· মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ · ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ·
নিউজ →
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ইতিহাস ও সমাজ

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

Rokeya Sakhawat Hossain

১৮৮০ — ১৯৩২৫২ বছরের জীবন

বাঙালি নারীবাদী লেখিকা ও সমাজ সংস্কারক

এক নজরে
  • রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (সাধারণত বেগম রোকেয়া নামে অধিক পরিচিত; ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ – ৯ ডিসেম্বর ১৯৩২) হলেন একজন বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
  • তাকে বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  • ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' জরিপে ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া।
১৮৮০জন্ম, রংপুর জেলা১৯৩২মৃত্যু, কলকাতা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (সাধারণত বেগম রোকেয়া নামে অধিক পরিচিত; ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ – ৯ ডিসেম্বর ১৯৩২) হলেন একজন বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। তাকে বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' জরিপে ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ও শ্লে­ষাত্মক রচনায় রোকেয়ার স্টাইল ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। উদ্ভাবনশীলতা, যুক্তিবাদিতা ও কৌতুকপ্রিয়তা তাঁর রচনার সহজাত বৈশিষ্ট্য। তাঁর প্রবন্ধের বিষয়বৈচিত্র্য ছিল ব্যাপক। বিজ্ঞান সম্পর্কেও তার অনুসন্ধিৎসার পরিচয় পাওয়া যায় বিভিন্ন রচনায়। মতিচূর (১৯০৪) প্রবন্ধগ্রন্থে রোকেয়া নারী-পুরুষের সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিক্ষার অভাবকে নারীপশ্চাৎপদতার কারণ বলেছেন। তার সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫) নারীবাদী ইউটোপিয়ান সাহিত্যের ক্লাসিক নিদর্শন বলে বিবেচিত। পদ্মরাগ (১৯২৪) তার রচিত উপন্যাস। অবরোধ-বাসিনীতে (১৯৩১) তিনি অবরোধপ্রথাকে বিদ্রূপবাণে জর্জরিত করেছেন।

রোকেয়ার কর্ম ও আদর্শ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদ্‌যাপন করে এবং বিশিষ্ট নারীদের অনন্য অর্জনের জন্য বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে।

প্রারম্ভিক জীবন

রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রেসিডেন্সির রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জহীরুদ্দিন মুহম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন একজন শিক্ষিত জমিদার ও বহুভাষাবিদ। তার মাতা ছিলেন রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। রোকেয়ার পূর্বপুরুষেরা ইরানের তাবরিজ থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিলেন। তাদের পূর্বপুরুষেরা রংপুরে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুঘল আমলে সামরিক ও বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

রোকেয়ার পিতা চারবার বিয়ে করেছিলেন, স্ত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন ইউরোপীয় নারী। রোকেয়ার দুই বোন করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানী ও হুমায়রা খাতুন এবং তিন ভাই ছিলেন; তাদের একজন শৈশবে মারা যান। জীবিত দুই ভাইয়ের নাম আবুল আসাদ মুহম্মদ ইবরাহিম সাবের ও আবু জায়গাম মুহম্মদ খলিল সাবের

রোকেয়ার পিতা আরবি, উর্দু, ফারসি, বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তবে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে তিনি রক্ষণশীল ছিলেন। তার বড় দুই ভাই আবুল আসাদ মুহম্মদ ইবরাহিম সাবের ও আবু জায়গাম মুহম্মদ খলিল সাবের কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়ন করেন। বড় ভাই ইবরাহিম সাবের রোকেয়া ও তার বড় বোন করিমুন্নেসাকে বাংলা ও ইংরেজি শেখাতে সহায়তা করেন। তিনি তাদের পড়ার জন্য বইও এনে দিতেন।

রোকেয়ার বড় বোন করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানী ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। তৎকালীন রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল। তিনি ভাইদের শিক্ষকের কাছ থেকে শেখা ফারসি কবিতা শুনে মুখস্থ করতেন এবং নিজের প্রচেষ্টায় বাংলা ও ইংরেজি শেখেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। চৌদ্দ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় এবং স্বামীর মৃত্যুর পর দুই পুত্রকে নিয়ে তিনি তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। রোকেয়ার শিক্ষালাভ ও সাহিত্যচর্চায় করিমুন্নেসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

করিমুন্নেসার দুই পুত্র ছিলেন আবদুল করিম গজনবী ও আবদুল হালিম গজনবী। আবদুল করিম গজনবী অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, আবদুল হালিম গজনবী ছিলেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাসংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক, জমিদার ও শিল্পপতি। তিনি ব্রিটিশ ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন।

তৎকালীন পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে রোকেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ সীমিত ছিল। পাঁচ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে কলকাতায় বসবাসের সময় একজন মেম শিক্ষয়িত্রীর কাছে তিনি কিছুদিন পড়াশোনার সুযোগ পান। কিন্তু সমাজ ও আত্মীয়স্বজনের আপত্তির কারণে সেই শিক্ষাও বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বড় ভাই-বোনের সহায়তায় তিনি বাংলা ও ইংরেজি শেখেন। পাশাপাশি উর্দু, ফারসি ও আরবি ভাষাও আয়ত্ত করেন।

যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে বঙ্গের মহিলা কবি গ্রন্থে লিখেছেন,বঙ্গের মহিলা কবিদের মধ্যে মিসেস আর,এস, হোসায়েনের নাম স্মরণীয়। বাঙ্গালাদেশের মুসলমান-নারী-প্রগতির ইতিহাস-লেখক এই নামটিকে কখনো ভুলিতে পারিবেন না। রোকেয়ার জ্ঞানপিপাসা ছিল অসীম। গভীর রাত্রিতে সকলে ঘুমাইলে চুপি চুপি বিছানা ছাড়িয়া বালিকা মোমবাতির আলোকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে ইংরাজী ও বাংলায় পাঠ গ্রহণ করিতেন। পদে পদে গঞ্জনা সহিয়াও এভাবে দিনের পর দিন তাঁহার শিক্ষার দ্রুত উন্নতি হইতে লাগিল। কতখানি আগ্রহ ও একাগ্রতা থাকিলে মানুষ শিক্ষার জন্য এরূপ কঠোর সাধনা করিতে পারে তাহা ভাবিবার বিষয়।

দাম্পত্য জীবন

১৮৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে রোকেয়ার বিয়ে হয় ৩৮ বছর বয়সী খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন ভাগলপুর জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।তিনি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। তিনি ইংল্যান্ড থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং রয়্যাল এগ্রিকালচারাল সোসাইটি অব ইংল্যান্ডের সদস্য ছিলেন। তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি রোকেয়াকে বিয়ে করেন।

উদার ও মুক্তমনের অধিকারী সাখাওয়াত হোসেনের উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান এবং ক্রমশ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি রোকেয়াকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শেখা অব্যাহত রাখতে এবং সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করেন। তার পরামর্শে রোকেয়া সাহিত্য রচনার প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলা গ্রহণ করেন। ।

সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রোকেয়ার দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯০৯ সালের ৩ মে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়। ইতোপূর্বে তাদের দুটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে অকালেই মারা যায়।

সাহিত্যজীবন

বেগম রোকেয়ার সাহিত্যচর্চার সূচনা বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। ১৯০২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘নভপ্রভা’ পত্রিকায় তাঁর বাংলা গল্প ‘পিপাসা’ প্রকাশিত হয়। ১৯০৫ সালে মাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় তাঁর ইংরেজি রচনা সুলতানার স্বপ্ন (Sultana's Dream) প্রকাশিত হয়। রচনাটি পরবর্তীকালে নারীবাদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনি হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।

১৯০৪ সালে প্রকাশিত মতিচূর এর প্রথম খণ্ডে রোকেয়ার প্রবন্ধসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর রচনায় নারীশিক্ষা, নারীর স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তি, ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন সমাজে নারীর অধস্তন অবস্থান এবং প্রচলিত সামাজিক বিধিনিষেধের সমালোচনা করেন।

