- বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে আগে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট।
- এইচআরএফবি কনস্যুলেটের ভূমিকার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও জবাবদিহি দাবি করেছে।
- ২০১০ সাল থেকে সৌদি আরবে অন্তত ১৯ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
- ১৪ অক্টোবর মক্কায় নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে আগে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট।
- এইচআরএফবি কনস্যুলেটের ভূমিকার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও জবাবদিহি দাবি করেছে।
- ২০১০ সাল থেকে সৌদি আরবে অন্তত ১৯ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে আগে অবহিত না করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। সংগঠনটি বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের ন্যায়বিচার, কার্যকর আইনি সহায়তা ও কনসুলার অধিকার নিশ্চিত হয়েছিল কি না এবং মিশন যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
আরও পড়ুনপটুয়াখালীতে গাছের ডাল মাথায় পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যুসংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ১৮ অক্টোবরের একটি চিঠি অনুযায়ী, পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন তারা।
চিঠিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দীদের তালিকায় তাদের সাজার তথ্য উল্লেখ ছিল না। অন্য বন্দীদের ক্ষেত্রে সাজার বিবরণ দেওয়া হলেও তাদের ক্ষেত্রে ঘর ফাঁকা ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এইচআরএফবি প্রশ্ন তুলেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়ার পর কনস্যুলেট ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে খোঁজ নিতে কী উদ্যোগ নিয়েছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে তাদের অধিকার সুরক্ষায় কনস্যুলেট স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য সংগ্রহ বা অন্য কোনো উদ্যোগ নিয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীর পরিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মরদেহ ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছে। তার বৃদ্ধা মা খবর শোনার পর নাওয়া-খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। নিহত তরুণের বাবাও শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চান বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার মরদেহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টার আশ্বাস দিলেও ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, অতীতে সৌদি আরব বিদেশি নাগরিকের মরদেহ ফেরত না পাঠানোর নজির রয়েছে।
ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে সৌদি আরবে অন্তত ১৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৬ জন, ২০২৪ সালে একজন এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এইচআরএফবি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষভুক্ত। চুক্তির ৬ ও ১৪ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের অধিকার স্বীকৃত। এছাড়া ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনসুলার রিলেশনসের ৩৬ অনুচ্ছেদে আটক বিদেশি নাগরিকের কনসুলার সহায়তার বিধান রয়েছে। এই অধিকার নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে এইচআরএফবি।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা, চ্যানেল ২৪, বিবিসি বাংলা, ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন






