঁদপুর-চট্টগ্রাম এবং চাঁদপুর-কুমিল্লার আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। চাঁদপুর জেলার রেলপথের দৈর্ঘ্য ৪১ কিলোমিটার। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন জেলা শহর থেকে নৌপথে যোগাযোগের জন্যে রয়েছে চাঁদপুর নদী বন্দর।

চাঁদপুর জেলার মোট পাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য ২৮৫ কিলোমিটার, মোট কাঁচা রাস্তা ২৩৬০ কিলোমিটার। চাঁদপুর জেলার আওতাধীন নৌপথের দৈর্ঘ্য ২০৩ কিলোমিটার।

নদী

চাঁদপুর মূলত মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর অবস্থান পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনবিন্দুতে, যা তিন নদীর মোহনা নামে পরিচিত। এ জেলার মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী বা নিকটবর্তী নদীগুলো হলো মেঘনা, পদ্মা, ডাকাতিয়া, গোমতী ও ধনাগোদা।

চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনার প্রবল জলরাশি থেকে চাঁদপুর জেলার স্থলভূমি রক্ষার্থে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বোল্ডার দ্বারা একটি মোলহেড (molehead; পাথর বা কংক্রিটের বাঁধবিশেষ) নির্মাণ করেছে। তাই তিন নদীর মোহনা স্থানীয়ভাবে মোলহেড নামে পরিচিত। এই স্থান থেকে পশ্চিম দিগন্তে স্পষ্টভাবে সূর্যাস্ত দেখা যায়, যা এই জেলার অন্যতম নৈসর্গিক বিনোদন স্থান।