- সবচেয়ে সরু জায়গায় এর প্রস্থ মাত্র তিরিশ কিলোমিটারের মতো।
- নাম বাব আল মান্দেব, আরবিতে যার অর্থ শোকের দরজা।
- আর এই শোকের দরজা দিয়েই প্রতিদিন যেত পৃথিবীর বাণিজ্যের একটি বড় অংশ, ইউরোপ আর এশিয়ার মাঝখানের সবচেয়ে ছোট পথ।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ মাথায় একটি সরু জলপথ। একপাশে ইয়েমেন, অন্যপাশে আফ্রিকার জিবুতি আর ইরিত্রিয়া। সবচেয়ে সরু জায়গায় এর প্রস্থ মাত্র তিরিশ কিলোমিটারের মতো। নাম বাব আল মান্দেব, আরবিতে যার অর্থ শোকের দরজা। আর এই শোকের দরজা দিয়েই প্রতিদিন যেত পৃথিবীর বাণিজ্যের একটি বড় অংশ, ইউরোপ আর এশিয়ার মাঝখানের সবচেয়ে ছোট পথ। দুই হাজার তেইশ সালের নভেম্বরে এই পথে একটি হেলিকপ্টার নামে একটি মালবাহী জাহাজের ডেকে। অস্ত্রধারীরা জাহাজটির দখল নেয়, আর পুরো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেয় সামাজিক মাধ্যমে। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানি এই পথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে। জাহাজ ঘুরতে থাকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘিরে। যারা এটা করল, তারা কোনো রাষ্ট্রের নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়। তারা ইয়েমেনের উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা একটি সশস্ত্র আন্দোলন। পৃথিবী তাদের চেনে হুতি নামে। তিরিশ বছর আগে যারা ছিল কয়েকশো ছাত্রের একটি ধর্মীয় সংগঠন, আজ তারা চ্যালেঞ্জ করছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনীকে।
আরও পড়ুনসৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথি হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীরআর এই যুদ্ধের ঢেউ এসে লাগছে বাংলাদেশের মানুষের গায়েও। সৌদি আরবে কাজ করেন বাংলাদেশের লাখ লাখ প্রবাসী। আমাদের পোশাক রপ্তানির বড় অংশ যায় ইউরোপে, এই সমুদ্রপথ দিয়েই। আমি কালারস অব বাংলাদেশ থেকে বলছি। আজ আমরা জানব হুতিদের পুরো গল্প, পাহাড়ের গুহা থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত, আর এর মাঝে বাংলাদেশ কোথায়। প্রথম অধ্যায়: সাদার পাহাড়। ইয়েমেনের উত্তরে সৌদি সীমান্ত ঘেঁষে সাদা প্রদেশ। রুক্ষ পাহাড়, সরু উপত্যকা, শতাব্দী প্রাচীন মাটির ঘর। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ জায়দি সম্প্রদায়ের, যা শিয়া ইসলামের একটি শাখা। প্রায় এক হাজার বছর ধরে উত্তর ইয়েমেন শাসন করেছেন জায়দি ইমামরা। উনিশশো বাষট্টি সালের বিপ্লবে সেই ইমামতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপরের কয়েক দশকে জায়দিদের অনেকেই মনে করতে থাকেন, তারা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা, অর্থনৈতিকভাবে অবহেলিত। নব্বইয়ের দশকে এই ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় একটি ধর্মীয় শিক্ষা আন্দোলন, বিশ্বাসী যুবসমাজ। এর অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন হুসেইন বদরুদ্দিন আল হুতি। তার পারিবারিক নাম থেকেই পরে আন্দোলনটির নাম হয়ে যায় হুতি।
দুই হাজার তিন সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর আন্দোলনটি আরো রাজনৈতিক আর তীব্র মার্কিন ও ইসরায়েলবিরোধী হয়ে ওঠে। তখনকার প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই পক্ষের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। দুই হাজার চার সালে সরকারি বাহিনীর অভিযানে নিহত হন হুসেইন আল হুতি। সরকার ভেবেছিল নেতা মারা গেলে আন্দোলন শেষ। হলো ঠিক উল্টো। দুই হাজার চার থেকে দুই হাজার দশ সালের মধ্যে সাদায় সরকার আর হুতিদের মধ্যে ছয়টি যুদ্ধ হয়। প্রতিবার সরকারি অভিযান, প্রতিবার আরো বেশি মানুষ হুতিদের পক্ষে। পাহাড়ি গেরিলা যুদ্ধে তারা হয়ে ওঠে অভিজ্ঞ আর কঠিন। নেতৃত্বে আসেন হুসেইনের ছোট ভাই আবদুল মালিক আল হুতি, যিনি আজও আন্দোলনের প্রধান। দ্বিতীয় অধ্যায়: সানা দখল। দুই হাজার এগারো সালে আরব বসন্তের ঢেউ পৌঁছায় ইয়েমেনে। মাসের পর মাস বিক্ষোভের পর তেত্রিশ বছরের শাসক সালেহ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। প্রেসিডেন্ট হন তার ডেপুটি আবদ রাব্বু মনসুর হাদি। কিন্তু নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি আর বিভক্ত সেনাবাহিনী সামলাতে হিমশিম খায়।
এই দুর্বলতার সুযোগ নেয় হুতিরা। আর তারা পায় এক অপ্রত্যাশিত মিত্র, সেই সালেহকেই, যার বাহিনীর সাথে তারা ছয়বার যুদ্ধ করেছে। ক্ষমতাচ্যুত সালেহর অনুগত সেনা ইউনিটগুলোর সহায়তায় দুই হাজার চৌদ্দ সালের সেপ্টেম্বরে হুতিরা প্রায় বিনা বাধায় রাজধানী সানা দখল করে নেয়। কয়েক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হাদি পালিয়ে যান দক্ষিণের এডেনে, তারপর সৌদি আরবে। ছাব্বিশে মার্চ, দুই হাজার পনেরো। সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আরব সামরিক জোট ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করে। সৌদি আরবের যুক্তি ছিল, হুতিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ, আর তাদের সীমান্তে ইরানের প্রভাব তারা মেনে নেবে না। জোটের ধারণা ছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হুতিরা পিছু হটবে। সেই যুদ্ধ চলেছে বছরের পর বছর। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হুতিদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের অনেক যন্ত্রাংশ ইরানের তৈরি বা ইরানি নকশার। ইরান সরাসরি অস্ত্র দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু সময়ের সাথে হুতিরা হয়ে উঠেছে ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত প্রতিরোধ অক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো।
তৃতীয় অধ্যায়: বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়। যুদ্ধের মূল্য দিয়েছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির একটি হিসাব বলছে, দুই হাজার একুশ সালের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে প্রাণ গেছে প্রায় তিন লাখ সাতাত্তর হাজার মানুষের। এর বড় অংশ সরাসরি গোলাগুলিতে নয়, মারা গেছেন ক্ষুধা, অপুষ্টি আর চিকিৎসার অভাবে। বিমান হামলায় ধ্বংস হয় হাসপাতাল, স্কুল, বাজার, এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠান। হুতিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ, শিশুদের যোদ্ধা হিসেবে ব্যবহার আর ত্রাণ আটকে রাখার। দুই হাজার সতেরো সালে দেশটিতে কলেরার প্রাদুর্ভাব হয়, যা আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলেরা মহামারীগুলোর একটি। জাতিসংঘ ইয়েমেনকে বলেছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট।
এর মধ্যে ঘটে এক নাটকীয় মোড়। দুই হাজার সতেরো সালের ডিসেম্বরে সালেহ হুতিদের সাথে জোট ভেঙে সৌদি আরবের দিকে ঝুঁকতে চান। কয়েক দিনের মধ্যে সানার রাস্তায় লড়াই হয়, আর হুতিদের হাতে নিহত হন সালেহ। যে মানুষটি তিন দশক ধরে বলতেন ইয়েমেন শাসন করা সাপের মাথায় নাচার মতো, তার শেষটা হলো ঠিক সেভাবেই। হুতিরা যুদ্ধ নিয়ে যায় সৌদি আরবের ভেতরেও। সীমান্ত পেরিয়ে আসতে থাকে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন। লক্ষ্য হয় বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা আর শহর। দুই হাজার উনিশ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরামকোর আবকাইক আর খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলায় সাময়িকভাবে সৌদি আরবের তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক বন্ধ হয়ে যায়। হুতিরা দায় স্বীকার করে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য ইরানকে দায়ী করে। চতুর্থ অধ্যায়: লোহিত সাগরে আগুন। দুই হাজার বাইশ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়। প্রায় দেড় বছর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্তি ছিল। তারপর আসে সাত অক্টোবর, দুই হাজার তেইশ, আর শুরু হয় গাজা যুদ্ধ। হুতিরা ঘোষণা দেয়, গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালাবে।
উনিশে নভেম্বর, দুই হাজার তেইশ। গ্যালাক্সি লিডার নামে একটি গাড়িবাহী জাহাজ দখল করে নেয় হুতিরা। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। অনেক ক্ষেত্রে যেসব জাহাজের সাথে ইসরায়েলের সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না, সেগুলোও লক্ষ্য হয়। দুই হাজার চব্বিশ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো একটি জাহাজ ডুবে যায়, আর আরেকটি জাহাজে হামলায় নিহত হন তিনজন নাবিক। বিশ্ব বাণিজ্যে এর প্রভাব হয় বিশাল। বড় শিপিং কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত, কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলতে শুরু করে। এতে এশিয়া থেকে ইউরোপের যাত্রায় বাড়তি লাগে দশ থেকে চৌদ্দ দিন, আর অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ। মিশরের সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের আয় নেমে আসে অর্ধেকেরও নিচে। মিশর সরকারের হিসাবে শুধু দুই হাজার চব্বিশ সালেই ক্ষতি প্রায় সাতশো কোটি ডলার।
জানুয়ারি দুই হাজার চব্বিশে যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে হুতি স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে। দুই হাজার পঁচিশ সালের মার্চ থেকে আরো তীব্র মার্কিন অভিযান চলে। মে মাসে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র আর হুতিদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধ হবে। কিন্তু অন্য জাহাজে হামলা পুরোপুরি থামেনি। দুই হাজার পঁচিশ সালের জুলাইয়ে আরো দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবিয়ে দেয় তারা। এত বিমান হামলার পরও কেন হুতিদের থামানো যায় না? বিশ্লেষকরা কয়েকটি কারণ বলেন। দুই দশকের গেরিলা অভিজ্ঞতা, দুর্গম পাহাড়ে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডার, সস্তা ড্রোন যা দামি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ঠেকাতে হয়, আর ইয়েমেনের ঘনবসতিপূর্ণ উত্তরাঞ্চলের ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ। কয়েক হাজার ডলারের একটি ড্রোন ঠেকাতে কখনো খরচ হয় কয়েক লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র।
পঞ্চম অধ্যায়: মাঝখানে বাংলাদেশ। এবার আসি আমাদের কথায়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটির হিসাবে, দুই হাজার পঁচিশ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজ নিয়ে গেছেন প্রায় এগারো লাখ পঁচিশ হাজার মানুষ। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন সাত লাখ বাহান্ন হাজারের বেশি, মোটের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ। সৌদি আরব বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় উৎসও সৌদি আরব। দুই হাজার পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড সাড়ে পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। অর্থাৎ সৌদি আরবের নিরাপত্তা মানে লাখো বাংলাদেশি পরিবারের রুটি রুজি। আর ঠিক এখানেই হুতিদের যুদ্ধ বাংলাদেশিদের জন্য সরাসরি বিপদ। অতীতেও সৌদি আরবের দক্ষিণের জিজান আর আবহা বিমানবন্দরে হুতি ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। দুই হাজার একুশ সালে জিজান বিমানবন্দরে হামলার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানায় এবং রিয়াদ দূতাবাসকে আহতদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেয়।
আর এই অক্টোবরে প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে হুতি হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ডেইলি সানের খবর অনুযায়ী, হামলার জেরে সৌদিগামী বহু ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। যারা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায়, কিংবা নতুন ভিসা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিতে, তাদের জন্য এটা গভীর উদ্বেগের খবর। সমুদ্রপথের প্রভাবও কম নয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপগামী কন্টেইনারের বড় অংশ আগে যেত সুয়েজ খাল দিয়ে। আফ্রিকা ঘুরে যেতে হলে সময় বাড়ে, ভাড়া বাড়ে, আর ক্রেতারা চাপ দেন দাম কমাতে বা আগে পণ্য পাঠাতে। লোহিত সাগরের প্রতিটি হামলার খরচ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে আমাদের কারখানা আর শ্রমিকের ঘাড়ে।
জ্বালানি তেলের দামও এই অঞ্চলের উত্তেজনার সাথে ওঠানামা করে। বাংলাদেশ তার জ্বালানি তেলের প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে বাড়ে আমদানি খরচ, চাপ পড়ে রিজার্ভে, আর শেষে বাড়ে বাজারে জিনিসপত্রের দাম। অর্থাৎ ইয়েমেনের পাহাড়ে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রভাব পৌঁছে যেতে পারে ঢাকার কাঁচাবাজার পর্যন্ত। তাহলে প্রবাসী ভাই বোনদের কী করা উচিত? প্রথমত, সৌদি আরবে থাকলে বাংলাদেশ দূতাবাস আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন, বিশেষ করে দক্ষিণের সীমান্তবর্তী এলাকায়। দ্বিতীয়ত, ফ্লাইটের তথ্য এয়ারলাইনের অফিসিয়াল সূত্র থেকে যাচাই করুন, গুজবে কান দেবেন না। তৃতীয়ত, বিপদে পড়লে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন এক ছয় এক তিন পাঁচে যোগাযোগ করুন। বিদেশ থেকে ফোন করতে পারবেন এই নম্বরে, প্লাস আট আট শূন্য নয় ছয় এক শূন্য এক শূন্য দুই শূন্য তিন শূন্য।
শেষ অধ্যায়: শোকের দরজা কি বন্ধ হবে? হুতিরা আজ উত্তর ইয়েমেনের বেশিরভাগ জনবসতিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, রাজধানী সানাসহ। দক্ষিণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, কিন্তু সেই সরকারের ভেতরেও নানা বিভক্তি। সৌদি আরব চায় যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান। ইরান চায় প্রভাব ধরে রাখতে। আর যুক্তরাষ্ট্র চায় সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ শেষ না হলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা স্থায়ী হবে না। আর গাজা থেকে শুরু করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যতদিন চলবে, হুতিরা নিজেদের তুলে ধরবে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে, ঘরে ও বাইরে সমর্থন পাওয়ার জন্য। তিরিশ বছর আগে সাদার পাহাড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রে, আজ তা নাড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য, তেলের বাজার, আর হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশি পরিবারের জীবন। বাব আল মান্দেব, শোকের দরজা, নামটা যেন আজ আরো বেশি সত্যি।
এই প্রতিবেদনের তথ্য নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘ, বিএমইটি, বাংলাদেশ ব্যাংক, মিশরের সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ এবং দেশি বিদেশি সংবাদমাধ্যম থেকে। সব সূত্র বর্ণনায় দেওয়া আছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তার খবর আর এমন বিশ্লেষণ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন কালারস অব বাংলাদেশ। আপনার এলাকার কেউ সৌদি আরবে থাকলে ভিডিওটি তার সাথে শেয়ার করুন।
পুরো ডকুমেন্টারি দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।
সূত্র: জাতিসংঘ ও ইউএনডিপি, জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ প্যানেল, বিএমইটি, বাংলাদেশ ব্যাংক, সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ, রয়টার্স, প্রথম আলো, ডেইলি সান, দ্য ডেইলি স্টার।






