ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান রূপে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়ে থাকে। স্থানীয়রা আঞ্চলিক ভাষায় জেলাটিকে প্রায়ই বাউনবাইরা বলে থাকে।
আয়তন ও অবস্থান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আয়তন ১,৮৮১.২০ বর্গ কিলোমিটার (৪,৬৪,৮৫৪ একর)। চট্টগ্রাম বিভাগের সর্ব-উত্তরে ২৩°৩৯´ থেকে ২৪°১৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৪৪´ থেকে ৯১°৫১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে এ জেলার অবস্থান। এ জেলার উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলা ও হবিগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে কুমিল্লা জেলা, পূর্বে হবিগঞ্জ জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী, কিশোরগঞ্জ জেলা, নরসিংদী জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা।
ইতিহাস
প্রাচীন আমলে বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভূখণ্ড প্রাচীন বাংলার হরিকেল বা হরকুল জনপদের একটি অংশ ছিল। মধ্যযুগে স্বাধীন বাঙালার সুলতানী আমলে এ অঞ্চল থেকেই পাইক সৈনিক সংগ্রহ করা হতো, এতে এ অঞ্চলটি মার্শাল জনগোষ্ঠীর অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এ পাইক সেনারাই ছিলো সুলতানী বাহিনীর প্রাণ। যুদ্ধক্ষেত্রে পাইক বাহিনীর বীরত্ব ও নৃশংসতা ছিলো বহির্বাঙালায় আতঙ্কের নাম। সুলতানদের সকল বিজয়ের পিছনে ছিলো এ পাইক বাহিনীর অবদান।
বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর শাসনামলের পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্রিপুরার অংশ ছিল। ১৫১৩ সালে হোসেন শাহ যুদ্ধে ত্রিপুরার রাজা ধন্য মানিক্যকে পরাজিত করেন এবং ত্রিপুরার অন্তত কিছু অংশ, যার মধ্যে বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল, অধিকার করতে সক্ষম হন। তিনি ত্রিপুরী অঞ্চলে কালিয়াগড় দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা শহরে পরিণত হয়।
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁর জন্ম হয় বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল অঞ্চলে। পরবর্তীতে তিনি সরাইল পরগনার জমিদারি লাভ করলে এই অঞ্চলে তার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। মুঘল আমলে সরাইল ছিল সুবাহ বাংলার সিলেট সরকারের একটি মহল।
১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার দেওয়ানী লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ত্রিপুরাকে পার্বত্য ত্রিপুরা ও চাকলা রৌশনাবদে বিভক্ত করে। ১৭৮১ সালে বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত অঞ্চল ব্যতীত বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে একটি জেলা ইংরেজরা গঠন করে এবং এর নাম দেয় টিপেরা জেলা (Tippera) বা ত্রিপুরা জেলা। ত্রিপুরা জেলার দুটি পরিচয় ছিল। সাধারণভাবে ত্রিপুরা জেলা বলতে সমগ্র জেলাকে আর টিপারা প্রপার বলতে চাকলা রৌশনাবাদকে বোঝাত। তবে ইংরেজরা এ জেলাকে রোশনাবাদ ত্রিপুরা বলত। ১৭৮৯ সালে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে এটিকে ত্রিপুরা জেলা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৭৯০ সালে প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ ত্রিপুরা জেলা হিসাবে ঘোষিত হয়। সেসময় বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত এলাকা ময়মনসিংহ জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল। ১৮২১ সালে ছাগলনাইয়া (ফেনী জেলার অন্তর্গত) থানা ছাড়া বৃহত্তর নোয়াখালীর বাকী অংশ ত্রিপুরা জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং ১৮৩০ সালে ময়মনসিংহ থেকে সরাইল, দাউদপুর, হরিপুর, বেজুরা ও সতেরখন্দল পরগনাকে ত্রিপুরায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এ পরগনা সমূহের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল নিয়েই মূলত বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। ১৮৬০ সালের ব্রিটিশ আইনে ত্রিপুরার প্রথম সাব-ডিভিশন নাসিরনগর মহকুমা সৃষ্টি হয়। ১৮৭৫ সালে মহকুমা সদর নাসিরনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে স্থানান্তরিত হয়। নিম্নোক্ত ছয়টি থানার সমন্বয়ে নবগঠিত মহকুমার নামকরণ করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
১৮৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৬ সালে ছাগলনাইয়া থানাও ত্রিপুরা জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। তারপর থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এই জেলাটি ত্রিপুরা জেলা নামেই পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬০ সালে এক প্রশাসনিক আদেশে ত্রিপুরা জেলাকে কুমিল্লা জেলা নামে অভিহিত করা হয়।
১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন কুমিল্লা জেলার তিনটি মহকুমা কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরকে পৃথক জেলার মর্যাদা দেওয়া হলে সেবছরের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামটি আজ নিজস্ব জেলা হিসেবে তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তিতাস নদীর নৈকট্যের জন্য পরিচিত। তবে এর বর্তমান স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক ইউনিটের মর্যাদা কোনো সরকারি বিধান দ্বারা কেবল নিশ্চিত হয়নি—বরং একটি উজ্জীবিত গণআন্দোলনের মাধ্যমে, যা প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে শহীদত্বের মধ্য দিয়ে করুণ পরিণতির দিকে গিয়েছিল।
১৯৮০–এর দশকের শুরুর আগে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা। প্রশাসনিকভাবে এই ব্যবস্থাটি প্রায়ই স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের অভাব এবং ধীর উন্নয়নের কারণ ছিল, কারণ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং উচ্চ-পর্যায়ের দায়িত্বগুলো কুমিল্লায় কেন্দ্রীভূত ছিল। ১৯৮০–এর দশকের শুরুতে, এইচ. এম. এরশাদের সরকার বড় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করলে, মহকুমাগুলোকে পূর্ণ জেলা হিসেবে উন্নীত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তখন পিতৃজেলা কুমিল্লার স্থানীয় নেতা ও প্রশাসকেরা সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা হারানোর ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়, যা তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত জেলা স্বীকৃতির দাবিতে রূপ নেয়। আন্দোলন দ্রুত ছাত্র, স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে। সংকট তীব্র হতে থাকে এবং নভেম্বর ১৯৮৩–তে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছে।
