· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
বাংলাদেশের সেরা · ঐতিহ্য ও শিল্প

পহেলা বৈশাখ

Pohela Boishakh

পহেলা বৈশাখ — বাংলা নববর্ষ

পহেলা বৈশাখ বা পয়লা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের শুরু হয়েছিল পুরান ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের হাতে। বাংলাদেশ ,ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামে ১৪ই এপ্রিলে নতুন বর্ষবরণের উৎসব পালন করা হয়। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ পালিত হয়।

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।

এই উৎসবটি শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হল “শুভ নববর্ষ”। নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলা দিনপঞ্জীর সাথে হিজরি এবং খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরী সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিস্টীয় সন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এ কারণে হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার পর আর খ্রিস্টীয় সনে নতুন দিন শুর হয় ইউটিসি±০০:০০ অনুযায়ী। পহেলা বৈশাখ রাত ১২টা থেকে শুরু না হয়ে সূর্যোদয় থেকে শুরু এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, ঐতিহ্যগত ভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২:০০টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে।

ইতিহাস

বাংলা ভাষায় ‘পহেলা’ শব্দের অর্থ ‘প্রথম’। আর ‘বৈশাখ’ হলো বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস। ফলে ‘পহেলা বৈশাখ’ দ্বারা বাংলা বর্ষের প্রথম দিনকে বোঝানো হয়। বাংলা নতুন বছরকে বাংলায় ‘নববর্ষ’ বলা হয়, যেখানে ‘নব’ শব্দের অর্থ নতুন এবং ‘বর্ষ’ শব্দের অর্থ বছর।

মুঘল শাসনামলে বাঙালি জনগণের কাছ থেকে ভূমি কর আদায় করা হতো ইসলামী হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী। এই পঞ্জিকাটি ছিল একটি চন্দ্র পঞ্জিকা; ফলে এর নববর্ষ সৌর কৃষি চক্রের সঙ্গে মিলত না। কিছু সূত্র অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আকবর-এর শাসনকালে বঙ্গ অঞ্চলে এই উৎসবের প্রচলন হয়, যাতে ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে করবর্ষের সামঞ্জস্য রাখা যায়। তখন বাংলা বছরকে বঙ্গাব্দ নামে অভিহিত করা হয়। আকবর তার রাজকীয় জ্যোতির্বিদ ফতুল্লাহ শিরাজীকে নির্দেশ দেন একটি নতুন পঞ্জিকা প্রণয়নের জন্য, যেখানে প্রচলিত চন্দ্রভিত্তিক হিজরি পঞ্জিকা এবং সৌরভিত্তিক হিন্দু পঞ্জিকাকে সমন্বয় করা হয়। এই পঞ্জিকাটি ‘ফসলি সন’ (ফসলের পঞ্জিকা) নামে পরিচিত ছিল। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, এর মাধ্যমেই বাংলা পঞ্জিকার সূচনা ঘটে। শামসুজ্জামান খান-এর মতে, মুঘল গভর্নর নবাব মুর্শিদ কুলি খান সম্ভবত প্রথম ‘পুণ্যাহ’ প্রথা চালু করেন, যা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি কর আদায়ের একটি দিন। তিনি আকবরের রাজস্বনীতি অনুসরণ করে বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার শুরু করেন।

শামসুজ্জামান খান এবং নীতীশ সেনগুপ্ত-এর মতে, বাংলা পঞ্জিকার উৎপত্তি স্পষ্ট নয়। শামসুজ্জামানের মতে, এটিকে ‘বাংলা সন’ বা ‘সাল’ বলা হয়, যা যথাক্রমে আরবি (سن) এবং ফারসি (سال) শব্দ। এ থেকে ধারণা করা যায় যে এটি কোনো মুসলিম রাজা বা সুলতানের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়েছিল। অন্যদিকে, সেনগুপ্তের মতে এর প্রথাগত নাম ‘বাংলাব্দ’। এছাড়া, এটি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ না আকবর—কার আমলে চালু হয়েছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। সেনগুপ্তের মতে, আকবরের পূর্বেই হোসেন শাহ বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার শুরু করে থাকতে পারেন। যেই এটি প্রবর্তন করে থাকুন না কেন, সেনগুপ্ত উল্লেখ করেন যে বাংলা পঞ্জিকা ও নববর্ষ প্রবর্তনের ফলে বসন্তকালের ফসল তোলার পর সহজে ভূমি কর আদায় করা সম্ভব হয়। কারণ ইসলামী হিজরি পঞ্জিকার কারণে কর সংগ্রহের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতো। কিছু মত অনুযায়ী, বর্তমান বাংলা পঞ্জিকার সূচনা হিজরত-এর বছর থেকে, অর্থাৎ ইসলাম-এর শেষ নবী মুহাম্মদ-এর মক্কা থেকে মদিনায় গমনের সময় থেকে গণনা শুরু হয়।

বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর উদ্‌যাপনের সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় পুরান ঢাকার মহিফরাশ এলাকার বাঙালি মুসলমান মাছ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে। মুঘল আমলে মহিফরাশরা আজিমপুর এলাকায় তাদের নিজস্ব মাঠে চাষাবাদ মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে ভোজ ও নৈশভোজের আয়োজন করত। এই দিনব্যাপী ভোজ-উৎসবই পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের পূর্বসূরি হিসেবে বিবর্তিত হয়।

কিছু ইতিহাসবিদ বাংলা পঞ্জিকার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীর ভারতীয় রাজা শশাঙ্ক-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। ‘বাংলাব্দ’ শব্দটি আকবর-এর সময়ের বহু পূর্বে নির্মিত দুটি শিব মন্দিরে পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা হয় যে বাংলা পঞ্জিকা আকবরের আগেই প্রচলিত ছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীর পূর্বে বঙ্গ অঞ্চলে বিস্তৃত বিভিন্ন রাজবংশ বিক্রম সম্বৎ বা বিক্রমী পঞ্জিকা ব্যবহার করত। পাল সাম্রাজ্য আমলে রচিত বৌদ্ধ গ্রন্থ ও শিলালিপিতে ‘বিক্রম’ এবং অশ্বিন মাসের মতো নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য সংস্কৃত গ্রন্থেও দেখা যায়।

গ্রামীণ বাঙালি সমাজে, অন্যান্য অনেক অঞ্চল ও নেপাল-এর মতোই বাংলা পঞ্জিকাকে “বিক্রমাদিত্য”-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়। তবে, এসব অঞ্চলে যেখানে পঞ্জিকার সূচনা ৫৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ধরা হয়, সেখানে বাংলা পঞ্জিকার সূচনা ধরা হয় ৫৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে। এতে ধারণা করা হয় যে কোনো এক সময়ে এর সূচনাবর্ষ পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে পুরোনো বাংলা পঞ্জিকাটি ১৯৬৬ সালে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ-এর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে সংশোধন করা হয়। এতে প্রথম পাঁচটি মাসকে ৩১ দিন এবং বাকি মাসগুলোকে ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অধিবর্ষে ফাল্গুন মাসকে ৩১ দিনে নির্ধারণ করা হয়। এই সংশোধিত পঞ্জিকাটি বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। এরপর থেকে জাতীয় পঞ্জিকার প্রথম দিন থেকেই বছর শুরু হয় এবং নববর্ষ উৎসব সবসময় ১৪ এপ্রিল পালিত হয়। ২০১৮–১৯ সালে পঞ্জিকায় আবারও সংশোধন আনা হয়। এতে সাধারণ বছরে ফাল্গুন মাস ২৯ দিন এবং অধিবর্ষে ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়, যাতে এটি গ্রেগরীয় পঞ্জিকার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তবে নববর্ষ উদ্‌যাপনের তারিখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল, অপরিবর্তিত রাখা হয়।

ভারতে ব্যবহৃত বাংলা পঞ্জিকা এখনও হিন্দু পঞ্জিকা পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি বিভিন্ন বাঙালি হিন্দু উৎসবের তারিখ নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের বাঙালিদের জন্য এই উৎসব প্রতি বছর ১৪ বা ১৫ এপ্রিল পালিত হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলা পঞ্জিকা সূর্যসিদ্ধান্ত নামক সংস্কৃত গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মাসগুলোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত নাম সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে প্রথম মাস হলো বৈশাখ।

পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন

নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পরে এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মোটামুটি সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায়, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন। অনেক স্থানে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এই দিনের একটি পুরনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর মধ্যে নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তি একসময় প্রচলিত ছিল। বাংলাদেশে এরকম কুস্তির সবচেয়ে বড় আসরটি হয় ১২ বৈশাখ, চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে, যা জব্বারের বলি খেলা নামে পরিচিত।

পশ্চিমবঙ্গে মহাসমারোহে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষারম্ভ পয়লা বৈশাখ। বঙ্গাব্দের প্রথম দিনটিতে বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সাথে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে সমগ্র পশ্চিম বাংলায়। বাংলার গ্রামীণ এবং নাগরিক জীবনের মেলবন্ধন সাধিত হয়ে সকলে একসূত্রে বাঁধা পড়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দে। সারা চৈত্র মাস জুড়েই চলতে থাকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুব সংক্রান্তির দিন পালিত হয় গাজন উৎসব উপলক্ষ্যে চড়ক পূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হয় চড়ক মেলা। এই মেলায় অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসী বা ভক্তগণ বিভিন্ন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে আরাধ্য দেবতার সন্তোষ প্রদানের চেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করে থাকেন।

এছাড়া, বহু পরিবারে বর্ষশেষের দিন টক এবং তিতা ব্যঞ্জন ভক্ষণ করে সম্পর্কের সকল তিক্ততা ও অম্লতা বর্জন করার প্রতীকী প্রথা একবিংশ শতাব্দীতেও বিদ্যমান। পরের দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ প্রতিটি পরিবারে স্নান সেরে বয়ঃজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করার রীতি বহুলপ্রচলিত। বাড়িতে বাড়িতে এবং সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে মিষ্টান্ন ভোজন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকাংশই এদিন থেকে তাদের ব্যবসায়িক হিসেবের নতুন খাতার উদ্বোধন করে, যার পোশাকি নাম হালখাতা । এই উপলক্ষ্যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে মঙ্গলদাত্রী লক্ষ্মী ও সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা করা হয়। নতুন খাতায় মঙ্গলচিহ্ন স্বস্তিকা আঁকা হয়ে থাকে।

গ্রামাঞ্চলে এবং কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন মন্দির ও অন্যান্য প্রাঙ্গণে পয়লা বৈশাখ থেকে আরম্ভ হয় বৈশাখী মেলা। এই মেলা সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়। আগেকার সময় পয়লা বৈশাখের দিনে জমির মালিকরা নিজের অঞ্চলে মিষ্টি বিতরণ করতেন। পরে এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। আকবরের সময় এই দিনে একটি হালখাতা তৈরি করা হত। গ্রাম বা শহরে পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হত। হালখাতার দিনে দোকানদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও সোনার দোকানে আছে। আধুনিক নববর্ষ উদ্‌যাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পয়লা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।