- তারপর একদিন পুলিশের ভিডিও কলে জানলেন, যাকে এতদিন স্ত্রী ভেবে এসেছেন, তিনি আসলে বিশ বছরের এক তরুণ।
- অনলাইনে আকর্ষণীয় ছবি, মিষ্টি কথা, তারপর একের পর এক টাকার দাবি।
- কালারস অব বাংলাদেশের এই প্রতিবেদনে দেখব, কীভাবে কাজ করে এই হানি ট্র্যাপ, আর কীভাবে বাঁচবেন।
ছয় মাসের প্রেম। মোবাইলে বিয়ে। তিন লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন ইতালি প্রবাসী এক যুবক। তারপর একদিন পুলিশের ভিডিও কলে জানলেন, যাকে এতদিন স্ত্রী ভেবে এসেছেন, তিনি আসলে বিশ বছরের এক তরুণ। প্রেমের ফাঁদ, টার্গেট প্রবাসী। অনলাইনে আকর্ষণীয় ছবি, মিষ্টি কথা, তারপর একের পর এক টাকার দাবি। কালারস অব বাংলাদেশের এই প্রতিবেদনে দেখব, কীভাবে কাজ করে এই হানি ট্র্যাপ, আর কীভাবে বাঁচবেন। বোঝার সুবিধার জন্য একটি কাল্পনিক উদাহরণ ধরা যাক। নাম ধরুন, ছন্দ। প্রকাশিত বিভিন্ন মামলায় পুলিশ যে কৌশলের কথা জানিয়েছে, তা থেকেই সাজানো এই গল্প।
আরও পড়ুনমালয়েশিয়া সিন্ডিকেট: ২ লাখ ৬৭ হাজার কর্মীর কাছ থেকে ৪,৫৪৫ কোটি টাকা বাড়তি | Colours of Bangladeshপ্রথম ধাপ, ভুয়া প্রোফাইল। অন্য কারও আকর্ষণীয় ছবি দিয়ে আইডি খোলা হয় ফেসবুক, টেলিগ্রাম কিংবা ডেটিং অ্যাপে। প্রবাসী কেউ নক করলেই আলাপ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে। তারপর ছোট ছোট দাবি। এমবি শেষ, রিচার্জ লাগবে। আস্থা তৈরি হলে আসে বড় অঙ্ক। দেখা করার আগে শপিং, হঠাৎ অসুখ, কিংবা জমি কেনার টাকা। কিন্তু দেখা আর কখনো হয় না। আর কেউ টাকা দিতে না চাইলে আসে ভিডিও কলের ফাঁদ। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। একজনের কাছ থেকে টাকা আদায় শেষ হলে, নতুন টার্গেট।
এবার আসল ঘটনা। নাটোরের লালপুরে বিশ বছরের এক তরুণ নারীর ছবি দিয়ে ফেসবুক আইডি খোলেন। একটি অ্যাপ দিয়ে কথা বলতেন নারীকণ্ঠে। ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলে বলতেন, ক্যামেরা নষ্ট। ভরণপোষণ, জমি কেনা আর দুর্ঘটনার কথা বলে নেওয়া হয় তিন লাখ টাকার বেশি। প্রথম আলো জানিয়েছে, তরুণ ও তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, মামলা হয়েছে সাইবার সুরক্ষা আইনে। ঢাকার খিলগাঁওয়ে এক ঋণ কর্মকর্তাকে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে মারধর ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আদায় করা হয় এক লাখ দশ হাজার টাকা, দাবি করা হয় আরও তিন লাখ। বাসস জানিয়েছে, ডিবি চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, জব্দ হয়েছে নয়টি মোবাইল ফোন।
নরসিংদীতে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নির্জন জায়গায় ডেকে নেওয়া, তারপর আটকে রেখে ভিডিও ধারণ আর টাকা আদায়ের অভিযোগে তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, জানিয়েছে ইত্তেফাক। এই ঘটনাগুলো একটা কথা পরিষ্কার করে দেয়। প্রোফাইলে যে মেয়ের ছবি, পেছনের মানুষটি সবসময় সে নয়। অনেক চক্রই চালান পুরুষেরা, মেয়েদের ছবি আর নারীকণ্ঠের অ্যাপ ব্যবহার করে। আর প্রবাসীরা টার্গেট, কারণ তাঁরা দূরে একা থাকেন, যাচাই করা কঠিন, আর লজ্জায় অনেকেই অভিযোগ করেন না।
কীভাবে চিনবেন? ভিডিও কলে মুখ দেখাতে চায় না। অল্প দিনেই প্রেম আর বিয়ের কথা। এমবি, রিচার্জ, অসুখ বা জমির জন্য টাকা চায়। দ্রুত অন্য অ্যাপে সরিয়ে নেয়। আর ভিডিও কলে অশালীন অনুরোধ করে। ফাঁদে পড়লে টাকা দেবেন না, টাকা দিলে দাবি শুধু বাড়ে। চ্যাট, নম্বর আর লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। জরুরি প্রয়োজনে নাইন নাইন নাইনে ফোন করুন, অভিযোগ করুন নিকটস্থ থানা কিংবা পুলিশের সাইবার ইউনিটে। লজ্জা নয়, আইনই আপনার সুরক্ষা।
এমন অভিজ্ঞতা থাকলে জানান আমাদের। কালারস অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রঙে সংবাদ, গল্প ও জীবন।
পুরো ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (৮ অক্টোবর ২০২৬), বাসস ও আইটিভি (৬ জুলাই ২০২৬), দৈনিক ইত্তেফাক (৬ মে ২০২৬), ঢাকা পোস্ট