১৯৮৩ সালের শেষ দিকে মহকুমা হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে তৎকালীন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরামর্শক্রমে পর্যায় ক্রমিক বিভিন্ন ধরণের টানা কর্মসূচীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেন। তাদের সাথে একাত্ম হয় সকল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এতে বিচলিত হয়ে সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মহকুমা হতে থানায় অবনমিত করায় সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর।
নভেম্বর মাসে দিনের পর দিন জুড়ে দিবারাত একটানা হরতালে অচল হয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব অফিস। ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সংবাদপত্রে গুরুত্ব সহকারে ছাপা হতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা আন্দোলনের কর্মসূচী। দিন রাত সড়ক জুড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র জনতার ভীর। ২৭ নভেম্বর দিন হরতাল চলাকালে সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ষ্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ছাত্র জনতার অবস্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং রেলওয়ে ষ্টেশন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এদিন সকালে রেলওয়ে ষ্টেশনে জনতার সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে রেলব্রীজে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে শাহাদাৎ বরণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ওবায়দুর রউফ পলু। ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্র জনতা রেলওয়ে ষ্টেশন, সিও অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। ছাত্র জনতা কেড়ে নেয় ওবায়দুর রউফ পলু’র লাশ। দুপুরে শোকাবহ পরিবেশে নিয়াজ মোহাম্মদ হাই স্কুল মাঠে লক্ষ মুসল্লীর অংশগ্রহণে জানাজার পর শহরতলীর শেরপুর কবরস্থানে পলুর দাফন সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে শহরে সশস্ত্র অবস্থান নেয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগত সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান। রাতে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় রেইড দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে ঐতিহাসিক জেলা আন্দোলনের অনেক নেতাকে। ২৮ নভেম্বর সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ চালু হয়। এর ভিত্তিতে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গুরুত্ববহ ভাষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৪৫টি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। যা এখনো বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে নথিভূক্ত রয়েছে।
স্থানীয় ঐতিহাসিক বিবরণে বিশেষভাবে উল্লেখিত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন—
• শহীদ ওবাইদুর রউফ পুলু (শহীদ পলু): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র, আন্দোলনের প্রধান শহীদ ও নেতা হিসেবে পরিচিত।
শহীদদের উত্তরাধিকার আজও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাগরিক স্মৃতিতে গভীরভাবে অঙ্কিত—
• শহীদ পলু সড়ক: জেলা আদালতের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কোর্ট রোড নামে পরিচিত। এটি শহীদ পলু সড়ক নামে নামকরণ করা হয়।
• বার্ষিক স্মরণাঞ্জলি: প্রতি বছর ২৭ নভেম্বর স্থানীয়ভাবে জেলা আন্দোলন দিবস এবং শহীদ পলু দিবস হিসেবে পালিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণ নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। এস এম শাহনূর প্রণীত "নামকরণের ইতিকথা" থেকে জানা যায়,
সেন বংশের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে অভিজাত ব্রাহ্মণকুলের বড়ই অভাব ছিল। যার ফলে এ অঞ্চলে পূজা অর্চনার জন্য বিঘ্নতার সৃষ্টি হত। এ সমস্যা নিরসনের জন্য সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেন আদিসুর কন্যকুঞ্জ থেকে কয়েকটি ব্রাহ্মণ পরিবারকে এ অঞ্চলে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে কিছু ব্রাহ্মণ পরিবার শহরের মৌলভী পাড়ায় বাড়ি তৈরি করে। সেই ব্রাহ্মণদের বাড়ির অবস্থানের কারণে এ জেলার নামকরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
অন্য একটি মতানুসারে দিল্লি থেকে আগত ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ সুফী হযরত কাজী মাহমুদ শাহ এ শহর থেকে উল্লেখিত ব্রাহ্মণ পরিবার সমূহকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন, যা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক উচ্চারণ 'বাউনবাইরা'।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংক্ষিপ্ত নাম 'বি-বাড়িয়া' বহুল প্রচলিত। ২০১১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন হতে সকল ক্ষেত্রে বি-বাড়িয়ার পরিবর্তে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ লেখার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৯টি উপজেলা, ৯টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ১০০টি ইউনিয়ন, ৯৫৯টি মৌজা, ১২৯৯টি গ্রাম ও ৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৯টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:
যোগাযোগ ব্যবস্থা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দুটি মহাসড়কের সাথে যুক্ত। একটি হলো এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, অপরটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক। সরাইল উপজেলার বিশ্বরোডে দুটি হাইওয়ে রোড মিলিত হয়েছে। তাছাড়া ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য আখাউড়া হয়ে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালু হয়েছে এবং আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন সড়কের কাজও চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর উপর নির্মিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু আশুগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের মাঝে সংযোগ স্থাপন করেছে। ২০০২ সালে নির্মিত এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ১২০০ মিটার। এর পূর্ব নাম বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু। এর পাশেই রয়েছে ১৯৩৭ সালে নির্মিত রাজা ৬ষ্ঠ জর্জ রেলসেতু। এর বর্তমান নাম শহীদ হাবিলদার আব্দুল হালিম সেতু।

