· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
জেলা · সিলেট বিভাগ

হবিগঞ্জ

Habiganj

হবিগঞ্জ জেলার ৮টি উপজেলা

হবিগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে হবিগঞ্জ বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। খোয়াই নদীর তীরে অবস্থিত হবিগঞ্জকে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ জেলায় রূপান্তর করা হয়। এর আগে ১৮৭৮ সাল থেকে হবিগঞ্জ মহকুমা সিলেট জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রাম বানিয়াচং এই হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এই গ্রামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাশয় কমলারাণীর সাগরদিঘী অবস্থিত। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলাকে ভাটি অঞ্চলের রাজধানী বলা হয়।

নামকরণ ও ইতিহাস

সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রঃ) এর অনুসারী সৈয়দ নাছির উদ্দিন (রঃ) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত খোয়াই, করাঙ্গী, সুতাং, বিজনা, রত্না প্রভৃতি নদী বিধৌত হবিগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক জনপদের নাম । ঐতিহাসিক সুলতানসী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সুলতানের অধস্তন পুরুষ সৈয়দ হেদায়েত উল্লাহর পুত্র সৈয়দ হবিব উল্লাহ খোয়াই নদীর তীরে একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন । তাঁর নামানুসারে জায়গাটির নাম হয় হবিবগঞ্জ। কালক্রমে হবিবগঞ্জ থেকে তা হবিগঞ্জে পরিণত হয় ।

প্রাগৈতিহাসিক প্রতিবেদনসমূহ হতে জানা যায় যে, বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার সাথে লালমাই পাহাড় এবং সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং মধুপুরের উচ্চতর এলাকাসমূহের সাথে যুক্ত ছিল। চাকলাপুঞ্জী চা বাগানের কাছে চান্দির মাজার নামক এলাকায় বালু নদী নামে পরিচিত একটি নদীর পাড়ে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু, যেমন: জীবাশ্ম কাঠ, হস্তনির্মিত যুদ্ধাস্ত্র ইত্যাদি প্রমাণ করে যে, এখানে বহু আগে থেকেই প্রাচীন মানবের বসবাস ছিল।

১৫ শতকে সিলেটের জমিদার আনোয়ার খান এবং বানিয়াচংয়ের জমিদার হোসেন খান (বারো ভূইয়াদের দলভূক্ত) এর সাথে যুদ্ধ হয় মুঘল সেনাবাহিনীর, যা বাহরাস্থান-ই-গায়েবী গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়।

খাজা ওসমান (আফগান রাজা) বাকাই নগর দুর্গ ছেড়ে এসে গিরিপালের কাছে পুটিজুরী নামক দুর্গে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি গড়ে তোলেন একটি দুর্গ। যা প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাজা ওসমানের ভাই দুর্গ ত্যাগ করলে মুঘল সেনারা সে সুযোগ গ্রহণ করে খাজা ওসমানের সেনাদলকে বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার দালাম্বপুর নামক স্থানে পরাজিত করে।

উপনবেশিক ব্রিটিশ শাসন আমলে তৎকালীন (অবিভক্ত ব্রিটিশ-ভারতের) আসাম প্রভেন্সির সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহুকুমায় রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ব্রিটিশ সরকার ১৯২৮ সালে হবিগঞ্জ বাজার-শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলপথ নির্মাণ করে গড়ে তুলে অবকাঠামো। ২০০৩ সালে এ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

উপনবেশিক ব্রিটিশ শাসন আমলে তৎকালীন (অবিভক্ত ব্রিটিশ-ভারতের) আসাম প্রভেন্সির সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহুকুমায় মিউন্যিসিপ্যাল অফিস বিল্ডিং হবিগঞ্জ ফাউন্ডেশন স্থাপিত ও প্রতিষ্ঠত হয় ১৬ ডিসম্বর ১৯৪০ সালে। (পুরাতন পৌরসভা নামে পরিচিত) এটি হবিগঞ্জ সদর এর পুরাতন জজকোর্ট এলাকায় অবস্থিত।

৪ এপ্রিল, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা তেলিয়াপাড়ায় ২য় ইষ্ট বেঙ্গলের সদরদপ্তরে সমবেত হন। চা বাগান পরিবেষ্টিত পাহাড়ী এ অঞ্চলে জেনারেল এম এ জি ওসমানী, লে: কর্ণেল আব্দুর রব, লে: কর্ণেল সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর মইনুল হোসাইন চৌধুরীসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন সেদিন। সেদিনের সভায় চারজন সিনিয়র অফিসারকে যুদ্ধকালীন কর্মক্ষেত্র ভাগ করে দেয়া হয়; সিলেট-বাহ্মণবাড়ীয়া এলাকায় মেজর শফিউল্লা, কুমিল্লা-নোয়াখালী এলাকায় মেজর খালেদ মোশাররফ, চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় মেজর জিয়াউর রহমান এবং কুষ্টিয়া-যশোর এলাকায় মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই সভাতেই মুক্তিবাহিনী সাংগঠনিক ভাবে পরিপুষ্ট হয়ে উঠে এবং জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্ব গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠককে স্মরণ করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এখানে তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

অবস্থান ও আয়তন

হবিগঞ্জ জেলা ২৩˚৫৭” হতে ২৪˚৪২” উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১˚১০” হতে ৯১˚৪০” পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত এবং আয়তন ২,৬৩৬.৫৮ বর্গ কিলোমিটার। হবিগঞ্জ জেলার উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই ও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা, পূর্বে মৌলভীবাজার জেলা ও সিলেট জেলা এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলা।

প্রশাসনিক ইতিহাস

১৮৭৮ সালে হবিগঞ্জ, সিলেট জেলার অন্তর্ভুক্ত একটি মহকুমার মর্যাদা লাভ করে। ১৯১১ সালের আসাম প্রদেশের গেজেটে সিলেট জেলায় যে ১৫ টি থানা কথা পাওয়া যায়। যার মধ্যে হবিগঞ্জ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত থানা ছিল চারটি হবিগঞ্জ সদর, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং এবং মাধবপুর। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে

হবিগঞ্জ সদর থানা থেকে বাহুবল ও চুনারুঘাট থানা, বানিয়াচং থানা থেকে আজমিরীগঞ্জ থানা, মাধবপুর থানা থেকে লাখাই থানা গঠন করা হয়। সর্বশেষ হবিগঞ্জ সদর থানা থেকে নতুন শায়েস্তাগঞ্জ থানা গঠন করা হয়েছে। একমাত্র নবীগঞ্জ থানার সীমানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। হবিগঞ্জ বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। ১৯৮৪ সালে দেশের সবগুলো মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয় সিলেট জেলার অন্তর্ভুক্ত হবিগঞ্জ মহকুমা ও একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

হবিগঞ্জ জেলা ৯টি উপজেলা, ৯টি থানা, ৬টি পৌরসভা, ৭৮টি ইউনিয়ন, ১২৪১টি মৌজা, ২০৯৩টি গ্রাম ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

হবিগঞ্জ জেলায় মোট ৯টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হলো:

জনসংখ্যা ও ধর্ম

সর্বশেষ আদমশুমারী (২০২২) অনুযায়ী হবিগঞ্জের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৪,৪০,০০০ জন। এ জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯২৫ জন। পরিবারের সংখ্যা ৮ লক্ষাধিক।

বাংলাদেশে বসবাসরত ২৫,০০০ মণিপুরীর একটি বৃহৎ অংশ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ এবং গাজীপুর ইউনিয়নে বসবাস করে। এই সংখ্যা ৪,০০০ এর অধিক।

এছাড়া প্রধান উপজাতি হিসেবে রয়েছে :- কর্মকার, ভৌমিক, খাসিয়া, বাউরি, সাওতাল, মুন্ডা, মৃধা, উড়ীয়া, তাঁতী, কন্দ, প্রদান, রিকিয়াশন কৈরী,গোয়ালা, পার্শী, তেলেঙ্গা, রেলিখাসিয়া, মনিপুরি, ত্রিপুরা, গড়, পাইনকা, বাড়াইক শবর, কেউট, বুনার্জী, নায়েক, বানিয়া, ঝরা, চৌহান, রুদ্রপাল, খাড়িয়া, রাউতিয়া, কানু ভূইয়া, তন্তবায়, কাঁহার, ছত্রী, অহির, রাজবংশী, শুক্লবদ্য, ভূমিজ, বিহারী, গঞ্জু, রবিদাস মহালী, বাক্তী, জংলী, তেলুগু, ভোজপুরী, উৎকোল, উরাং প্রভৃতি উপজাতি এ জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বাস করে। এদের মোট জনসংখ্যা- ৮৪,০২০ জন ।

হবিগঞ্জ জেলায় ধর্মানুসারে জনসংখ্যার শতকরাঃ-

শিক্ষা ব্যবস্থা

হবিগঞ্জ এর সাক্ষরতার গড় হার প্রায় ৬৯.৩২%। এখানে রয়েছে:

কলেজ - ৪৯টি (১০টি অনার্স কলেজ, ৯টি সরকারি কলেজ, ৪০টি বেসরকারি কলেজ, ২টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট,একটি মেডিকেল কলেজ),

বিদ্যালয় - ১৮৯টি (১৬টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ৯৯টি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮৪টি জুনিয়র বিদ্যালয়),

প্রাথমিক বিদ্যালয় - ১,৪৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭৩২টি সরকারি, ৭১১টি বেসরকারি),

অস্থায়ী বিদ্যালয় - ২৬টি।

কৃষি

প্রধান ফসলঃ ধান, চা, গম, আলু, পাট, চীনাবাদাম, তাম্বুল এবং তৈল বীজ।

চা বাগানঃ ২৪টি চা বাগান; মোট আয়তন ১৫,৭০৩.২৪ হেক্টর। [হবিগঞ্জ জেলা চায়ের জন্য বিখ্যাত]।

রবার বাগানঃ ৩টি - রুপাইছড়া-বাহুবল রাবার বাগান (১৯৮১); মোট ২,০০০ একর (৮.১ বর্গমাইল) আয়তনের এই বাগানের অর্ধেক হবিগঞ্জ জেলায় ও অবশিষ্ট অংশ পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমংগল উপজেলায় অবস্থিত। শাহজীবাজার-চুনারুঘাট রাবার বাগান (১৯৭৮); মোট আয়তন ২,০০৪ একর (৮.১১ বর্গ কিলোমিটার), সাতগাঁও রবার বাগান (১৯৭১), মোট আয়তন ২০০ একর (০.৮১ বর্গমিটার)।

প্রধান ফলঃ আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, নারকেল, পাতি লেবু, আনারস এবং কালোজাম।

মৎস্যচাষ এবং খামারঃ গরুর খামার ১৪৮টি, পোল্ট্রি ৭৩৯টি এবং ফিশারি ৬৩৮টি।

কৃষি আবাদী জমিঃ ১,৫৪,৯৫৩ হেক্টর (মোট জমির ৬০.২২%)।

বনভূমিঃ ১১,৬৪৪ হেক্টর (মোট জমির ৪.৫৩%)।

অর্থনীতি

জেলার অর্থনীতি শিল্প,ব্যবসা-বাণিজ্য,প্রবাস ও কৃষির উপরেই নির্ভরশীল।মৎস্য শিল্পেও অন্যতম এই জেলা।

পেশা ভিত্তিক জনগোষ্ঠী - কৃষি ৪২.২৬%, কৃষি শ্রমিক ২০.৫৫%, অকৃষি শ্রমিক ৬.৪৫%, ব্যবসা ৮.২%, চাকরি ৪.৬৯%, শিল্প ১.৮%, মৎসজীবী ২.৭৩%, অন্যান্য ১৩.৪১%।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলাকে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা বলে গণ্য করা হয়।রেমিট্যান্স খাতেও সিলেট বিভাগে অন্যতম এ জেলা।

শিল্প-কারখানাঃ টেক্সটাইল মিল, সিরামিক কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করন কারখানা, ছাতা কারখানা, আটা কল, চাল কল, আইস ফ্যাক্টরী, সাবান কারখানা, শুকনো মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, বিস্কুট ফ্যাক্টরী।

কুটির শিল্পঃ ওয়েভিং, বাঁশের কাজ, স্বর্ণকার, কর্মকার, কুমার, সেলাই এবং ওয়েল্ডিং।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কঃ ২টি; হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক।

প্রাপ্ত সম্পদঃ প্রাকৃতিক গ্যাস, সিলিকা বালি, খনিজ বালি।

গ্যাস ক্ষেত্রঃ ৩টি; রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৬০), বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৯৮) এবং হবিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৬৩)। এই গ্যাস ক্ষেত্রগুলির আনুমানিক সর্বমোট মজুদ ৫.৫ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট।

বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড মহাদেশের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম হিসেবেও বিবেচিত।

রপ্তানী পণ্যঃ ধান, মাছ, চিংড়ি, ব্যাঙ-এর পা, শুকনো মাছ, চা, পান পাতা, গুড়, রবার, বাঁশ, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল এবং টেক্সটাইল।

জেলার মাথাপিছু আয় ৩৪৯০ ডলার।

হবিগঞ্জের সদর,শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর অঞ্চলে বেশ অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে স্টার সিরামিকস, প্রাণ আর এফ এল,কটন মিল,স্পিনিং মিল,ডেনিম মিল,টেক্সটাইল মিলস,গ্লাস,ম্যাটাডোর,শেভ্রন ইত্যাদিসহ দেশি-বিদেশি অনেক কোম্পানিভুক্ত গার্মেন্টস উল্লেখযোগ্য।দেশি বিদেশি অনেক কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে কয়েক দশক ধরে।এতে করে বাহিরের বিভাগের মানুষের যাতায়াত আনাগোনা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে,জেলার মানুষের আয় ও জীবনমানও উন্নত হয়েছে।আগামীর সময়ে শিল্পনগরীতে পরিণত হবে হবিগঞ্জ।

মেলা - ২৩টি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নদনদী

পাকা রাস্তা - ৩২১ কিলোমিটার;

আধা-পাকা - ২০৫ কিলোমিটার এবং

কাঁচা রাস্তা - ১,৫৯২ কিলোমিটার;

রেলওয়ে - ১৭০ কিলোমিটার।

ঐতিহ্যবাহী পরিবহনঃ পালকি, গয়না নৌকা এবং গরুর গাড়ী।

এছাড়া সড়ক পথে এই জেলার সাথে দেশের অন্যান্য জেলার যোগাযোগ রয়েছে

★ বিভাগীয় শহর সিলেট থেকে হবিগঞ্জের দূরত্ব ৮২ কিলোমিটার।

★ রাজধানী ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের দূরত্ব ১৬৪ কিলোমিটার।

★ বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে হবিগঞ্জের দূরত্ব ৩০৮ কিলোমিটার।

হবিগঞ্জ জেলায় স্থলবন্দর রয়েছে ১টি। যথা- বাল্লা স্থলবন্দর।

হবিগঞ্জ জেলায় নৌ-থানা রয়েছে ২টি। যথা- মদনা ও মারকুলি।

হবিগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় প্রচুর নদী আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদীগুলো হলো :- কুশিয়ারা, খোয়াই, সুতাং, সাতাই, রত্না, শুটকী, কালনী, সোনাই, করাঙ্গী, ঝিংড়ী, ভেড়ামোহনা, বরাক, বিজনা, বলভদ্র প্রভৃতি।

হবিগঞ্জ-এর কৃতী সন্তান

সিলেট বিভাগের অন্য জেলা