· শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ · ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
লাইভ
ব্রেকিং
১২:২১বেন্ড স্কুলে ১৬ বছরের কিশোরের গুলি, তিন শিশুসহ নিহত ৫৮:০০এআই: যন্ত্র যেভাবে ভাবতে শিখল, আর সামনে কী অপেক্ষা করছে৫:৩৯নাসিমা খানের মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, জানাজায় বড় তারকারা নেই১২:২৪ফ্রান্স বিক্ষোভ: প্যারিসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জন গ্রেপ্তার১২:২৩বরিশালে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে অপু মাঝি নিহত, বাস আটক১২:২২মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার১২:২১বেন্ড স্কুলে ১৬ বছরের কিশোরের গুলি, তিন শিশুসহ নিহত ৫৭:৩৯খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৬,৬৫৩ শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ১১:৫৭ডেঙ্গুতে ১০, হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৩৩৫১১:৫৬ফটিকছড়ি চা-বাগানে ছিনতাই: সহকারী ব্যবস্থাপককে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, আটক ২১১:৫৬রাজশাহী ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া লাগেজ উদ্ধার, নগদ টাকা উদ্ধার হয়নি১২:২১বেন্ড স্কুলে ১৬ বছরের কিশোরের গুলি, তিন শিশুসহ নিহত ৫৮:০০এআই: যন্ত্র যেভাবে ভাবতে শিখল, আর সামনে কী অপেক্ষা করছে৫:৩৯নাসিমা খানের মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, জানাজায় বড় তারকারা নেই১২:২৪ফ্রান্স বিক্ষোভ: প্যারিসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জন গ্রেপ্তার১২:২৩বরিশালে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে অপু মাঝি নিহত, বাস আটক১২:২২মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার১২:২১বেন্ড স্কুলে ১৬ বছরের কিশোরের গুলি, তিন শিশুসহ নিহত ৫৭:৩৯খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৬,৬৫৩ শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ১১:৫৭ডেঙ্গুতে ১০, হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৩৩৫১১:৫৬ফটিকছড়ি চা-বাগানে ছিনতাই: সহকারী ব্যবস্থাপককে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, আটক ২১১:৫৬রাজশাহী ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া লাগেজ উদ্ধার, নগদ টাকা উদ্ধার হয়নি

ডকুমেন্টারি

এআই: যন্ত্র যেভাবে ভাবতে শিখল, আর সামনে কী অপেক্ষা করছে

দুই হাজার বাইশ সালের তিরিশে নভেম্বর। কোনো বড় অনুষ্ঠান নেই, কোনো টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নেই। একটি ছোট প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটে একটি চ্যাট পেজ খুলে দিল। নাম চ্যাটজিপিটি। পাঁচ দিনে দশ লাখ ব্যবহারকারী। আর সুইস ব্যাংক ইউবিএসের হিসাবে, মাত্র দুই মাসে মাসিক ব্যবহারকারী দশ কোটি, তখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত

ক
কালারস অব বাংলাদেশ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০০ পিএম · পড়তে ৮ মিনিট · 👁 ৭ বার পঠিত · 🔥 ট্রেন্ডিং
এআই: যন্ত্র যেভাবে ভাবতে শিখল, আর সামনে কী অপেক্ষা করছে
ডকুমেন্টারি: এআই: যন্ত্র যেভাবে ভাবতে শিখল, আর সামনে কী অপেক্ষা করছে · কালারস অব বাংলাদেশ
এক নজরে
  • একটি ছোট প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটে একটি চ্যাট পেজ খুলে দিল।
  • আর সুইস ব্যাংক ইউবিএসের হিসাবে, মাত্র দুই মাসে মাসিক ব্যবহারকারী দশ কোটি, তখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা অ্যাপ।
  • হঠাৎ করে পৃথিবীর মানুষ দেখল, একটি যন্ত্র কবিতা লিখছে, কোড লিখছে, পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, বাংলায় কথা বলছে।

