সিডনিতে গিটার নিয়ে শ্রোতা জয় করলেন নন্দিতা–শুভেন্দু
- এটি তাদের উদ্যোগ ‘মোজি অ্যান্ড কোং’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক সফরের অংশ।
- অনুষ্ঠানে শুধু একটি অ্যাকুস্টিক গিটার ছিল; গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কালজয়ী গান পরিবেশন করা হয়।
- আগের রাতে বৃষ্টির আবহে ‘মেঘলা আকাশ’ গান দিয়ে শুরু হয় আসর; শেষে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
- গত শনিবার সিডনির ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় নন্দিতা–শুভেন্দুর যৌথ সংগীত সন্ধ্যা।
- এটি তাদের উদ্যোগ ‘মোজি অ্যান্ড কোং’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক সফরের অংশ।
- অনুষ্ঠানে শুধু একটি অ্যাকুস্টিক গিটার ছিল; গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কালজয়ী গান পরিবেশন করা হয়।
- আগের রাতে বৃষ্টির আবহে ‘মেঘলা আকাশ’ গান দিয়ে শুরু হয় আসর; শেষে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
সিডনির ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটারে গত শনিবার সন্ধ্যায় এক অন্তরঙ্গ সংগীতসন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুগ্ধ করলেন সংগীতশিল্পী সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা ও শুভেন্দু দাস শুভ। মঞ্চে ছিল শুধু একটি অ্যাকুস্টিক গিটার; কোনো বড় বাদ্যযন্ত্রের দল বা জমকালো আয়োজন ছাড়াই গানের সুরে ভাসিয়ে নিলেন শ্রোতাদের।
আরও পড়ুনডিএনসিসি প্রশাসক বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা রাখেনএই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুই শিল্পীর যৌথ সংগীত উদ্যোগ ‘মোজি অ্যান্ড কোং’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। মিলনায়তনভর্তি দর্শকের সামনে একের পর এক পরিচিত গান পরিবেশন করেন তাঁরা; মাঝেমধ্যে শ্রোতাদের সঙ্গে কথাও বলেন। ঘরোয়া আবহে শিল্পী–শ্রোতার দূরত্ব যেন কমে গিয়েছিল।
আগের রাতে সিডনিতে বৃষ্টি হওয়ায় সেই আবহ ধরে নন্দিতা গেয়ে ওঠেন ‘মেঘলা আকাশ’। এরপর গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা কালজয়ী গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে শোনান দুই শিল্পী। আসরের শেষভাগে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশনের সময় মিলনায়তন আবেগঘন হয়ে ওঠে।
নন্দিতা ও শুভেন্দুর এই যাত্রা শুরু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে; পুরোনো দিনের বাংলা ও হিন্দি গান নতুনভাবে উপস্থাপনের ভাবনা থেকে ‘মোজি অ্যান্ড কোং’ প্রতিষ্ঠা করেন তাঁরা। কোক স্টুডিও বাংলার প্রথম মৌসুমে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বুলবুলি’ গানে আলোচনায় আসা নন্দিতার গানের সংগীতায়োজন করেছিলেন শুভেন্দু।
সম্প্রতি এ আর রহমানের সংগীতায়োজনে ‘স্বদেশ’ চলচ্চিত্রের ‘সাওয়ারিয়া’ গানটি নিজেদের মতো করে গেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়েন তাঁরা; গত জুলাইয়ে সেই ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন এ আর রহমান। এই স্বীকৃতি তাঁদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।
সিডনির আসর নিয়ে নন্দিতা বলেন, ‘সিডনির দর্শক এতটা সুর সচেতন ও গানের সঙ্গে মিশে যাবেন, তা আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ শুভেন্দু বলেন, ‘দর্শকের এই আন্তরিক ভালোবাসা ও উষ্ণতা অমূল্য।’ মূল পরিবেশনার আগে সিডনিপ্রবাসী শিল্পী হিমেল, মাশফিক, মিতুল ও আদিল গান শোনান।
অনুষ্ঠান শেষে দর্শক অনিতা বিশ্বাস বলেন, ‘কোনো বাড়তি ড্রাম বা অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল ছিল না; কেবল একটি গিটারের মিষ্টি সুরে পুরো মিলনায়তনের মানুষ মগ্ন হয়ে গান শুনেছেন।’ আয়োজক বেস্ট অব বেঙ্গলের তানিম মান্নান জানান, গানকে বাণিজ্যিক চাকচিক্য থেকে দূরে রেখে ঘরোয়া পরিবেশ তৈরি করাই ছিল লক্ষ্য।
সিডনির পর ২৫ অক্টোবর মেলবোর্নে ‘মোজি অ্যান্ড কোং’-এর পরবর্তী পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে; এরপর দেশে ফিরবেন দুই শিল্পী।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো






