- অথচ আগের রাতেই ব্যাংকের সুইফট টার্মিনাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে পাঠানো হয়েছিল ৩৫টি পেমেন্ট নির্দেশ, যার মোট অঙ্ক প্রায় ৯৫১ মিলিয়ন ডলার।
- কালারস অব বাংলাদেশের নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি “৮১ মিলিয়ন ডলারের রহস্য” এই চুরির পুরো ঘটনাক্রম তুলে ধরেছে।
- মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হামলার শুরু এক বছর আগে, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট কক্ষের প্রিন্টারের ট্রে ছিল খালি। কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন যান্ত্রিক ত্রুটি। অথচ আগের রাতেই ব্যাংকের সুইফট টার্মিনাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে পাঠানো হয়েছিল ৩৫টি পেমেন্ট নির্দেশ, যার মোট অঙ্ক প্রায় ৯৫১ মিলিয়ন ডলার। কালারস অব বাংলাদেশের নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি “৮১ মিলিয়ন ডলারের রহস্য” এই চুরির পুরো ঘটনাক্রম তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুনকুমিল্লায় মা বাজারে রেখে গেলেন দুই মেয়েকে, চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলেমার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হামলার শুরু এক বছর আগে, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। ‘রাসেল আহলাম’ নামের এক কাল্পনিক চাকরিপ্রার্থীর নামে ব্যাংকের ১৬ জন কর্মকর্তার কাছে ১০টি ইমেইল পাঠানো হয়, যার লিংকে লুকানো ছিল ম্যালওয়্যার। এরপর প্রায় এক বছর ধরে হ্যাকাররা ব্যাংকের নেটওয়ার্কে নীরবে অবস্থান করে।
নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ম্যালওয়্যারটি সুইফটের সফটওয়্যার বদলে দিয়ে নিরাপত্তা যাচাই এড়িয়ে যেত, লেনদেনের রেকর্ড মুছে ফেলত এবং নিশ্চিতকরণের প্রিন্ট বন্ধ রাখত। অন্যদিকে ২০১৫ সালের মে মাসে ফিলিপাইনের মাকাতিতে আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ভুয়া পরিচয়ে খোলা হয় চারটি অ্যাকাউন্ট।
৩৫টি নির্দেশের মধ্যে ৩০টি আটকে যায়, যার পরিমাণ প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জুপিটার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি জাহাজের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সতর্কসংকেত চালু হয়। শ্রীলঙ্কায় পাঠানো ২০ মিলিয়ন ডলার ফিরে আসে ‘Foundation’ বানান ‘Fandation’ লেখার কারণে। তবে ৮১ মিলিয়ন ডলার পৌঁছে যায় ম্যানিলার সেই চারটি অ্যাকাউন্টে।
ঢাকায় শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটি, নিউইয়র্কে শনি-রবি, আর ৮ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনে চীনা নববর্ষের ছুটি। এই ফাঁকে টাকা তুলে নিয়ে রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পেসোতে রূপান্তর করে ম্যানিলার ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। তখন ফিলিপাইনের মানি লন্ডারিং আইনের আওতার বাইরে ছিল ক্যাসিনো। সব মিলিয়ে ফেরত এসেছে আনুমানিক ১৫ মিলিয়ন ডলার।
২০১৮ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ উত্তর কোরিয়ার নাগরিক পার্ক জিন হিয়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। অভিযোগ অনুযায়ী তিনি ‘ল্যাজারাস গ্রুপ’ নামে পরিচিত হ্যাকার দলের সদস্য। তিনি এখনো এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় আছেন। ফিলিপাইনে আরসিবিসির জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ২০১৯ সালে মানি লন্ডারিংয়ের আটটি অভিযোগে দণ্ডিত হন।
দেশে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে নব্বই বারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই এখনো চলছে। প্রায় এক দশক পরেও প্রশ্ন রয়ে গেছে, বাংলাদেশের জনগণের এই অর্থের পুরো হিসাব কি কখনো মিলবে, আর এর দায় কে নেবে?
পুরো ডকুমেন্টারিটি দেখুন উপরের ভিডিওতে, অথবা কালারস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে।
সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, এফবিআই, ফিলিপাইন সিনেট, রয়টার্স, বিএই সিস্টেমস, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, টিবিএস






