· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
শেখ হাসিনা
রাষ্ট্রনায়ক

শেখ হাসিনা

Sheikh Hasina

১৯৪৭ — বর্তমানবয়স ৭৯

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

এক নজরে
  • শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল এবং পরবর্তীকালে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
  • তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
  • বিশ বছরেরও বেশি সময় সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করার পর, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ-সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী।
১৯৪৭জন্ম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলাআজবয়স ৭৯

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল এবং পরবর্তীকালে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। বিশ বছরেরও বেশি সময় সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করার পর, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ-সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং অসহযোগ আন্দোলনের ফলে ঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পলায়নের মাধ্যমে তার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার কাছে পরাজিত হন, যার সাথে তিনি এরশাদের বিরুদ্ধে অন্দোলনে সহযোগিতা করেছিলেন। এরপর বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) নির্বাচনি অসততার জন্য অভিযুক্ত করে সংসদ বর্জন করেন, যার ফলে দেশে সহিংস বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। খালেদা জিয়া একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তারপরে ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরপর বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস পেতে শুরু করলেও, তার প্রথম মেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যা ২০০১ সালের জুলাইয়ের নির্বাচনে খালেদার কাছে তার নির্বাচনি পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। স্বাধীন দেশ হওয়ার পর এটিই ছিল বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ।

২০০৬-০৮ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময়, শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর, তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন যা বিএনপি বর্জন করেছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল। ২০১৭ সালে, প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পরে, হাসিনা তাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী কৃতিত্ব এবং প্রশংসা পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি চতুর্থ মেয়াদে জয়লাভ করেছিলেন, যেটি সহিংসতাপূর্ণ একটি নির্বাচন ছিল এবং ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে সমালোচিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে নির্বাচনের পর তিনি পঞ্চম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদকাল (২০০৯-২০২৪), অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতি দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল, যার ফলে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, যুব বেকারত্ব এবং ব্যাংকিং অনিয়ম নজরে আসে। এই সময়ে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৭.৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ২০২২ সালে, হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী নতুন ছাত্রবিক্ষোভ শুরু হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আধাসামরিক বাহিনী দ্বারা এই বিক্ষোভ নৃশংস দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছিল, যার ফলে অনেক ছাত্র নিহত হয়েছিল। আগস্টের শুরুতে, এই বিক্ষোভ সরকারের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়, যা শেষ পর্যন্ত হাসিনাকে পদত্যাগ এবং ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।

২০২০-এর দশক থেকে শুরু করে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ পরিস্থিতির বিরাজ করেছে বলে মনে করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার সরকারের অধীনে সংঘটিত ব্যাপক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত করেছে। তার মতামতকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অনেক রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিককে নিয়মতান্ত্রিক এবং বিচারিকভাবে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ২০২১ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রোধ করার জন্য হাসিনার গণমাধ্যম নীতির একটি নেতিবাচক মূল্যায়ন প্রকাশ করে। অভ্যন্তরীণভাবে, প্রায়ই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের মূল্যে, হাসিনাকে ভারতের বন্ধু সরকার বলে সমালোচনা করা হয়। তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সমালোচকরা যা হাসিনার ক্ষমতার প্রধান উৎস হিসেবে মনে করেন।

২০১৮ সালে হাসিনা টাইম পত্রিকার বিশ্বের ১০০ সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে ছিলেন, এবং ২০১৫, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর একজন হিসাবে তাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ফরেইন পলিসি নামক সাময়িকীর করা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০ বৈশ্বিক চিন্তাবিদদের তালিকায় হাসিনা স্থান করে নিয়েছেন। তিনি বিশ্ব নারী নেত্রী পরিষদের একজন সদস্য, যা বর্তমান ও প্রাক্তন নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহিলা সরকারপ্রধান।

প্রাথমিক জীবন

হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পূর্ববঙ্গের টুঙ্গিপাড়ার (বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া) বাঙালি মুসলিম শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। পিতা ও মাতা উভয় দিক থেকেই তিনি ইরাকি আরব বংশীয়, তার বংশ ছিল বাগদাদের মুসলিম ধর্ম প্রচারক শেখ আব্দুল আউয়াল দারবিশের সরাসরি বংশধর, যিনি মুঘল যুগের শেষভাগে বাংলায় এসেছিলেন। ছোটবেলায় মা ও নানীর তত্ত্বাবধানে হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় বেড়ে ওঠেন। পরে তার পরিবার ঢাকায় চলে এলে প্রথমে তারা সেগুন বাগিচায় থাকতেন।

১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনী বোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। একইবছর যখন তার বাবা বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হন, তখন তারা ৩ নম্বর মিন্টো সড়কের সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হন। ১৯৫০-এর দশকে, তার বাবা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতেও কাজ করেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে, তাদের পরিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে তার বাবার তৈরি একটি বাড়িতে চলে আসে। অনেক সাক্ষাৎকার এবং বক্তৃতায়, হাসিনা তার বাবার পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক বন্দী থাকাকালীন সময়ে নিজের বেড়ে ওঠার কথা বলেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে, তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে "উদাহরণস্বরূপ, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রণালয় নির্বাচিত হওয়ার সময়, আমরা ৩ নম্বর মিন্টো সড়কে থাকতাম, একদিন, আমার মা আমাদের বলেছিলেন যে বাবাকে আগের রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারপর আমরা তাকে কারাগারে দেখতে যেতাম এবং আমরা সবসময় উপলব্ধি করতাম যে তিনি জনগণকে ভালোবাসতেন বলে তাকে প্রায়শই কারাগারে রাখা হয়েছিল।" হাসিনা এবং তার ভাইবোনদের রাজনীতিতে ব্যস্ততার কারণে বাবার সাথে কাটানো সময় খুব কম ছিল।

হাসিনা টুঙ্গিপাড়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েন। তার পরিবার ঢাকায় চলে গেলে ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর তিনি গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ এবং আজিমপুর গার্লস হাইস্কুলে বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সমাপন করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি ইডেন কলেজে স্নাতক ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। তিনি ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইডেন কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় হাসিনা এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন ডারহাম থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ডক্টরেট এবং বাঙালি পরমাণুবিজ্ঞানী। তাদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় (পুত্র) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছে। হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় হাসিনা রোকেয়া হলে থাকতেন, যেটি ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা ছাত্রাবাস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; এবং পরে নারীবাদী বেগম রোকেয়ার নামে নামকরণ করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং রোকেয়া হলের মহিলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে হাসিনার স্বামী, সন্তান এবং তার বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় হাসিনা, ওয়াজেদ ও রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। সেখানে তারা বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে আশ্রয় নেন; পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা ছয় বছর ধরে ভারতের নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করেন। জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। ১৯৮১ সালে স্বামীর সঙ্গে নয়াদিল্লি অবস্থানকালে ১৬ ফেব্রুয়ারি, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর, ১৭ মে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে প্রত্যাবর্তন করেন এবং হাজার-হাজার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছ থেকে স্বাগতম লাভ করেন।

প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের (সাবেক ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে) ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন।

ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময় হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে "কেন্দ্র-বামপন্থী রাজনীতি" দল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

১৯৮০-এর দশক জুড়ে হাসিনা সামরিক আইনের অধীনে একাধিকবার আটক ছিলেন। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং নভেম্বরে তাকে গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৫ সালের মার্চে, তাকে আরও তিন মাসের জন্য গৃহবন্দি করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৮৬ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করে। তিনি ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এরশাদের বিরোধী হিসেবে আট দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন। হাসিনার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার বিরোধীদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল, যেহেতু নির্বাচনটি সামরিক আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং অন্যান্য প্রধান বিরোধী দল সে সময়ে নির্বাচন বর্জন করেছিল। যদিও, তার সমর্থকরা এটা বজায় রেখেছেন যে তিনি এরশাদের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য কার্যকরভাবে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে এরশাদ সংসদ ভেঙে দিয়েছিলেন, যখন হাসিনা এবং তার আওয়ামী লীগ একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন সাধারণ নির্বাচনের আহ্বান জানাতে পদত্যাগ করেছিল। ১৯৮৭ সালের নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে, ঢাকায় একটি গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং আওয়ামী লীগ কর্মী এবং হাসিনার সমর্থনকারী নূর হোসেন সহ বেশকয়েকজন নিহত হন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

🏅 Félix Houphouët-Boigny Peace Prize🏅 ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার🏅 Pearl S. Buck Award🏅 চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ🏅 বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ
গল্পটা ভালো লাগলে শেয়ার করুন