- মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় শত শত ধূসর কবুতর।
- প্রায় সাতশো বছর ধরে এই দৃশ্য প্রায় একই রকম।
- এটি হজরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজার, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত আধ্যাত্মিক স্থানগুলোর একটি।
সিলেট শহরের উত্তরে একটি ছোট্ট টিলা। ভোরের আলো ফোটার আগেই সেখানে মানুষের ভিড়। দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষ, কারো হাতে মোমবাতি, কারো চোখে জল। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় শত শত ধূসর কবুতর। প্রায় সাতশো বছর ধরে এই দৃশ্য প্রায় একই রকম। এটি হজরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজার, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত আধ্যাত্মিক স্থানগুলোর একটি। কে ছিলেন এই মানুষটি? কোথা থেকে, কেন এসেছিলেন সুদূর এই পাহাড়ি অঞ্চলে? আর কীভাবে একটি অঞ্চল, যেখানে একসময় ইসলামের অনুসারী ছিল হাতেগোনা, সেই অঞ্চল হয়ে উঠল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ? আমি কালারস অব বাংলাদেশ থেকে বলছি। আজ আমরা খুঁজব বাংলায় ইসলামের আগমনের দীর্ঘ ইতিহাস, আর সেই ইতিহাসে হজরত শাহজালালের স্থান। শুরুতেই একটি কথা। এই গল্পের একটি অংশ লিখিত ইতিহাস, আরেকটি অংশ শতাব্দী ধরে মুখে মুখে চলে আসা ঐতিহ্য আর কিংবদন্তি। দুটোই আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা চেষ্টা করব কোনটি প্রামাণ্য নথি থেকে আর কোনটি প্রচলিত বিশ্বাস থেকে, তা পরিষ্কার করে বলতে।
আরও পড়ুনকক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ড: মালিক তানভীর প্রধান আসামি, ম্যানেজার গ্রেফতারপ্রথম অধ্যায়: সমুদ্রের পথে প্রথম আলো। শাহজালালের আগমনের অনেক আগেই ইসলাম বাংলার উপকূলে পৌঁছেছিল, সমুদ্রপথে। সপ্তম আর অষ্টম শতাব্দী থেকেই আরব বণিকরা বাণিজ্য করতেন ভারত মহাসাগরজুড়ে, মালাবার উপকূল থেকে চীন পর্যন্ত। আরব ভূগোলবিদদের লেখায় পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের বন্দরগুলোর কথা। ইতিহাসবিদদের অনেকে মনে করেন, চট্টগ্রাম ছিল তাদের পরিচিত একটি বন্দর। প্রত্নতত্ত্বও এর সাক্ষ্য দেয়। নওগাঁর পাহাড়পুর আর কুমিল্লার ময়নামতির প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারে খননকাজের সময় পাওয়া গেছে আব্বাসীয় খলিফাদের আমলের রুপার মুদ্রা, যার একটি খলিফা হারুনুর রশিদের সময়ের বলে শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ নবম শতাব্দীতেই বাংলার সাথে মুসলিম বিশ্বের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। এরপর আসেন সুফি সাধকরা। ঐতিহ্য অনুযায়ী এগারো আর বারো শতকে কয়েকজন সাধক বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আসেন, যেমন নেত্রকোনায় শাহ সুলতান রুমি, রাজশাহীতে শাহ মখদুম রূপোশ, বিক্রমপুরে বাবা আদম শহীদ। তাদের আগমনের সঠিক সময় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু তারা প্রমাণ করেন, রাজনৈতিক বিজয়ের আগেই বাংলায় ইসলামের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উপস্থিতি শুরু হয়েছিল।