
সেলিনা হোসেন
Selina Hossain
১৯৪৭ — বর্তমানবয়স ৭৯
বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক
- সেলিনা হোসেন (জন্ম: ১৪ই জুন ১৯৪৭) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- তার উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংকটের সামগ্রিকতা।
- বাঙালির অহংকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তার লেখায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সেলিনা হোসেন (জন্ম: ১৪ই জুন ১৯৪৭) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তার উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংকটের সামগ্রিকতা। বাঙালির অহংকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তার লেখায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার গল্প উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে এবং কানাড়ি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ পান তিনি।
বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সেলিনা হোসেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তাঁকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ১৭ অক্টোবর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
জন্ম ও শিক্ষা জীবন
সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। বাবা এ কে মোশাররফ হোসেনের আদিবাড়ি লক্ষীপুর জেলায়। চাকরিসূত্রে বগুড়া ও পরে রাজশাহী থেকেছেন দীর্ঘকাল; কাজেই সেলিনাকে একেবারে ছেলেবেলায় লক্ষীপুরে থাকতে হয়নি। সেলিনা হোসেনের মায়ের নাম মরিয়ম-উন-নিসা বকুল। মোশাররফ-মরিয়ামুন্ননেছা দম্পতির সব মিলিয়ে নয় ছেলেমেয়ে। সেলিনা ভাইবোনদের মধ্যে চতুর্থ।
সেলিনা ১৯৫৪ সালে বগুড়ার লতিফপুর প্রাইমারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে রাজশাহীর প্রমথনাথ (পি.এন) গার্লস স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে তিনি এখান থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী মহিলা কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবন শেষ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বি.এ. অনার্স এবং ১৯৬৮ সালে এম.এ. পাস করেন।
কর্মজীবন
সেলিনা ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর পূর্বে তিনি বিভিন্ন পত্রিকাতে উপসম্পাদকীয়তে নিয়মিত লিখতেন। কর্মরত অবস্থায় তিনি বাংলা একাডেমির 'অভিধান প্রকল্প', 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প', 'বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলী প্রকাশ', 'লেখক অভিধান', 'চরিতাভিধান' এবং 'একশত এক সিরিজের' গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০ বছরেরও বেশি সময় 'ধান শালিকের দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তাকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ১৭ অক্টোবর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি পদে থেকে পদত্যাগ করেন। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। তার মোট উপন্যাসের সংখ্যা ৩৫টি, গল্প গ্রন্থ ১৩টি, ২২টি শিশু-কিশোর গ্রন্থ এবং প্রবন্ধের গ্রন্থ ১০টি।এছাড়াও ১৩টি সম্পাদনা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সন্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে রয়েছে:
ড: মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯)
উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার - ১৯৮০)
আলাওল সাহিত্য পুরস্কার - ১৯৮১
চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭)
ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার - ১৯৯৪
ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক - ২০০৯
সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার - ২০১৮
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ শাখায় পঙ্খিরাজ থেকে প্রকাশিত অপেক্ষা গ্রন্থের জন্য পাঞ্জেরী ছোটকাকু আনন্দ আলো শিশুসাহিত্য পুরস্কার - ২০১৯
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার - ২০১৮
সার্ক সাহিত্য পুরস্কার (২০১৫)






