- শুক্রবার হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে তা স্থগিত করা হয়।
- ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে পুতিনের কাছে নতি স্বীকার বলে সমালোচনা করছেন ডেমোক্র্যাটরা।
- যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
- ট্রাম্প গত মাসে রাশিয়ার ওপর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার আইনে সই করেছিলেন।
- শুক্রবার হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে তা স্থগিত করা হয়।
- ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে পুতিনের কাছে নতি স্বীকার বলে সমালোচনা করছেন ডেমোক্র্যাটরা।
- যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের এক দিন আগেই তা স্থগিত করেছেন। গত মাসে রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রেখে একটি আইনে সই করেছিলেন তিনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউস এক নির্বাহী আদেশ জারি করে এই স্থগিতাদেশ দেয়।
আরও পড়ুনঢাকা-সৌদি ফ্লাইট বাতিল: হুথি হামলায় আটকা ১৭,৭০১ যাত্রীট্রাম্প ওই নির্বাহী আদেশে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের ওপর এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বা তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধরত রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতেই ওই আইন পাস হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি রাশিয়ার প্রতি নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। বিপরীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে আসছেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন নেতা নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোক্তারা চাপে রয়েছেন। তাই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন আইনটির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারত। আইন কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনত, তাদের পণ্যেও এ শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার। তাঁর অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে বেয়ার বলেন, ‘পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আবারও আমাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের শাস্তি দিতে প্রণীত আইনটির বিষয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অভিপ্রায়কেও তিনি উপেক্ষা করেছেন।’
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল নিয়ে একটি চুক্তির কারণেও কয়েকজন মার্কিন সিনেটরের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সদস্যরাও ছিলেন। ওই চুক্তিতে রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছিলেন ট্রাম্প। বিনিময়ে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানির দাম কমানো।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন






