গ্রামীণ ঋণে বাড়ছে কিস্তির চাপ, আয়ের ৭৯% খরচ হচ্ছে পরিশোধে
- দরিদ্রতম ২০% পরিবারের আয়ের ৭৯ শতাংশ এখন ঋণের কিস্তি শোধে ব্যয় হয়, যা আগে ছিল ৪৯ শতাংশ।
- প্রতি চারটি ঋণের তিনটিই এসএমই-ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়, যার কার্যকর সুদ ২৭ শতাংশ।
- কৃষি খাতে ঋণের অংশ ২৫% থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
- গ্রামীণ ঋণ গ্রহীতা পরিবারের হার এক বছরে ৩৬% থেকে বেড়ে ৪২% হয়েছে।
- দরিদ্রতম ২০% পরিবারের আয়ের ৭৯ শতাংশ এখন ঋণের কিস্তি শোধে ব্যয় হয়, যা আগে ছিল ৪৯ শতাংশ।
- প্রতি চারটি ঋণের তিনটিই এসএমই-ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়, যার কার্যকর সুদ ২৭ শতাংশ।
- কৃষি খাতে ঋণের অংশ ২৫% থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
গ্রামীণ এলাকায় ঋণনির্ভরতা বাড়লেও কিস্তির চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক কাজী ইকবালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণ নেওয়া গ্রামীণ পরিবারের হার গত এক বছরে ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। গত সোমবার ‘ফিন্যান্সিং ফুড সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ: এভিডেন্স অ্যান্ড পলিসি ডায়ালগ’ শীর্ষক সংলাপে এ গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুনডিএনসিসি প্রশাসক বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা রাখেনগবেষণা অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ যত বেড়েছে, কিস্তি পরিশোধের চাপ বেড়েছে আরও বেশি করে। বিশেষ করে দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবারের আয়ের ৭৯ শতাংশই এখন ঋণের কিস্তি শোধে খরচ হয়। অথচ আগে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এসব পরিবারের হাতে সংসার চালানোর মতো অর্থও থাকছে না।
গবেষক কাজী ইকবালের মতে, ব্যাংকগুলো সরাসরি কৃষকদের ঋণ না দিয়ে মূলত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করছে। ফলে গ্রামীণ ঋণের বাজারে ব্যাংকের সরাসরি ভূমিকা কমেছে এবং এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। গ্রামে প্রতি চারটি ঋণের মধ্যে তিনটিই আসে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে।
এনজিওর ঋণে ফ্ল্যাট পদ্ধতিতে সুদ ১৫ শতাংশ ধরা হলেও কার্যকর সুদ দাঁড়ায় প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংকঋণের সুদ ১০ শতাংশ এবং মহাজনি ঋণে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। গবেষণায় উঠে এসেছে, এক দশকেও এসব ঋণের সুদের হার কমেনি। ঋণদাতা বাড়লেও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি।
গ্রামীণ ঋণের পরিমাণ বাড়লেও কৃষি খাতে এর অংশ আগের ২৫ শতাংশ থেকে কমে এখন ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কৃষিঋণের অর্থ মূলত সার, বীজ, গবাদিপশু কেনা ও জমি ইজারায় ব্যয় হয়, কিন্তু কৃষিযন্ত্র কেনায় ব্যবহার তুলনামূলক কম। জমির মালিকানা ঋণ চাহিদায় বড় ভূমিকা রাখে, ফলে জমিহীন কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ থেকে পিছিয়ে পড়েন।
কিস্তির সময়সূচিও সমস্যা বাড়াচ্ছে। এনজিওর কৃষিঋণে সাপ্তাহিকের বদলে মাসিক কিস্তি বেড়েছে, কিন্তু মৌসুমভিত্তিক পরিশোধের ব্যবস্থা স্থায়ী হয়নি। ফসল বিক্রির আগেই কিস্তি দিতে হলে কৃষকদের অন্য উৎস থেকে টাকা জোগাড় করতে হয়। সংলাপে উপস্থাপিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, গবাদিপশু পালনে মুনাফার সম্ভাবনা থাকলেও ঋণ নেওয়া কম, কারণ কিস্তির শর্ত ও আয়ের অনিশ্চয়তা।
কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক অর্থায়ন করে মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ। হারভেস্টার মালিকদের মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংকঋণে যন্ত্র কিনেছেন; বাকিরা ডিলার, আত্মীয়স্বজন ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করেন। গবেষণায় মৌসুমভিত্তিক কিস্তি ও অন্তত তিন বছরের মেয়াদে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা






