· মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ · ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ·
লাইভ
সর্বশেষ
৮:২৮বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে, প্রতিপক্ষ ভারত৮:২৭প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের আশা জাপানের৮:২৭ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রকল্প বাতিল, ২৮১১ কোটি টাকা ব্যর্থ৮:২৬গণপিটুনি-রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৬০ মৃত্যু: ইসলামী আন্দোলন৮:২৫স্বর্ণের দাম কমল, জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ৮:২৪তারেক রহমানের অভিযোগ: পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার অর্থ দিচ্ছে, অস্থিরতা তৈরি করছে আরেক পক্ষ৮:২৩ঢাকায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের তিন নেতা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা৮:০০ডেসটিনি থেকে ইভ্যালি: বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ফাঁদ৩:২০ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের সমীকরণ কী?৩:১৯প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি, উপহার খেলার সামগ্রী৮:২৮বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে, প্রতিপক্ষ ভারত৮:২৭প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের আশা জাপানের৮:২৭ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রকল্প বাতিল, ২৮১১ কোটি টাকা ব্যর্থ৮:২৬গণপিটুনি-রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৬০ মৃত্যু: ইসলামী আন্দোলন৮:২৫স্বর্ণের দাম কমল, জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ৮:২৪তারেক রহমানের অভিযোগ: পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার অর্থ দিচ্ছে, অস্থিরতা তৈরি করছে আরেক পক্ষ৮:২৩ঢাকায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের তিন নেতা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা৮:০০ডেসটিনি থেকে ইভ্যালি: বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ফাঁদ৩:২০ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের সমীকরণ কী?৩:১৯প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি, উপহার খেলার সামগ্রী

ডকুমেন্টারি

ডেসটিনি থেকে ইভ্যালি: বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ফাঁদ

একটি গাছের চারা। দাম কয়েক হাজার টাকা। প্রতিশ্রুতি ছিল, বারো বছর পর এই গাছ বিক্রি করে আপনি পাবেন কয়েক গুণ টাকা। গ্রামের স্কুলশিক্ষক থেকে শহরের সরকারি কর্মচারী, প্রবাসী শ্রমিক থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, লাখো মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন এই স্বপ্নে। কিন্তু সেই গাছগুলো আজ কোথায়? আর সেই টাকা? এর এক দশ

ক
কালারস অব বাংলাদেশ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০০ পিএম · পড়তে ৮ মিনিট · 👁 ৪ বার পঠিত · 🔥 ট্রেন্ডিং
ডেসটিনি থেকে ইভ্যালি: বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ফাঁদ
ডকুমেন্টারি: ডেসটিনি থেকে ইভ্যালি: বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ফাঁদ · কালারস অব বাংলাদেশ
এক নজরে
  • গ্রামের স্কুলশিক্ষক থেকে শহরের সরকারি কর্মচারী, প্রবাসী শ্রমিক থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, লাখো মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন এই স্বপ্নে।
  • কিন্তু সেই গাছগুলো আজ কোথায়? আর সেই টাকা? এর এক দশক পর আরেকটি স্বপ্ন।
  • মোটরসাইকেল অর্ধেক দামে, ফ্রিজ টিভি একশো পঞ্চাশ শতাংশ ক্যাশব্যাকে।

একটি গাছের চারা। দাম কয়েক হাজার টাকা। প্রতিশ্রুতি ছিল, বারো বছর পর এই গাছ বিক্রি করে আপনি পাবেন কয়েক গুণ টাকা। গ্রামের স্কুলশিক্ষক থেকে শহরের সরকারি কর্মচারী, প্রবাসী শ্রমিক থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, লাখো মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন এই স্বপ্নে। কিন্তু সেই গাছগুলো আজ কোথায়? আর সেই টাকা? এর এক দশক পর আরেকটি স্বপ্ন। মোটরসাইকেল অর্ধেক দামে, ফ্রিজ টিভি একশো পঞ্চাশ শতাংশ ক্যাশব্যাকে। মোবাইলের এক ক্লিকে। এবার শিকার শহরের তরুণরা, যারা প্রযুক্তি বোঝে, যারা নিজেদের বোকা ভাবে না। তারাও আটকে গেল একই ফাঁদে। গাছ থেকে গ্যাজেট, গ্রাম থেকে অ্যাপ। চেহারা বদলেছে, কৌশল বদলায়নি। দুই যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা হারিয়ে গেছে একটার পর একটা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে। আমি কালারস অব বাংলাদেশ থেকে বলছি। আজ আমরা দেখব ডেসটিনি থেকে ইভ্যালি পর্যন্ত এই ফাঁদগুলো কীভাবে কাজ করে, আর পরের ফাঁদটা কীভাবে চিনবেন।

আরও পড়ুনস্বর্ণের দাম কমল, জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রথম অধ্যায়: এক ইতালীয়র নামে একটি প্রতারণা। গল্পটা শুরু করতে হবে একশো বছরেরও বেশি আগে, আমেরিকার বোস্টনে। উনিশশো বিশ সাল। চার্লস পঞ্জি নামে এক অভিবাসী ঘোষণা দিলেন, মাত্র পঁয়তাল্লিশ দিনে বিনিয়োগের পঞ্চাশ শতাংশ মুনাফা দেবেন। হাজার হাজার মানুষ টাকা দিল। আর প্রথম দিকের বিনিয়োগকারীরা সত্যিই মুনাফা পেলেন। কিন্তু সেই মুনাফা কোনো ব্যবসা থেকে আসেনি। এসেছিল নতুন বিনিয়োগকারীদের টাকা থেকে। পুরোনোদের পাওনা মেটানো হতো নতুনদের টাকায়। যতদিন নতুন মানুষ আসে, ততদিন চাকা ঘোরে। নতুন মানুষ আসা কমলেই পুরো কাঠামো ধসে পড়ে। কয়েক মাসের মধ্যেই পঞ্জির সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে। সেই থেকে এই ধরনের প্রতারণার নাম পঞ্জি স্কিম। এর কাছাকাছি আরেকটি মডেল হলো পিরামিড স্কিম, যা অনেক সময় মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা এমএলএমের ছদ্মবেশে আসে। এখানে আপনার আয় পণ্য বিক্রি থেকে নয়, আসে নতুন সদস্য আনা থেকে। আপনি দুজন আনবেন, তারা প্রত্যেকে আরো দুজন। শুনতে দারুণ, কিন্তু অঙ্কটা ভয়ংকর। মাত্র তেত্রিশ ধাপে এই চেইনে লাগবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষ। অর্থাৎ শেষের দিকের বেশিরভাগ মানুষের হারানো নিশ্চিত।

দ্বিতীয় অধ্যায়: যুবক। বাংলাদেশে এই ধরনের বড় প্রতারণার আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি, সংক্ষেপে যুবক। নব্বইয়ের দশকের শেষে যাত্রা শুরু। কর্মসংস্থান আর উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতিতে সারা দেশে সংগ্রহ করে বিপুল আমানত। দুই হাজার ছয় সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিষ্ঠানটি অনুমতি ছাড়াই ব্যাংকের মতো আমানত নিচ্ছে। পরে সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন জানায়, গ্রাহকদের কাছে যুবকের দেনা প্রায় দুই হাজার একশো সাতচল্লিশ কোটি টাকা। প্রায় তিন লাখ সদস্য। অথচ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ছিল খুবই সামান্য। প্রায় দুই দশক পরেও অনেক গ্রাহক তাদের টাকা ফেরতের অপেক্ষায়। তৃতীয় অধ্যায়: ডেসটিনি। যুবকের পতনের পর আসে আরো বড় নাম। ডেসটিনি টু থাউজেন্ড লিমিটেড। নাম শুনলেই অনেকের মনে পড়ে স্যুট টাই পরা তরুণদের দল, বড় বড় সেমিনার, আর একটি স্লোগান, আপনিও হতে পারেন কোটিপতি। ডেসটিনি নিজেকে পরিচয় দিত বহুস্তর বিপণন বা এমএলএম কোম্পানি হিসেবে।

ডেসটিনির প্রকল্প ছিল অনেকগুলো। কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত ছিল ট্রি প্ল্যান্টেশন বা বৃক্ষরোপণ প্রকল্প, আর ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। প্রথমটিতে গ্রাহকরা গাছের মালিকানা কিনতেন, দ্বিতীয়টিতে সমবায়ের নামে টাকা জমা রাখতেন। দুটোতেই প্রতিশ্রুতি ছিল আকর্ষণীয় মুনাফার। দুই হাজার বারো সালে দুর্নীতি দমন কমিশন ডেসটিনির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ আর মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় আট লাখ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে তোলা হয় এক হাজার নয়শো এক কোটি টাকা, যার এক হাজার আটশো একষট্টি কোটি টাকাই আত্মসাৎ করা হয়। গণমাধ্যমের হিসাবে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পসহ মোট অঙ্ক চার হাজার কোটি টাকার বেশি। দীর্ঘ এক দশক মামলা চলার পর দুই হাজার বাইশ সালের মে মাসে ঢাকার আদালত রায় দেয়। ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনকে বারো বছরের কারাদণ্ড, সাথে দুইশো কোটি টাকা জরিমানা। মামলার ছেচল্লিশ আসামির সবাই দণ্ডিত হন। দুই হাজার পঁচিশ সালের জানুয়ারিতে আরেকটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকেসহ উনিশজনকে আবারও বারো বছরের সাজা দেওয়া হয়।

কিন্তু আদালতের রায়ে গ্রাহকের টাকা ফেরে না। ডেসটিনির লাখো গ্রাহকের বড় অংশ আজও জানেন না, তাদের টাকা কোথায় গেল, কবে ফিরবে। অনেকে জমি বিক্রি করে, গরু বিক্রি করে, ধার করে টাকা দিয়েছিলেন। কেউ কেউ নিজের আত্মীয় বন্ধুদেরও এনেছিলেন। প্রতারণার সবচেয়ে নিষ্ঠুর দিক এটাই, সে মানুষকে দিয়েই মানুষ ধরায়। কেন এত মানুষ বিশ্বাস করেছিল? কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা কিনত। নামিদামি মানুষদের বোর্ডে রাখা, বড় হোটেলে অনুষ্ঠান, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন, পত্রিকার প্রথম পাতায় ছবি, আর প্রথম দিকের সদস্যদের সত্যিকারের মুনাফা দেওয়া। আপনার প্রতিবেশী যখন সত্যিই টাকা পাচ্ছে, তখন সন্দেহ করা কঠিন। মনোবিজ্ঞানীরা এর একটা নাম দিয়েছেন, সামাজিক প্রমাণ। আমরা ধরে নিই, এত মানুষ যখন করছে, নিশ্চয়ই ঠিক আছে। এর সাথে যোগ হয় আরেকটি অনুভূতি, পিছিয়ে পড়ার ভয়। পাশের বাড়ির ভাই টাকা পাচ্ছেন, আমি কেন বসে থাকব? প্রতারকরা এই দুটি অনুভূতিকে ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে। সেমিনারে হাততালি, মঞ্চে সফল সদস্যদের গল্প, চকচকে গাড়ি, সবই সাজানো এই অনুভূতি জাগানোর জন্য।

এই ক্ষতির পর দুই হাজার তেরো সালে সরকার বহুস্তর বিপণন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম ব্যবসা করা যায় না, আর পণ্য বিক্রির বদলে শুধু সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে আয় দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন হলেই প্রতারণা থামে না। প্রতারকরা নাম বদলায়, কাঠামো বদলায়, আর আইনের ফাঁক খুঁজে নেয়। চতুর্থ অধ্যায়: ইভ্যালি। দুই হাজার আঠারো সালের ডিসেম্বর। বাংলাদেশে ই-কমার্স তখন দ্রুত বাড়ছে। এমন সময় আসে ইভ্যালি। প্রথম দিকেই তারা দেয় এমন সব অফার, যা আগে কেউ দেখেনি। সাইক্লোন, আর্থকোয়েক, নামগুলোই বলে দেয় উদ্দেশ্য। একশো শতাংশ, একশো পঞ্চাশ শতাংশ ক্যাশব্যাক। মোটরসাইকেল, গাড়ি, ফ্রিজ, ফোন, বাজারদরের অনেক কম দামে। শর্ত একটাই, টাকা আগে দিতে হবে। পণ্য আসবে পরে, কখনো পঁয়তাল্লিশ দিন, কখনো আরো বেশি। কোভিড মহামারীর সময় যখন মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করছে, ইভ্যালির গ্রাহক বাড়তে থাকে ঝড়ের গতিতে। ক্রিকেট দলের স্পনসরশিপ, তারকাদের বিজ্ঞাপন, ব্যাপক প্রচার।

কিন্তু প্রশ্ন ছিল সহজ। কোনো কোম্পানি যদি একশো টাকার জিনিস পঞ্চাশ টাকায় বেচে, বাকি পঞ্চাশ টাকা আসে কোথা থেকে? উত্তর ছিল সেই পুরোনো পঞ্জি অঙ্ক। নতুন গ্রাহকের অগ্রিম টাকা দিয়ে পুরোনো গ্রাহকের পণ্য কেনা। যতদিন নতুন অর্ডার আসে, চাকা ঘোরে। দুই হাজার একুশ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ইভ্যালির দেনার চিত্র বেরিয়ে আসে। পরে ইভ্যালি নিজেই জানায়, পনেরো জুলাই পর্যন্ত তাদের মোট দেনা পাঁচশো তেতাল্লিশ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকের কাছে তিনশো এগারো কোটি, আর মার্চেন্ট বা সরবরাহকারীদের কাছে দুইশো ছয় কোটি টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ মিলিয়ে মূল্য মাত্র একশো একুশ কোটি টাকা। ষোলো সেপ্টেম্বর, দুই হাজার একুশ। প্রতারণার মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর আদালতের নির্দেশে গঠিত বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেয়। মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

ইভ্যালি একা ছিল না। একই সময়ে ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, আলেশা মার্টসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, মামলা হয়। লাখো তরুণ গ্রাহক, শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যারা মাল সরবরাহ করে টাকা পাননি, সবাই একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত। এই গল্পে প্রায়ই আড়ালে থেকে যান আরেক দল ভুক্তভোগী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেক মার্চেন্ট ইভ্যালির মতো প্ল্যাটফর্মে পণ্য সরবরাহ করেছিলেন বাকিতে, বড় অর্ডারের আশায়। কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাল কিনেছিলেন। প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ার পর তাদের টাকাও আটকে যায়। একটি পঞ্জি কাঠামো শুধু গ্রাহককে নয়, পুরো একটি বাজারের আস্থাকে নষ্ট করে দেয়। এর পর বহু সৎ ই-কমার্স উদ্যোক্তাকেও গ্রাহকের সন্দেহের মুখে পড়তে হয়েছে।

আর বিজ্ঞাপনে যে তারকারা মুখ দেখিয়েছিলেন? তাদের অনেকের দাবি, তারা শুধু চুক্তিভিত্তিক প্রচার করেছেন, ব্যবসার ভেতরের খবর জানতেন না। আইনি দায় যা-ই হোক, এই অভিজ্ঞতা একটি প্রশ্ন রেখে গেছে। পরিচিত মুখ যখন কোনো অফারকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে, তখন সেই বিশ্বাসের দায় কার? দর্শক হিসেবে আমাদের শিক্ষা হলো, তারকার মুখ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার সনদ নয়। এরপর সরকার ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা জারি করে। গ্রাহকের অগ্রিম টাকা এখন সরাসরি বিক্রেতার কাছে যায় না, জমা থাকে একটি মধ্যস্থ ব্যবস্থায়, যাকে বলে এসক্রো। পণ্য গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর পরই টাকা ছাড় হয়। এই একটি নিয়ম আগে থাকলে হয়তো হাজার হাজার মানুষ বেঁচে যেতেন। পঞ্চম অধ্যায়: নতুন মোড়কে পুরোনো ফাঁদ। ইভ্যালির পরও ফাঁদ থামেনি, শুধু রূপ বদলেছে। দুই হাজার তেইশ সালে এমটিএফই নামে একটি বিদেশি অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের নামে দেশের বহু মানুষ টাকা হারানোর অভিযোগ করেন। সদস্য আনলে কমিশন, দিনে দিনে মুনাফা, তারপর হঠাৎ অ্যাপ বন্ধ। কাঠামোটা চেনা, সেই পিরামিড।

আর আজ, অনলাইন জুয়া, ভুয়া বিনিয়োগ অ্যাপ, টেলিগ্রামে টাস্ক দিয়ে আয়ের প্রলোভন, ইউটিউব ভিডিওতে লাইক দিলে টাকা। প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসে নতুন ফাঁদ। প্রতারকরা ঠিক জানে, মানুষের মধ্যে লোভ আর ভয়, এই দুটি অনুভূতি কখনো পুরোনো হয় না। তাহলে পরের ফাঁদটা চিনবেন কীভাবে? মনে রাখুন পাঁচটি সংকেত। এক, অস্বাভাবিক বেশি মুনাফা বা ছাড়ের প্রতিশ্রুতি। বাজারে কেউ টানা লোকসানে ব্যবসা করে না। দুই, নিশ্চিত মুনাফা, কোনো ঝুঁকি নেই, এমন দাবি। সব বৈধ বিনিয়োগেই ঝুঁকি থাকে। তিন, আপনার আয় নির্ভর করে নতুন সদস্য আনার ওপর। চার, টাকা আগে দিতে হবে, তাড়াতাড়ি, অফার সীমিত সময়ের। প্রতারকরা চায় না আপনি ভাবার সময় পান। পাঁচ, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, নিবন্ধন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন স্পষ্ট নয়। আমানত নেওয়ার অনুমতি শুধু ব্যাংক আর অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আছে।

সন্দেহ হলে যাচাই করুন। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, আর সমবায় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। আর প্রতারিত হলে চুপ থাকবেন না। নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করুন, অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নয় নয় নয়ে কল করুন। যুবক, ডেসটিনি, ইভ্যালি, আর তার পরের অসংখ্য নাম। প্রতিটি পতনের পর আমরা বলি, এবার শিক্ষা হলো। কিন্তু কয়েক বছর পর নতুন নামে, নতুন মোড়কে আসে একই প্রতিশ্রুতি। আর নতুন প্রজন্ম, যারা আগের গল্প জানে না, পা দেয় সেই একই ফাঁদে। তাই এই গল্পগুলো মনে রাখা জরুরি। পরের বার কেউ যখন বলবে, ভাই, একবার শুধু টাকাটা দিন, তিন মাসে ডাবল, তখন মনে করবেন সেই গাছের চারাগুলোর কথা, যেগুলো কখনো বড় হয়নি। আর সেই মোটরসাইকেলগুলোর কথা, যেগুলো কখনো আসেনি।

এই প্রতিবেদনের তথ্য আদালতের রায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম থেকে নেওয়া। কালারস অব বাংলাদেশ সাবস্ক্রাইব করুন, আর ভিডিওটি শেয়ার করুন আপনার পরিবারের সেই মানুষটির সাথে, যিনি সহজে সবাইকে বিশ্বাস করেন।

পুরো ডকুমেন্টারি দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।

কালারস অব বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি। ছবি ও তথ্যসূত্র ভিডিওর ভেতরে উল্লেখ করা আছে।

ক
কালারস অব বাংলাদেশ

কালারস অব বাংলাদেশ · অর্থনীতি বিভাগ

💬 আপনার মতামতফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন · ভদ্র ও প্রাসঙ্গিক মন্তব্য কাম্য