দুই হাজার বাইশ সালের তিরিশে নভেম্বর। কোনো বড় অনুষ্ঠান নেই, কোনো টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নেই। একটি ছোট প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটে একটি চ্যাট পেজ খুলে দিল। নাম চ্যাটজিপিটি। পাঁচ দিনে দশ লাখ ব্যবহারকারী। আর সুইস ব্যাংক ইউবিএসের হিসাবে, মাত্র দুই মাসে মাসিক ব্যবহারকারী দশ কোটি, তখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা অ্যাপ। হঠাৎ করে পৃথিবীর মানুষ দেখল, একটি যন্ত্র কবিতা লিখছে, কোড লিখছে, পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, বাংলায় কথা বলছে। মনে হলো, এআই যেন রাতারাতি জন্ম নিল। কিন্তু সত্যিটা হলো, এই রাতারাতি সাফল্যের পেছনে আছে সত্তর বছরের গল্প। স্বপ্ন, ব্যর্থতা, দুটি দীর্ঘ শীতকাল, আর কয়েকজন জেদি মানুষের লড়াই। আমি কালারস অব বাংলাদেশ থেকে বলছি। আজ আমরা দেখব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কীভাবে এলো, আজ কোথায় দাঁড়িয়ে, আর আগামী দিনে আমাদের চাকরি, পড়াশোনা, স্বাস্থ্য আর বাংলাদেশের জন্য এটি কী নিয়ে আসছে। চলুন শুরু করি একটি প্রশ্ন দিয়ে, যন্ত্র কি ভাবতে পারে?

আরও পড়ুনবৈশ্বিক পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের এআই হেলথ প্ল্যাটফর্ম ‘আমারডাক্তার’

প্রথম অধ্যায়: একটি প্রশ্ন। উনিশশো পঞ্চাশ সাল। ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির গোপন সংকেত ভাঙার কাজে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, একটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধের প্রথম লাইনেই প্রশ্ন, যন্ত্র কি ভাবতে পারে? তিনি একটি পরীক্ষার প্রস্তাব দেন, যা পরে পরিচিত হয় টুরিং টেস্ট নামে। পরীক্ষাটা সহজ। একজন মানুষ লিখিতভাবে কথা বলবেন দুজনের সাথে, একজন মানুষ আর একটি যন্ত্র। তিনি যদি নিশ্চিতভাবে বলতে না পারেন কোনটি যন্ত্র, তাহলে বলা যায় যন্ত্রটি বুদ্ধিমান আচরণ করছে। সত্তর বছরেরও বেশি আগে টুরিং যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আজকের চ্যাটবটগুলো সেই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। উনিশশো ছাপ্পান্ন সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে একদল বিজ্ঞানী জড়ো হন একটি গবেষণা কর্মশালায়। আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন জন ম্যাকার্থি, মারভিন মিনস্কি, ক্লড শ্যানন। এই কর্মশালার প্রস্তাবনাতেই প্রথম ব্যবহার হয় একটি শব্দ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জন্ম নিল একটি নতুন বিজ্ঞান।

শুরুর উৎসাহ ছিল আকাশছোঁয়া। উনিশশো আটান্ন সালে ফ্র্যাঙ্ক রোজেনব্ল্যাট তৈরি করেন পারসেপ্ট্রন, মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের অনুকরণে একটি যন্ত্র, যা নিজে নিজে ছবি চিনতে শিখতে পারত। উনিশশো ছেষট্টি সালে তৈরি হয় এলিজা, প্রথম দিকের একটি চ্যাটবট, যার সাথে কথা বলে অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যন্ত্রটি তাদের বোঝে। বিজ্ঞানীরা বলছিলেন, বিশ বছরের মধ্যে যন্ত্র মানুষের সব কাজ করতে পারবে। দ্বিতীয় অধ্যায়: এআই শীতকাল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক ছিল বিশাল। তখনকার কম্পিউটার ছিল খুব ধীর, ডেটা ছিল খুব কম। উনিশশো তিয়াত্তর সালে ব্রিটেনে প্রকাশিত লাইটহিল রিপোর্ট এআই গবেষণার সাফল্য নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে। সরকারি অর্থায়ন কমে যায়। এই সময়টাকে বলা হয় প্রথম এআই শীতকাল।

আশির দশকে আবার আসে উৎসাহ, এক্সপার্ট সিস্টেম নিয়ে। মানুষ বিশেষজ্ঞের জ্ঞান নিয়মের আকারে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। কিছু কোম্পানি এতে লাভও করে। কিন্তু এই সিস্টেমগুলো ছিল ব্যয়বহুল আর অনমনীয়, নতুন পরিস্থিতিতে অচল। আশির দশকের শেষে বাজার ধসে পড়ে। শুরু হয় দ্বিতীয় এআই শীতকাল। অনেকে তখন এআই শব্দটাই ব্যবহার করতে ভয় পেতেন। কিন্তু শীতকালেও কিছু মানুষ হাল ছাড়েননি। তাদের একজন জেফ্রি হিন্টন। সবাই যখন নিউরাল নেটওয়ার্ক বা মস্তিষ্কের অনুকরণে তৈরি কম্পিউটার মডেলকে ব্যর্থ ধারণা বলছিল, হিন্টন আর তার সহকর্মীরা আশির দশকেই এমন নেটওয়ার্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি দেখান। পরের তিন দশক তিনি এই পথেই লেগে থাকেন। তৃতীয় অধ্যায়: যন্ত্র বনাম মানুষ। উনিশশো সাতানব্বই সাল। নিউইয়র্কে বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভ মুখোমুখি আইবিএমের কম্পিউটার ডিপ ব্লুর। ছয় গেমের ম্যাচে ডিপ ব্লু জিতে যায়। প্রথমবারের মতো একটি কম্পিউটার নিয়ম মেনে খেলা ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারায়। পৃথিবীজুড়ে শিরোনাম হয়।

তবে ডিপ ব্লু আসলে ভাবত না। সে প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি চাল হিসাব করত, শক্তি দিয়ে। দুই হাজার এগারো সালে আইবিএমের ওয়াটসন আমেরিকার জনপ্রিয় কুইজ শো জেপার্ডিতে সেরা মানব প্রতিযোগীদের হারায়, মানুষের ভাষায় করা প্রশ্ন বুঝে। এআই ধীরে ধীরে ভাষার জগতে ঢুকছিল। আসল বিপ্লব আসে দুই হাজার বারো সালে। ইমেজনেট নামে একটি প্রতিযোগিতায় কম্পিউটারকে লাখো ছবি চিনতে হয়। হিন্টনের দুই ছাত্র, অ্যালেক্স ক্রিজেভস্কি আর ইলিয়া সুতস্কেভার, তৈরি করেন অ্যালেক্সনেট, একটি গভীর নিউরাল নেটওয়ার্ক, যা চালানো হয় ভিডিও গেমের গ্রাফিক্স কার্ড বা জিপিইউ দিয়ে। ভুলের হার আগের সেরা পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম। জন্ম নিল ডিপ লার্নিংয়ের যুগ। তিনটি জিনিস একসাথে মিলে গিয়েছিল। ইন্টারনেট থেকে বিপুল ডেটা, জিপিইউর মতো শক্তিশালী হার্ডওয়্যার, আর হিন্টনদের মতো মানুষের দশকের পর দশকের গবেষণা। ডেটা, কম্পিউটিং আর অ্যালগরিদম, এই তিনের মিলনেই এআই শীতকাল শেষ হলো।

দুই হাজার ষোল সাল, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল। গুগলের প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের তৈরি আলফাগো খেলছে গো নামের প্রাচীন খেলা, যার সম্ভাব্য চালের সংখ্যা মহাবিশ্বের পরমাণুর চেয়েও বেশি। প্রতিপক্ষ বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লি সে-দল। আলফাগো জেতে চার এক ব্যবধানে। দ্বিতীয় গেমের সাঁইত্রিশ নম্বর চালটি এত অপ্রত্যাশিত ছিল যে বিশেষজ্ঞরা প্রথমে ভেবেছিলেন যন্ত্রটি ভুল করেছে। চতুর্থ অধ্যায়: যন্ত্র যেভাবে কথা বলতে শিখল। দুই হাজার সতেরো সালে গুগলের একদল গবেষক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম অ্যাটেনশন ইজ অল ইউ নিড। এতে বর্ণনা করা হয় ট্রান্সফরমার নামে নতুন একটি নকশা, যা একটি বাক্যের সব শব্দের সম্পর্ক একসাথে বিবেচনা করতে পারে। আজকের প্রায় সব বড় ভাষা মডেলের ভিত্তি এই নকশা।

এরপর শুরু হয় আকারের প্রতিযোগিতা। মডেলকে বিপুল পরিমাণ লেখা পড়িয়ে শেখানো হয় পরের শব্দ অনুমান করতে। দুই হাজার বিশ সালে আসে জিপিটি থ্রি, এক হাজার সাতশো পঞ্চাশ কোটি প্যারামিটারের একটি মডেল। গবেষকরা অবাক হয়ে দেখলেন, মডেল যত বড় হচ্ছে, তত নতুন নতুন ক্ষমতা দেখা যাচ্ছে, অনুবাদ, যুক্তি, কোড লেখা। তারপর আসে চ্যাটজিপিটি, আর এআই চলে আসে সাধারণ মানুষের হাতে। এরপর একের পর এক এআই সহকারী বাজারে আসে, ওপেনএআইয়ের জিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড, গুগলের জেমিনি, মেটার লামা। ছবি তৈরির এআই, ভিডিও তৈরির এআই, কণ্ঠ তৈরির এআই। আপনি এই মুহূর্তে যে ভিডিওটি দেখছেন, তার তৈরিতেও এআই টুলের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। দুই হাজার চব্বিশ সালে এআই পৌঁছে যায় নোবেল পুরস্কারের মঞ্চে। পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান জেফ্রি হিন্টন আর জন হপফিল্ড, নিউরাল নেটওয়ার্কের ভিত্তি তৈরির জন্য। রসায়নে নোবেল পান ডিপমাইন্ডের ডেমিস হাসাবিস আর জন জাম্পার, আলফাফোল্ডের জন্য, সাথে প্রোটিন নকশার জন্য ডেভিড বেকার। যে মানুষটি শীতকালে হাল ছাড়েননি, তিনি পেলেন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান।

আলফাফোল্ড কী করেছে? প্রোটিন হলো জীবনের মূল উপাদান, আর এর ত্রিমাত্রিক গঠন জানা ওষুধ আবিষ্কারের জন্য খুব জরুরি। একটি প্রোটিনের গঠন বের করতে আগে বছরের পর বছর লেগে যেত। আলফাফোল্ড বিশ কোটির বেশি প্রোটিনের গঠন অনুমান করে বিনামূল্যে প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি জীববিজ্ঞান গবেষণার গতি বদলে দিয়েছে। পঞ্চম অধ্যায়: আজকের এআই অর্থনীতি। এআই এখন শুধু বিজ্ঞান নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসা। এআই চিপ তৈরির প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া দুই হাজার পঁচিশ সালে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার তৈরিতে বছরে শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। এই ডেটা সেন্টারগুলো চালাতে লাগছে বিপুল বিদ্যুৎ আর পানি। আর এআই এখন শুধু উত্তর দেয় না, কাজও করে। এআই এজেন্ট নামে নতুন প্রজন্মের সিস্টেম নিজে থেকে ওয়েবসাইট ঘাঁটে, কোড লেখে, ফাইল সাজায়, ধাপে ধাপে বড় কাজ শেষ করে। প্রোগ্রামাররা এখন বিপুল পরিমাণ কোড লিখছেন এআইয়ের সাহায্যে। ডাক্তাররা রিপোর্ট বিশ্লেষণে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় এআই ব্যবহার করছেন।

ষষ্ঠ অধ্যায়: অন্ধকার দিক। তবে প্রতিটি শক্তিশালী প্রযুক্তির মতো এআইয়েরও আছে বিপজ্জনক দিক। ডিপফেক, অর্থাৎ এআই দিয়ে তৈরি নকল ভিডিও আর কণ্ঠ, দিয়ে প্রতারণা আর গুজব ছড়ানো বাড়ছে। বাংলাদেশেও নির্বাচনের সময় রাজনীতিবিদদের নকল ভিডিও ছড়ানোর ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। কারো কণ্ঠ নকল করে পরিবারের কাছে টাকা চাওয়ার প্রতারণাও দেখা যাচ্ছে। এআই কখনো কখনো আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল তথ্য দেয়, যাকে বলে হ্যালুসিনেশন। প্রশিক্ষণের ডেটায় পক্ষপাত থাকলে এআইয়ের সিদ্ধান্তেও পক্ষপাত আসে। আর আছে চাকরির প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি বিশ্লেষণ বলছে, বিশ্বের প্রায় চল্লিশ শতাংশ চাকরি কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের প্রভাবের মুখে। কিছু কাজ এআই করে দেবে, কিছু কাজে এআই মানুষকে আরো দক্ষ করবে।