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আঠারো জন অশ্বারোহী। বারোশো চার সালের কাছাকাছি। তুর্কি সেনানায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি মাত্র অল্প কয়েকজন অশ্বারোহী নিয়ে হঠাৎ প্রবেশ করেন নদীয়ায়, সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজধানীতে। ঐতিহাসিক মিনহাজ উস সিরাজের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে তার সাথে ছিল মাত্র আঠারো জন। বৃদ্ধ রাজা প্রাসাদের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান পূর্ব বাংলার দিকে। এভাবে উত্তর ও পশ্চিম বাংলায় শুরু হয় মুসলিম শাসন, যার কেন্দ্র ছিল লখনৌতি বা গৌড়। পরের এক শতাব্দী ধরে দিল্লির সুলতানদের অধীনে, কখনো প্রায় স্বাধীনভাবে, বিভিন্ন শাসক বাংলা শাসন করেন। কিন্তু পূর্ব আর উত্তর পূর্বের বড় অংশ, বিশেষ করে সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল, তখনো ছিল স্থানীয় রাজাদের হাতে।
তৃতীয় অধ্যায়: ইয়েমেন থেকে সিলেট। হজরত শাহজালালের জীবনের প্রথম অংশ নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, তার জন্ম তেরো শতকে, আর তিনি এসেছিলেন আরব বিশ্ব থেকে, বিশেষ করে ইয়েমেন অঞ্চল থেকে। কিছু সূত্রে তুরস্কের কোনিয়ার কথাও আছে। তিনি ছিলেন সুফি সাধক, আর আজীবন অবিবাহিত থাকায় তার নামের সাথে যুক্ত হয় মুজাররদ, অর্থাৎ নিঃসঙ্গ সাধক। ঐতিহ্য অনুযায়ী, তার মামা ও আধ্যাত্মিক গুরু সৈয়দ আহমদ কবির তাকে এক মুঠো মাটি দিয়ে বলেছিলেন, যেখানে এই মাটির রং, গন্ধ আর স্বাদ মিলবে, সেখানেই স্থায়ী হতে। এই মাটির সন্ধানে তিনি যাত্রা শুরু করেন পূর্বের দিকে। পথে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তার সাথে যোগ দেন অনেক অনুসারী। দিল্লিতে তার সাক্ষাৎ হয় বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সাথে।
প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাকে উপহার দিয়েছিলেন এক জোড়া ধূসর রঙের কবুতর। সিলেটের মাজারে আজও যে অসংখ্য কবুতর দেখা যায়, যাদের স্থানীয়রা বলেন জালালি কবুতর, বিশ্বাস করা হয় তারা সেই কবুতরেরই বংশধর। এটি একটি ঐতিহ্যগত বিশ্বাস, কিন্তু সিলেটের মানুষের কাছে এই কবুতর আজও পবিত্র, কেউ এদের শিকার করে না। চতুর্থ অধ্যায়: শ্রীহট্ট বিজয়। তেরো শতকের শেষে সিলেট, তখনকার নাম শ্রীহট্ট, শাসন করতেন রাজা গৌড় গোবিন্দ। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে বসবাসকারী একজন মুসলিম, বুরহান উদ্দিন, তার সন্তানের জন্মের আনন্দে একটি গরু জবাই করেন। এতে রাজা ক্ষুব্ধ হয়ে কঠোর শাস্তি দেন। বুরহান উদ্দিন বাংলার সুলতানের দরবারে বিচার চাইতে যান। বাংলার সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সিলেট অভিযানে সেনা পাঠান। প্রথম দিকের অভিযান ব্যর্থ হয়। তারপর অভিযানের নেতৃত্বে আসেন সিকান্দার খান গাজি, আর সেনাপতি নাসিরুদ্দিন সিপাহসালার। ঠিক এই সময়ে হজরত শাহজালাল তার অনুসারীদের নিয়ে এসে পৌঁছান এবং অভিযানে যোগ দেন। প্রচলিত হিসাবে তার সাথে ছিলেন তিনশো ষাট জন সঙ্গী, যাদের বলা হয় তিনশো ষাট আউলিয়া।
গৌড় গোবিন্দের বাহিনী পরাজিত হয়, আর শ্রীহট্ট চলে আসে বাংলার সুলতানের অধীনে। ঐতিহ্য অনুযায়ী এই বিজয় হয়েছিল তেরোশো তিন খ্রিস্টাব্দে, হিজরি সাতশো তিন সালে। আর এই তারিখের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও আছে। সিলেটে পাওয়া পরবর্তী সুলতানি আমলের একটি ফারসি শিলালিপিতে সিকান্দার খান গাজির হাতে শ্রীহট্ট বিজয় আর শাহজালালের নাম উল্লেখ আছে। বিজয়ের পর শাহজালাল সিলেটেই থেকে যান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানকার মাটি মিলে গিয়েছিল তার গুরুর দেওয়া সেই মাটির সাথে। তিনি একটি খানকাহ বা আধ্যাত্মিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে মানুষ আসত শিক্ষা, আশ্রয় আর খাবারের জন্য। তার সঙ্গীরা ছড়িয়ে পড়েন সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা আর আশপাশের অঞ্চলে। তাদের অনেকের নামে আজও আছে মাজার, মসজিদ আর জনপদ।
পঞ্চম অধ্যায়: ইবনে বতুতার সাক্ষ্য। শাহজালাল সম্পর্কে সবচেয়ে মূল্যবান সমসাময়িক প্রমাণটি এসেছে এক বিশ্বপর্যটকের কলম থেকে। মরক্কোর ইবনে বতুতা, যিনি প্রায় তিরিশ বছর ধরে ঘুরে বেড়িয়েছেন আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত আর চীন। তেরোশো পঁয়তাল্লিশ সালের কাছাকাছি তিনি সমুদ্রপথে বাংলায় আসেন, আর বিশেষভাবে যাত্রা করেন কামরূপের পাহাড়ের দিকে, একজন বিখ্যাত সাধকের সাথে দেখা করতে। তার ভ্রমণকাহিনী রিহলায় ইবনে বতুতা লিখেছেন, এই সাধক ছিলেন বিখ্যাত শায়খ জালালুদ্দিন। তিনি বর্ণনা দেন একজন বয়স্ক, দীর্ঘদেহী, ক্ষীণকায় মানুষের, যিনি দিনের পর দিন রোজা রাখতেন আর রাত কাটাতেন ইবাদতে। ইবনে বতুতা লেখেন, তার হাতে এই অঞ্চলের বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। শায়খ তাকে নিজের পরিহিত একটি ছাগলের পশমের চাদর উপহার দিয়েছিলেন।
ইবনে বতুতার এই বিবরণ শুধু শাহজালালের অস্তিত্ব আর প্রভাবের প্রমাণ নয়, এটি দেখায় চোদ্দ শতকেই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সমুদ্র পেরিয়ে। ইবনে বতুতার সাথে সাক্ষাতের অল্প পরেই, তেরোশো ছেচল্লিশ বা সাতচল্লিশ সালের দিকে, তার ইন্তেকাল হয় বলে ধারণা করা হয়। সিলেটে তার খানকাহর পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। ষষ্ঠ অধ্যায়: সুলতানি বাংলা। শাহজালালের মৃত্যুর কয়েক বছর পর, তেরোশো বাহান্ন সালে, শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ প্রথমবারের মতো বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে এক শাসনের অধীনে আনেন। তিনি নিজেকে উপাধি দেন শাহ ই বাঙ্গালাহ, বাংলার শাহ। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, এখান থেকেই একটি অভিন্ন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে বাংলার পরিচয় দৃঢ় হতে শুরু করে। স্বাধীন সুলতানি আমলে বাংলায় গড়ে ওঠে অসাধারণ সব স্থাপত্য। গৌড় আর পাণ্ডুয়ার মসজিদ, আর বাগেরহাটে খান জাহান আলীর তৈরি ষাট গম্বুজ মসজিদ, যা আজ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য। মজার ব্যাপার, এই মসজিদগুলোর অনেক নকশায় দেখা যায় বাংলার কুঁড়েঘরের বাঁকানো চালের অনুকরণ। অর্থাৎ ইসলাম এখানে এসে মিশে গিয়েছিল বাংলার নিজস্ব রূপের সাথে।
সুলতানরা বাংলা ভাষা আর সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বিশেষ করে হোসেন শাহি আমলে সংস্কৃত মহাভারত আর রামায়ণের বাংলা অনুবাদে উৎসাহ দেওয়া হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিকাশে সুলতানি দরবারের অবদান ইতিহাসবিদরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। সতেরো শতকে মুঘল আমলে ঢাকা হয়ে ওঠে বাংলার রাজধানী, নাম জাহাঙ্গীরনগর। সপ্তম অধ্যায়: কেন পূর্ব বাংলা? একটি বড় প্রশ্ন বহুদিন ইতিহাসবিদদের ভাবিয়েছে। মুসলিম শাসনের কেন্দ্র ছিল দিল্লি আর পশ্চিম বাংলার গৌড়। তাহলে কেন মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলো পূর্ব বাংলায়, রাজধানী থেকে দূরে? আঠারোশো বাহাত্তর সালে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম আদমশুমারি যখন দেখাল পূর্ব বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন ব্রিটিশরা নিজেরাই অবাক হয়েছিল। মার্কিন ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটন তার গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ষোলো আর সতেরো শতকে নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ায় পূর্ব বাংলার বিশাল এলাকা চাষযোগ্য হয়ে ওঠে। ঘন জঙ্গল কেটে নতুন বসতি আর ধানক্ষেত তৈরি হয়। আর এই জঙ্গল কাটা আর বসতি স্থাপনের নেতৃত্বে প্রায়ই থাকতেন পীর ও সুফি সাধকরা, যারা মসজিদ আর খানকাহ ঘিরে গড়ে তুলতেন নতুন জনপদ।
ইটনের মতে, এই কৃষি সম্প্রসারণের সাথে সাথে ধীরে ধীরে, কয়েক প্রজন্ম ধরে, স্থানীয় কৃষক সমাজ ইসলামের সাথে যুক্ত হয়। তরবারি দিয়ে নয়, বরং কৃষি, বসতি আর আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। এই ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক আছে, তবে এটি বাংলায় ইসলাম বিস্তারের সবচেয়ে প্রভাবশালী গবেষণাগুলোর একটি। আর এই গল্পে সুফি সাধকদের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। অষ্টম অধ্যায়: আজকের সিলেট। আজ হজরত শাহজালালের মাজারে প্রতিদিন আসেন হাজারো মানুষ। শুধু মুসলমান নন, অন্য ধর্মের মানুষও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে। মাজার প্রাঙ্গণের পুকুরে আছে বড় বড় গজার মাছ, যাদের নিয়েও প্রচলিত আছে নানা বিশ্বাস। কাছেই আছে তার ভাগ্নে বলে পরিচিত হজরত শাহ পরানের মাজার। তার নামে নামকরণ করা হয়েছে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সিলেটে আছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আর সিলেটকে অনেকে ভালোবেসে ডাকেন তিনশো ষাট আউলিয়ার দেশ। সিলেটের প্রবাসী সমাজ, যারা যুক্তরাজ্যসহ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন, তাদের কাছেও এই মাজার শিকড়ের প্রতীক।
তবে আলেম সমাজের অনেকেই মনে করিয়ে দেন, সুফি সাধকদের প্রতি শ্রদ্ধার আসল প্রকাশ হলো তাদের শিক্ষা অনুসরণ করা, সহজ জীবন, মানুষের সেবা, আর আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা। মাজারকে ঘিরে যেকোনো কুসংস্কার বা শরিয়তবিরোধী কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও তারা জানান। শাহজালালের জীবন নিজেই ছিল সাদাসিধে, ইবনে বতুতার বর্ণনায় যিনি রোজা আর ইবাদতে দিন কাটাতেন। শেষ কথা। আজ বাংলাদেশের প্রায় একানব্বই শতাংশ মানুষ মুসলমান, দুই হাজার বাইশ সালের জনশুমারি অনুযায়ী। এই পরিচয় একদিনে তৈরি হয়নি। আরব বণিকদের জাহাজ, সুফি সাধকদের পদযাত্রা, সুলতানদের শাসন, কৃষকের লাঙল, সব মিলিয়ে এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ের গল্প। আর সেই গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি হজরত শাহজালাল। সাতশো বছর আগে এক মুঠো মাটির সন্ধানে যে মানুষটি পাড়ি দিয়েছিলেন হাজার মাইল, তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন সিলেটের সবুজ টিলা। আর সিলেট খুঁজে পেয়েছিল এমন একজনকে, যার নাম আজও উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধার সাথে, প্রতিটি ভোরে, কবুতরের ডানার শব্দের সাথে।
এই প্রতিবেদনের তথ্য ইবনে বতুতার রিহলা, মিনহাজ উস সিরাজের তবকাত ই নাসিরি, বাংলাপিডিয়া, রিচার্ড ইটনের গবেষণা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি থেকে নেওয়া। যেখানে তথ্য ঐতিহ্য বা প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে আমরা তা উল্লেখ করেছি। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এমন আরো গল্প দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন কালারস অব বাংলাদেশ।
পুরো ডকুমেন্টারি দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।
কালারস অব বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি। ছবি ও তথ্যসূত্র ভিডিওর ভেতরে উল্লেখ করা আছে।






