মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা
মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের উত্তর -পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা।
অবস্থান ও আয়তন
উত্তরে সিলেট জেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা, পূর্বে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা, পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলা। জেলার প্রধান নদ-নদী ৬ (ছয়)টি- মনু, বরাক, ধলাই, সোনাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
মৌলভীবাজার জেলা ৭টি উপজেলা, ৭টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন, ৮৯৯টি মৌজা, ২০১৫টি গ্রাম ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।
মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৭টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:
ইতিহাস
শাহ মোস্তফা-এর বংশধর মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মনু নদীর উত্তর তীরে কয়েকটি দোকানঘর স্থাপন করে ভোজ্যসামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেন। মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত এ বাজারে নৌ ও স্থলপথে প্রতিদিন লোকসমাগম বৃদ্ধি পেতে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমের মাধ্যমে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মৌলভীবাজারের খ্যাতি।
কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব : হয়রত শাহ মোস্তফা (র:), মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী হামিদুর রহমান,কবি মুজাফফর খান, সৈয়দ মুজতবা আলী, প্রাক্তন প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ সদস্য, খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও দানশীল ব্যক্তিত্ব মো. কেরামত আলী,পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যমোহাম্মদ মুহিবুর রহমান [১], জাতীয় পরিষদ সিলেটের প্রথম মহিলা সদস্য বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী, সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, গবেষক ড. রঙ্গলাল সেন প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ : মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজার ছিল ৪ নং সেক্টরের অধীন। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন সি.আর.দত্ত। মৌলভীবাজার সদরের ঘরোয়া গ্রামের হত্যাকাণ্ড, নড়িয়া গ্রামের গণহত্যা, রাজনগর পাঁচগাঁও এর গণহত্যা, বড়লেখা ও কুলাউড়ার বধ্যভূমিতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষকে কাঁদায়। ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শত্রুমুক্ত হয়।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি
শাহ মোস্তফা- সিলেট বিজয়ের যোদ্ধা
লুৎফুর রহমান বর্ণভী-বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত।
সৈয়দ মুজতবা আলী- সাহিত্যিক।
খান বাহাদুর সৈয়দ আবদুল মজিদ- রাজনীতিবিদ
ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা।
সৈয়দ মুর্তাজা আলী - ইতিহাসবিদ।
মো. কেরামত আলী - ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও দানশীল ব্যক্তিত্ব
আজিজুর রহমান (রাজনীতিবিদ)- স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত।
আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী-পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য
বিপ্লবী লীলা দত্ত নাগ- ঢাবির প্রথম ছাত্রী।
নবাব আলী আমজাদ - বিখ্যাত জমিদার ও সমাজসেবক।
মহাকবি শেখ চান্দ- মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি।
এম. সাইফুর রহমান- রাজনীতিবিদ।
ডক্টর রঙ্গলাল সেন- জাতীয় অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী।
গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য -সাংবাদিক
দ্বিজেন শর্মা - সাহিত্যিক ও নিসর্গবিদ।
আতাউল করিম - বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা- বাংলাদেশের প্রথম নারী বিচারপতি।
চৌধুরী গোলাম আকবর সাহিত্যভূষণ- সাহিত্যিক ও লোকগীতি সংগ্রাহক।
ডক্টর আবেদ চৌধুরী- জিনবিজ্ঞানী।
মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান- পাকিস্তান ৩য় জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ - রাজনীতিবিদ এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি।
সৈয়দ মহসিন আলী - রাজনীতিবিদ।
এ. এন. এম. ইউসুফ - রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক।
রামরঞ্জন ভট্টাচার্য -শহীদ বুদ্ধিজীবী
মুন্সি আশরাফ হোসেন সাহিত্যরত্ন- লোকসাহিত্য গবেষক।
উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ- কৃষিমন্ত্রী,সাবেক চীফ হুইপ
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা - সাবেক প্রধান বিচারপতি।
নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম - চিকিৎসাবিদ।
শাহাব উদ্দিন- পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী
মোফাজ্জল করিম- কবি ও জনপ্রশাসন কর্মকর্তা
গোপীনাথ দত্ত -বাংলা মহাভারত রচয়িতাদের অন্যতম।
তাজুল মোহম্মদ- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক
মতিউর রহমান চৌধুরী - প্রখ্যাত সাংবাদিক।
নবাব আলী হায়দার খান- আসামের কৃষিমন্ত্রী
মেজর জেনারেল ইসমাইল ফারুক চৌধুরী- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সামরিক প্রকৌশলী প্রধান
এবাদুর রহমান চৌধুরী- সাবেক প্রতিমন্ত্রী
এবাদত হোসেন- বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার
রোশনারা মনি- ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও গায়িকা
সৈয়দ মোহাম্মদ আলী-বাংলাদেশে ইংরেজি সাংবাদিকতার পথিকৃৎ।
দেওয়ান আব্দুল বাসেত - রাজনীতিবিদ
জাবেদ ইমাম অপু - ছাত্ররাজনীতিবিদ ও তরুণ উদ্যোক্তা।
অর্থনীতি
মৌলভীবাজার এর অর্থনীতির প্রধান ভীত হলো চা শিল্প ও রাবার শিল্প। এ জেলায় প্রচুর পরিমানে চা ও রাবার উৎপাদিত হয়। এ ছাড়াও জেলার অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পও বিশেষ ভাবে উল্ল্যেখযোগ্য, তা ছাড়াও এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় শিল্প(সংখ্যায় যদিও অনেক সীমিত)- যা মৌলভীবাজার জেলার অর্থনীতিকে করছে সমৃদ্ধশালী।
চিত্তাকর্ষক স্থান
চা কন্যা ভাষ্কর্য, সাতগাঁও, মৌলভীবাজার।
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বড়লেখা
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জ
মাগুরছড়া পুঞ্জি, কমলগঞ্জ
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ, কমলগঞ্জ;
মো. কেরামত আলী জামে মসজিদ, কমলগঞ্জ
গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ ক্লাব, শ্রীমঙ্গল।
নবাব আলী আমজদের বাড়ি, কুলাউড়া
গাছপীর আব্রু মিয়ার মাজার - সিরাজনগর
ইউনুছ পাগলার মাজার - সাতগাঁও বাজার, শ্রীমঙ্গল।
খাজার টিলা - হযরত শাহ মনজুর আলী রহঃ মাজার সিন্দুরখান, শ্রীমঙ্গল।
হযরত খরমশাহ মাজার পাচাউন, মির্জাপুর। ৩০০ বছরের পুরোনো মাজার।
শ্রীশ্রী ঠাকুরবাণীর শ্রীধাম • (হরিস্মরণ, মুন্সীবাজার, কমলগঞ্জ) •
শাহ মোস্তফা -এর মাজার - মৌলভীবাজার শহরের কেন্দ্রস্থলের বেড়ীরপাড়ের দক্ষিণ তীর;
রাজা সুবিদ নারায়ণ - রাজনগরের শেষ রাজা।
ঐতিহাসিক কমলারানীর দিঘি, রাজনগর।
খাজা ওসমান - সপ্তদশ শতকের বাংলার শেষ পাঠান সেনাপতি;
হযরত খাজা শাহ হাছন আলী চিশতী রহঃ মাজার লাহারপুর, শ্রীমঙ্গল।
জান্নাতুল ফেরদাউস কম্পলেক্স, শ্রীমঙ্গল।
জিলাদপুর তিন গম্ভুজ গায়েবি মসজিদ।
বৈকন্ঠ সাধুর জোরা তমাল তলা মন্দির - সাতগাঁও রুস্তুমপুর।
অজ্ঞান ঠাকুরের দেয়াল- অন্তেহরি, রাজনগর।
ম্যানগ্রোভ ভিলেজ- অন্তেহরি, রাজনগর।
বাইক্কা বিল - কালাপুর।
বধ্যভূমি - শ্রীমঙ্গল।
পুরান গাঁও পাল বাড়ি প্রাচীন মন্দির, সাতগাঁও স্থাপিত সন ১২৫২
নির্মাই শিব বাড়ি আশিদ্রোন
