· বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ · ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
লাইভ
ব্রেকিং
৭:২৪সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথি হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর৭:২৪সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথি হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর৪:৩৫পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবন ধসে নিহত ২ শ্রমিক, আহত ৩১:৩০দ্য পেপাল মাফিয়া: ইলন মাস্ক, পিটার থিয়েল ও বাংলাদেশি জাওয়েদ করিমের গল্প১২:০২সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরাতে সহায়তা চাইল সরকার৬:০০মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট: ২ লাখ ৬৭ হাজার কর্মীর কাছ থেকে ৪,৫৪৫ কোটি টাকা বাড়তি | Colours of Bangladesh৪:৫৫কুমিল্লায় মা বাজারে রেখে গেলেন দুই মেয়েকে, চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে৪:৫৪মাদারীপুরে জেলা জজের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ৪:৫৩ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা যন্তর মন্তরে আটক৪:৫২ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও আইফোন জব্দ৪:৫১চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যের বুকে ব্যথা, দুই চিকিৎসকের ভিন্ন মত৭:২৪সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথি হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর৭:২৪সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথি হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর৪:৩৫পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবন ধসে নিহত ২ শ্রমিক, আহত ৩১:৩০দ্য পেপাল মাফিয়া: ইলন মাস্ক, পিটার থিয়েল ও বাংলাদেশি জাওয়েদ করিমের গল্প১২:০২সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরাতে সহায়তা চাইল সরকার৬:০০মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট: ২ লাখ ৬৭ হাজার কর্মীর কাছ থেকে ৪,৫৪৫ কোটি টাকা বাড়তি | Colours of Bangladesh৪:৫৫কুমিল্লায় মা বাজারে রেখে গেলেন দুই মেয়েকে, চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে৪:৫৪মাদারীপুরে জেলা জজের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ৪:৫৩ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা যন্তর মন্তরে আটক৪:৫২ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও আইফোন জব্দ৪:৫১চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যের বুকে ব্যথা, দুই চিকিৎসকের ভিন্ন মত

ডকুমেন্টারি

দ্য পেপাল মাফিয়া: ইলন মাস্ক, পিটার থিয়েল ও বাংলাদেশি জাওয়েদ করিমের গল্প

একটি ছোট অনলাইন পেমেন্ট কোম্পানি, পেপাল। ২০০২ সালে ইবের কাছে দেড় বিলিয়ন ডলারে বিক্রির পর এর সাবেক কর্মীরা গড়ে তোলেন টেসলা, স্পেসএক্স, ইউটিউব, লিংকডইন, ইয়েল্প, প্যালান্টির, আর ফেসবুকে আসে প্রথম বড় বিনিয়োগ। এই গল্পে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম, ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম ভিডিও "Me

ক
কালারস অব বাংলাদেশ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩০ এএম · পড়তে ৮ মিনিট · 👁 ৪ বার পঠিত
দ্য পেপাল মাফিয়া: ইলন মাস্ক, পিটার থিয়েল ও বাংলাদেশি জাওয়েদ করিমের গল্প
ডকুমেন্টারি: দ্য পেপাল মাফিয়া: ইলন মাস্ক, পিটার থিয়েল ও বাংলাদেশি জাওয়েদ করিমের গল্প · কালারস অব বাংলাদেশ
এক নজরে
  • সান ফ্রান্সিসকোর একটি ক্যাফেতে বসে আছেন তেরোজন মানুষ।
  • পরনে কালো চামড়ার জ্যাকেট, ভেলভেটের পোশাক, যেন হলিউডের কোনো মাফিয়া সিনেমার দৃশ্য।
  • তারা একসময় কাজ করতেন একটি ছোট অনলাইন পেমেন্ট কোম্পানিতে, নাম পেপাল।

