- এ বছরের প্রথম নয় মাসেই দেশে এসেছে চার হাজার ষাটটি প্রবাসীর মরদেহ।
- যাঁরা গিয়েছিলেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, তাঁরা ফিরছেন কফিনে।
- কালারস অব বাংলাদেশের ডেটা অনুসন্ধান, প্রবাসীর কফিন।
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রতিদিন নামছে কফিন। এ বছরের প্রথম নয় মাসেই দেশে এসেছে চার হাজার ষাটটি প্রবাসীর মরদেহ। দিনে গড়ে চৌদ্দটিরও বেশি। যাঁরা গিয়েছিলেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, তাঁরা ফিরছেন কফিনে। কালারস অব বাংলাদেশের ডেটা অনুসন্ধান, প্রবাসীর কফিন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের হিসাবে, দুই হাজার উনিশ সালে দেশে এসেছিল তিন হাজার ছয়শো একান্নটি মরদেহ। করোনার বছরে কিছুটা কমলেও এরপর থেকে প্রতিবছরই বাড়ছে। দুই হাজার চব্বিশে এসেছে রেকর্ড চার হাজার আটশো তেরোটি মরদেহ।
আরও পড়ুনমালয়েশিয়া সিন্ডিকেট: ২ লাখ ৬৭ হাজার কর্মীর কাছ থেকে ৪,৫৪৫ কোটি টাকা বাড়তি | Colours of Bangladeshউনিশশো তিরানব্বই থেকে দুই হাজার চব্বিশ পর্যন্ত দেশে ফিরেছে ছাপ্পান্ন হাজার সাতশো ঊনসত্তরটি মরদেহ। ছাপ্পান্ন হাজারেরও বেশি পরিবার, যাদের অপেক্ষা শেষ হয়েছে একটি কফিনে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু সৌদি আরবে। এ বছর সেখানেই মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি। মোট মরদেহের সত্তর শতাংশেরও বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এরপরই রয়েছে মালয়েশিয়া। মৃত্যুর কারণ কী? কাগজে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই লেখা স্বাভাবিক মৃত্যু। বাকিদের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলের দুর্ঘটনা, আগুন, উঁচু ভবন থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা বিদ্যুতায়িত হয়ে।
কিন্তু পঁচিশ-তিরিশ বছরের তরুণের স্বাভাবিক মৃত্যু কতটা স্বাভাবিক? অধিকারকর্মীরা বলছেন, মৃত্যুসনদে সাধারণত লেখা থাকে হার্ট অ্যাটাক। অথচ বিদেশে মৃত্যুর কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয় না। গবেষণা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ খাতে প্রচণ্ড গরমে দিনের বেলা কাজ করায় কিডনি, মস্তিষ্কসহ শরীরের নানা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনে সেই তাপ আরও বাড়ছে। অথচ বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ মাত্র তিন দিনের।
মরদেহ ফিরতেও লাগে দীর্ঘ সময়। কম্বোডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে টাইলসের নিচে চাপা পড়ে মারা যাওয়া পাবনার এক শ্রমিকের মরদেহ দেশে পৌঁছাতে লেগেছে প্রায় দেড় বছর। সে দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসই নেই। সরকার প্রতিটি মরদেহের দাফনে দেয় পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা, আর পরিবারকে তিন লাখ টাকা অনুদান। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই শুধু অনুদান বাবদ দেওয়া হয়েছে একষট্টি কোটি টাকার বেশি। অথচ এই প্রবাসীদের পাঠানো টাকাতেই গত অর্থবছরে দেশে এসেছে রেকর্ড সাড়ে পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলছেন, প্রতিবছর মৃত্যু বাড়ছে, প্রতিটি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ যাচাইয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। প্রতিটি কফিন একটি পরিবারের গল্প। কালারস অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রঙে সংবাদ, গল্প ও জীবন।
মূল তথ্য
- ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড
- প্রথম আলো, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৫
- বাংলাদেশ ব্যাংক (রেমিট্যান্স)
পুরো ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।
তথ্যসূত্র:






