- মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
- ঘটনার সময় কার্যালয়ের ভেতরে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ নেতারা বৈঠক করছিলেন।
- পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে; তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
- বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার মোগলটুলির ফারুকিয়া হাউজিংয়ে জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
- মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
- ঘটনার সময় কার্যালয়ের ভেতরে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ নেতারা বৈঠক করছিলেন।
- পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে; তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠন ও আমির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরের মোগলটুলি এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত দলটির মহানগর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর এবং কার্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
আরও পড়ুনলংমার্চে বিদ্যুৎ উৎপাদন অসম্ভব, বিএনপির সমালোচনা চিফ হুইপেরদলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় কার্যালয়ের ভেতরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম ও মহানগরের নেতারা ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেই বৈঠক ছিল মূলত মহানগরের আমির নির্বাচনপ্রক্রিয়ার অংশ। এ সময় বাইরে জড়ো হওয়া একদল নেতাকর্মী হট্টগোল শুরু করে এবং একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
ঘটনার পেছনে দলীয় কোন্দলের বিষয়টি সামনে এসেছে। জানা গেছে, বর্তমান আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ১৯৯৮ সাল থেকে টানা ২৮ বছর কুমিল্লা শহর ও মহানগরের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। তার দীর্ঘ মেয়াদে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকে ও দুই নায়েবে আমিরকে নতুন কমিটির নেতৃত্বে না রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কোন্দল চরমে ওঠে।
মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক (মামুন)-এর অনুসারীদের এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে কয়েক দিন ধরে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর রাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের বরাতে বলা হয়, পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলাকালে কয়েকজন যুবক সভাস্থলে ঢুকে হইচই করে এবং চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর কার্যালয়ের সামনে ভাঙা গাড়ির কাচের টুকরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এ ঘটনায় মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এমদাদুল হক ও সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন, চ্যানেল ২৪