দুই হাজার সাত সাল। আমেরিকার বিখ্যাত ব্যবসা পত্রিকা ফরচুন একটি ছবি ছাপে। সান ফ্রান্সিসকোর একটি ক্যাফেতে বসে আছেন তেরোজন মানুষ। পরনে কালো চামড়ার জ্যাকেট, ভেলভেটের পোশাক, যেন হলিউডের কোনো মাফিয়া সিনেমার দৃশ্য। শিরোনাম, দ্য পেপাল মাফিয়া। এই ছবির মানুষগুলো কোনো অপরাধী চক্র নয়। তারা একসময় কাজ করতেন একটি ছোট অনলাইন পেমেন্ট কোম্পানিতে, নাম পেপাল। কিন্তু পরের দুই দশকে এই মানুষগুলো আর তাদের বন্ধুরা যা গড়ে তুলেছেন, তার তালিকা শুনলে অবাক হতে হয়। টেসলা, স্পেসএক্স, ইউটিউব, লিংকডইন, ইয়েল্প, প্যালান্টির। আর ফেসবুকের প্রথম বড় বিনিয়োগও এসেছিল এদেরই একজনের কাছ থেকে। একটি কোম্পানি থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন মানুষ কীভাবে বদলে দিলেন আমাদের দেখা, শোনা, যোগাযোগ, এমনকি মহাকাশে যাওয়ার ধরন? আর এই গল্পে একজন মানুষ আছেন, যার শিকড় বাংলাদেশে। আমি কালারস অব বাংলাদেশ থেকে বলছি। আজ আমরা জানব পেপাল মাফিয়ার গল্প।

আরও পড়ুনসৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথি হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

প্রথম অধ্যায়: দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। উনিশশো আটানব্বই সাল। ইন্টারনেট তখন নতুন, কিন্তু অনলাইনে টাকা পাঠানো ছিল কঠিন আর অনিরাপদ। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বক্তৃতায় দেখা হয় দুজনের। একজন পিটার থিয়েল, দর্শনের ছাত্র থেকে আইনজীবী, তারপর বিনিয়োগকারী। অন্যজন ম্যাক্স লেভচিন, ইউক্রেন থেকে আসা এক তরুণ প্রোগ্রামার, বিশেষজ্ঞ তথ্য নিরাপত্তায়। তারা মিলে শুরু করেন কনফিনিটি নামে একটি কোম্পানি। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল হাতে ধরা কম্পিউটার, পাম পাইলটের মাধ্যমে টাকা পাঠানো। কিন্তু দেখা গেল, মানুষ ইমেইলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোতে বেশি আগ্রহী। জন্ম নিল পেপাল নামের পণ্যটি। ঠিক একই সময়ে, একই রাস্তার কয়েকটি ভবন দূরে, আরেক তরুণ একই স্বপ্ন দেখছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ইলন মাস্ক। তিনি আগের কোম্পানি জিপটু বিক্রি করে পাওয়া টাকায় শুরু করেছিলেন এক্স ডট কম, একটি অনলাইন ব্যাংক। দুটি কোম্পানির মধ্যে শুরু হয় তীব্র প্রতিযোগিতা। দুই পক্ষই গ্রাহক টানতে নতুন গ্রাহককে দশ বা বিশ ডলার করে উপহার দিচ্ছিল, আর পুড়ছিল কোটি কোটি ডলার।

দুই হাজার সালের মার্চে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মিলে যায় এক কোম্পানিতে। কিন্তু মিলনটা সহজ ছিল না। প্রযুক্তি কোন প্ল্যাটফর্মে চলবে, তা নিয়ে তীব্র বিরোধ। ইলন মাস্ক চাইছিলেন মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি, লেভচিনের দল চাইছিল ইউনিক্স। দুই হাজার সালের সেপ্টেম্বরে মাস্ক যখন হানিমুনে যাওয়ার পথে বিমানে, তখন বোর্ড তাকে প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়। দায়িত্বে আসেন পিটার থিয়েল। এই ঘটনা যেকোনো সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু মাস্ক কোম্পানি ছাড়েননি, রয়ে গেলেন বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে। আর এই সংঘাত, প্রতিযোগিতা আর প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াই একদল মানুষকে বেঁধে দিল এক অদ্ভুত বন্ধনে। তারা একসাথে লড়েছেন জালিয়াতির বিরুদ্ধে, নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে, আর ডটকম বুদবুদ ফেটে যাওয়ার ধাক্কার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: জালিয়াতির যুদ্ধ। পেপালের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল প্রতারকরা। চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা পাঠানো, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, সংগঠিত অপরাধী চক্র। এক সময় জালিয়াতিতে কোম্পানির ক্ষতি এত বেড়ে যায় যে মনে হচ্ছিল পুরো ব্যবসাই টিকবে না। এখানেই ম্যাক্স লেভচিনের দল তৈরি করে এক অসাধারণ সমাধান। কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্দেহজনক লেনদেন ধরবে, আর মানুষ বিশ্লেষক সেগুলো যাচাই করবেন। ওয়েবসাইটে লগইনের সময় বাঁকা অক্ষর পড়ে টাইপ করার যে পরীক্ষা আমরা আজ দেখি, যাকে ক্যাপচা বলে, তার প্রথম দিকের বাণিজ্যিক ব্যবহারগুলোর একটি ছিল পেপালে। মানুষ আর যন্ত্রের এই যৌথ পদ্ধতি পরে হয়ে উঠবে আরেকটি বিশাল কোম্পানির ভিত্তি। দুই হাজার দুই সালের ফেব্রুয়ারিতে পেপাল শেয়ারবাজারে আসে। আর কয়েক মাস পর, জুলাইয়ে, অনলাইন নিলামের সাইট ইবে পেপাল কিনে নেয় দেড়শো কোটি ডলারে। পেপালের প্রতিষ্ঠাতা আর প্রথম দিকের কর্মীরা হঠাৎ করে হয়ে গেলেন ধনী। কারো পকেটে কয়েক লাখ, কারো কোটি ডলার। ইলন মাস্ক, সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে, পান প্রায় সতেরো কোটি ডলার।

কিন্তু বড় কর্পোরেশনের সংস্কৃতিতে তারা মানিয়ে নিতে পারলেন না। কয়েক মাসের মধ্যে একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করলেন প্রায় সবাই। হাতে টাকা, মাথায় অভিজ্ঞতা, আর একে অপরের ওপর অগাধ আস্থা। সিলিকন ভ্যালির ইতিহাসে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। তৃতীয় অধ্যায়: মাফিয়ার জন্ম। ইলন মাস্ক তার টাকার প্রায় পুরোটা ঢেলে দেন দুটি স্বপ্নে, যেগুলোকে তখন সবাই পাগলামি বলেছিল। দুই হাজার দুই সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্পেসএক্স, মহাকাশে রকেট পাঠানোর কোম্পানি। আর দুই হাজার চার সালে বিনিয়োগ করেন টেসলা মোটরসে, বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি ছোট কোম্পানিতে, পরে হন এর প্রধান। দুই হাজার আট সালে দুটি কোম্পানিই প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে। স্পেসএক্সের প্রথম তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ। চতুর্থ উৎক্ষেপণের জন্য টাকা প্রায় শেষ। সেই সেপ্টেম্বরে চতুর্থ রকেট সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছায়। আর ডিসেম্বরে নাসার সাথে একটি বড় চুক্তি বাঁচিয়ে দেয় কোম্পানিকে। আর সেই কঠিন সময়ে স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করেছিল পেপালেরই পুরোনো বন্ধুদের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান।

পিটার থিয়েল শুরু করেন বিনিয়োগ। দুই হাজার চার সালে হার্ভার্ডের এক তরুণ ছাত্রের তৈরি একটি সামাজিক মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগ করেন পাঁচ লাখ ডলার, হয়ে যান সেই কোম্পানির প্রথম বড় বহিরাগত বিনিয়োগকারী। কোম্পানিটির নাম ফেসবুক। কয়েক বছরে সেই বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়ায় শত কোটি ডলারে। থিয়েল আরো প্রতিষ্ঠা করেন প্যালান্টির, পেপালের জালিয়াতি শনাক্তের সেই মানুষ ও যন্ত্রের যৌথ পদ্ধতিকে ভিত্তি করে। প্যালান্টির আজ বিশ্বের বিভিন্ন সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা আর বড় কোম্পানির জন্য তথ্য বিশ্লেষণের সফটওয়্যার তৈরি করে। নজরদারি আর গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও আছে এই কোম্পানি। পেপালের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রিড হফম্যান দুই হাজার দুই সালেই শুরু করেন লিংকডইন, পেশাজীবীদের সামাজিক নেটওয়ার্ক। দুই হাজার ষোল সালে মাইক্রোসফট লিংকডইন কিনে নেয় প্রায় দুই হাজার বাষট্টি কোটি ডলারে। হফম্যান পরিচিত হন সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে সংযুক্ত মানুষদের একজন হিসেবে।

চতুর্থ অধ্যায়: বাংলাদেশের শিকড়। পেপালে কাজ করতেন তিন তরুণ। চ্যাড হার্লি, ডিজাইনার, যিনি পেপালের লোগো তৈরি করেছিলেন। স্টিভ চেন, প্রোগ্রামার, তাইওয়ানে জন্ম। আর জাওয়েদ করিম, প্রোগ্রামার। জাওয়েদ করিমের জন্ম পূর্ব জার্মানিতে, উনিশশো উনআশি সালে। তার বাবা নাইমুল করিম একজন বাংলাদেশি গবেষক, আর মা ক্রিস্টিন একজন জার্মান বিজ্ঞানী। দুই হাজার পাঁচ সালের শুরুতে এই তিন বন্ধু মিলে তৈরি করেন একটি ওয়েবসাইট, যেখানে যে কেউ ভিডিও আপলোড করে সবার সাথে শেয়ার করতে পারবে। নাম দেন ইউটিউব। তেইশে এপ্রিল, দুই হাজার পাঁচ। ইউটিউবে আপলোড হয় প্রথম ভিডিওটি। উনিশ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন একজন তরুণ। নাম, মি অ্যাট দ্য জু। সেই তরুণ জাওয়েদ করিম।

মাত্র দেড় বছর পর, দুই হাজার ছয় সালের অক্টোবরে, গুগল ইউটিউব কিনে নেয় একশো পঁয়ষট্টি কোটি ডলারে, শেয়ারের মাধ্যমে। আজ ইউটিউব পৃথিবীর অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতি মাসে আসেন দুইশো কোটির বেশি মানুষ। আপনি এই মুহূর্তে যে ভিডিওটি দেখছেন, সেটিও সম্ভবত সেই প্ল্যাটফর্মেই। আর তার পেছনে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক প্রোগ্রামারের হাত। জাওয়েদ করিম বাকি দুজনের মতো প্রচারের আলোয় আসেননি। ইউটিউব প্রতিষ্ঠার পর তিনি পড়াশোনায় ফিরে যান স্ট্যানফোর্ডে। পরে নিজের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান খোলেন, যা বিনিয়োগ করেছে বিভিন্ন স্টার্টআপে, যেমন এয়ারবিএনবি-র প্রথম দিকে। চুপচাপ, অনেকটা নিভৃতচারী একজন মানুষ, যিনি তৈরি করেছেন পৃথিবীর অন্যতম কোলাহলপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। পঞ্চম অধ্যায়: আরো অনেক নাম। মাফিয়ার তালিকা এখানেই শেষ নয়। পেপালের সাবেক কর্মী জেরেমি স্টপেলম্যান আর রাসেল সিমন্স প্রতিষ্ঠা করেন ইয়েল্প, রেস্টুরেন্ট আর ব্যবসার রিভিউ প্ল্যাটফর্ম। ডেভিড স্যাকস প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ামার, যা মাইক্রোসফট কিনে নেয় প্রায় একশো বিশ কোটি ডলারে। পিটার থিয়েল, কেন হাওয়ারি আর লিউক নোসেক মিলে গড়েন ফাউন্ডারস ফান্ড, যা পরে বিনিয়োগ করে স্পেসএক্স, এয়ারবিএনবি-সহ বহু কোম্পানিতে।

কেন এই একটি কোম্পানি থেকে এত সফল উদ্যোক্তা বেরিয়ে এলেন? বিশ্লেষকরা কয়েকটি কারণ বলেন। প্রথমত, পেপাল নিয়োগ দিত অসাধারণ মেধাবী, কিন্তু প্রথাবিরোধী মানুষদের, অনেকে স্ট্যানফোর্ড আর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। দ্বিতীয়ত, প্রতিদিনের অস্তিত্বের লড়াই তাদের শিখিয়েছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে আর ঝুঁকি নিতে। তৃতীয়ত, ইবে বিক্রির টাকা তাদের দিয়েছিল নতুন কিছু শুরু করার স্বাধীনতা, ঠিক সেই সময়ে যখন ইন্টারনেটের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হচ্ছে। আর চতুর্থত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তারা একে অপরকে বিশ্বাস করতেন। একজন নতুন কোম্পানি খুললে অন্যরা বিনিয়োগ করতেন, পরামর্শ দিতেন, লোক পাঠাতেন। এটাই ছিল আসল মাফিয়া, বিশ্বাসের নেটওয়ার্ক। ষষ্ঠ অধ্যায়: ক্ষমতা আর বিতর্ক। বিশ বছর পর এই মাফিয়ার সদস্যরা শুধু প্রযুক্তি জগতে নয়, রাজনীতি আর সমাজেও বিশাল প্রভাবশালী। ইলন মাস্ক বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন, যিনি দুই হাজার বাইশ সালে কিনে নেন টুইটার, নাম বদলে রাখেন এক্স, পেপালের আগের সেই পুরোনো নাম। পিটার থিয়েল আর ডেভিড স্যাকস মার্কিন রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তাদের নিয়ে বিতর্কও কম নয়। কেউ বলেন তারা উদ্ভাবনের প্রতীক, যারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। কেউ সমালোচনা করেন, এত অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এত তথ্য, এত প্রযুক্তি আর এত রাজনৈতিক প্রভাব কেন্দ্রীভূত হওয়া গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি। সামাজিক মাধ্যম, নজরদারি প্রযুক্তি, মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবখানেই তাদের ছাপ। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই গল্পে কী শিক্ষা? প্রথমত, একটি ভালো দল আর একটি ভালো নেটওয়ার্ক একটি ভালো আইডিয়ার চেয়েও বেশি মূল্যবান। পেপালের আসল সম্পদ ছিল তার মানুষগুলো। দ্বিতীয়ত, ব্যর্থতা শেষ নয়। মাস্ককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, স্পেসএক্স তিনবার ব্যর্থ হয়েছিল। তৃতীয়ত, প্রথম সফলতার টাকা যারা আবার নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ করেন, তারাই একটি পুরো ইকোসিস্টেম গড়ে তোলেন।

আজ বাংলাদেশেও স্টার্টআপের সংখ্যা বাড়ছে। বিকাশ, পাঠাও, শিখো, চালডাল, এমন অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসছেন অভিজ্ঞ তরুণরা। হয়তো একদিন আমাদের দেশেও গড়ে উঠবে এমন একটি নেটওয়ার্ক, যেখানে একজনের সাফল্য জন্ম দেবে আরো দশটি কোম্পানির। আর হয়তো পরের জাওয়েদ করিম জন্ম নেবেন বাংলাদেশের মাটিতেই। এই প্রতিবেদনের তথ্য ফরচুন ম্যাগাজিন, কোম্পানিগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথি আর প্রতিষ্ঠাতাদের প্রকাশিত সাক্ষাৎকার ও বই থেকে নেওয়া। প্রযুক্তি আর ব্যবসার এমন গল্প দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন কালারস অব বাংলাদেশ। আর কমেন্টে জানান, পরের পর্বে কোন কোম্পানির গল্প শুনতে চান।

পুরো ডকুমেন্টারি দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।

সূত্র: ফরচুন (নভেম্বর ২০০৭), মার্কিন এসইসি নথি, ইবে, গুগল, মাইক্রোসফট ও স্পেসএক্সের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, ওয়াল্টার আইজ্যাকসন (Elon Musk, ২০২৩), প্রতিষ্ঠাতাদের প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।

ক
কালারস অব বাংলাদেশ

কালারস অব বাংলাদেশ · আন্তর্জাতিক বিভাগ

💬 আপনার মতামতফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন · ভদ্র ও প্রাসঙ্গিক মন্তব্য কাম্য