বিশ্বের দেশগুলো এআইকে নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই হাজার চব্বিশ সালে এআই আইন পাস করেছে, যেখানে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী এআই ব্যবহারের নিয়ম ঠিক করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গড়ছে। এআই গবেষকদের অনেকেই, এমনকি হিন্টন নিজেও, অতি শক্তিশালী এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন। সপ্তম অধ্যায়: বাংলাদেশ কোথায়? বাংলাদেশের জন্য এআই একসাথে সুযোগ আর চ্যালেঞ্জ। দেশের লাখো তরুণ ফ্রিল্যান্সার, যারা ডেটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, লেখালেখি বা সাধারণ প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করেন, তাদের অনেক কাজ এআই সহজে করে দিতে পারে। আবার যারা এআই ব্যবহার শিখবেন, তারা একাই করতে পারবেন আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ। পোশাক কারখানায় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র আর এআই নির্ভর মান যাচাই বাড়ছে। কল সেন্টারের কাজে এআই ভয়েস আসছে। আবার কৃষিতে রোগ চেনা, স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়ে সহায়তা, বাংলা ভাষায় শিক্ষা, এসব জায়গায় এআই বিশাল সুযোগ তৈরি করতে পারে। গ্রামের একজন কৃষক মোবাইলে ছবি তুলে জানতে পারবেন ফসলের কী রোগ হয়েছে।

তবে এর জন্য দরকার প্রস্তুতি। বাংলা ভাষার জন্য ভালো ডেটা, স্কুল কলেজে এআই শিক্ষা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা আইন, আর ডিপফেক মোকাবিলার ব্যবস্থা। যে দেশ আগে প্রস্তুত হবে, এআই সেই দেশের জন্য হবে আশীর্বাদ। আর যে দেশ পিছিয়ে থাকবে, তার জন্য হতে পারে নতুন বৈষম্যের কারণ। শেষ অধ্যায়: আগামীর এআই। সামনে কী আসছে? অনেক গবেষক বিশ্বাস করেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে সরাসরি অংশ নেবে, নতুন ওষুধ, নতুন উপাদান, নতুন জ্বালানি প্রযুক্তি খুঁজে বের করবে। আবার কেউ কেউ কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআইয়ের কথা বলেন, এমন এআই যা প্রায় সব বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে মানুষের সমান বা বেশি দক্ষ। কবে আসবে, আদৌ আসবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র মতভেদ। একটা জিনিস নিশ্চিত। এআই আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, এটা বর্তমান। প্রশ্ন এখন এআই আসবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা এটাকে কীভাবে ব্যবহার করব। টুরিং প্রশ্ন করেছিলেন, যন্ত্র কি ভাবতে পারে? আজকের প্রশ্ন হয়তো আরো জরুরি, আমরা কি যন্ত্রের সাথে মিলে আরো ভালোভাবে ভাবতে পারব?

এই প্রতিবেদনের তথ্য অ্যালান টুরিংয়ের মূল প্রবন্ধ, ডার্টমাউথ প্রস্তাবনা, নোবেল কমিটি, ডিপমাইন্ড, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে নেওয়া। প্রযুক্তি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন আরো ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন কালারস অব বাংলাদেশ। আর কমেন্টে জানান, এআই নিয়ে আপনি আশাবাদী, নাকি চিন্তিত?

পুরো ডকুমেন্টারি দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।

কালারস অব বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি। ছবি ও তথ্যসূত্র ভিডিওর ভেতরে উল্লেখ করা আছে।

ক
কালারস অব বাংলাদেশ

কালারস অব বাংলাদেশ · প্রযুক্তি বিভাগ

💬 আপনার মতামতফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন · ভদ্র ও প্রাসঙ্গিক মন্তব্য কাম্য