- রোববার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
- ঘটনাটি ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে ঘটে বলে অভিযোগ; পরে ২১ অক্টোবর শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।
- পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
- গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
- রোববার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
- ঘটনাটি ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে ঘটে বলে অভিযোগ; পরে ২১ অক্টোবর শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।
- পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুনসাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ জনতা ও বেঙ্গল ব্যাংকের ওয়েবসাইটগাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। অভিযুক্ত মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন এবং শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয় এবং একই দিন শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতে জামিন শুনানির সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে হাজির করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে তাঁর রিমান্ড চেয়েও আবেদন করা হয়নি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগের তদন্তে গত শনিবার মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে এবং তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তবে শিশুটির বাবা সংবাদ সম্মেলনে ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শুধু মেয়ের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। শিক্ষককে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার তদন্ত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুটিই তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শুধু জামিন শুনানির জন্য আসামিকে আদালতে হাজির করার বাধ্যবাধকতা নেই; প্রয়োজন মনে করলে আদালত তাকে হাজির করতে বলবে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ঢাকা পোস্ট, বাংলা ট্রিবিউন, চ্যানেল ২৪, ইত্তেফাক, জাগো নিউজ