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে রোকেয়া লিখেছেন:

পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জ্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিব। আবশ্যক হইলে আমরা লেডীকেরাণী হইতে আরম্ভ করিয়া লেডীমাজিস্ট্রেট, লেডীব্যারিস্টার, লেডীজজ — সবই হইব!... উপার্জ্জন করিব না কেন?... যে পরিশ্রম আমরা "স্বামী"র গৃহকার্য্যে ব্যয় করি, সেই পরিশ্রম দ্বারা কি স্বাধীন ব্যবসায় করিতে পারিব না?... আমরা বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন করি না বলিয়া তাহা হীনতেজ হইয়াছে। এখন অনুশীলন দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিকে সতেজ করিব। যে বাহুলতা পরিশ্রম না করায় হীনবল হইয়াছে, তাহাকে খাটাইয়া সবল করিলে হয় না?

বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্মের মধ্যে প্রবন্ধ, ছোটগল্প, উপন্যাস, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনি উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রধান রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিচূর (প্রথম খণ্ড, ১৯০৪; দ্বিতীয় খণ্ড, ১৯২২), সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪) এবং অবরোধবাসিনী (১৯৩১)। তাঁর রচনা নবনূর, সওগাত ও মোহাম্মদীসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল।

রোকেয়ার সাহিত্যকর্মে নারীশিক্ষা, লিঙ্গসমতা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং নারীর স্বাধীনভাবে পেশা নির্বাচনের অধিকারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্যঙ্গ ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো এবং ধর্মীয় অনুশাসনের নামে নারীর ওপর আরোপিত বৈষম্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর রচনায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে তোলার আহ্বানও প্রতিফলিত হয়েছে।

সুলতানার স্বপ্ন গল্পে রোকেয়া এমন এক কাল্পনিক সমাজের চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে নারীরা নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এবং পুরুষেরা অন্তঃপুরে অবস্থান করে। প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার এই উল্টে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি নারী-পুরুষের ক্ষমতার অসমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, পদ্মরাগ গল্পে নারীর আত্মনির্ভরতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের বিষয়টি এবং অবরোধবাসিনী' তে অবরোধপ্রথার কারণে নারীর জীবনে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেছেন।

রোকেয়ার প্রবন্ধ অলঙ্কার না দাসত্বের নিদর্শন এ অলঙ্কারকে নারীর অধীনতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি অলঙ্কার ব্যবহারের সামাজিক অভ্যাসের সমালোচনা করে নারীর আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন:

আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসীত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। ক্রমে পুরুষরা আমাদের মনকে পর্য্যন্ত দাস করিয়া ফেলিয়াছে।... তাহারা ভূস্বামী গৃহস্বামী প্রভৃতি হইতে হইতে আমাদের "স্বামী" হইয়া উঠিয়াছেন।... আর এই যে আমাদের অলঙ্কারগুলি– এগুলি দাসত্বের নিদর্শন। … কারাগারে বন্দিগণ লৌহনির্ম্মিত বেড়ী পরে, আমরা স্বর্ণ রৌপ্যের বেড়ী পরিয়া বলি "মল পরিয়াছি। উহাদের হাতকড়ী লৌহনির্ম্মিত, আমাদের হাতকড়ী স্বর্ণ বা রৌপ্যনির্ম্মিত "চুড়ি!"... অশ্ব হস্তী প্রভৃতি পশু লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, সেইরূপ আমরা স্বর্ণশৃঙ্খলে কণ্ঠ শোভিত করিয়া বলি "হার পরিয়াছি!" গো-স্বামী বলদের নাসিকা বিদ্ধ করিয়া "নাকা দড়ী" পরায়, আমাদের স্বামী আমাদের নাকে "নোলক" পরাইয়াছেন। অতএব দেখিলে ভগিনি, আমাদের ঐ বহুমূল্য অলঙ্কারগুলি দাসত্বের নিদর্শন ব্যতীত আর কিছুই নহে! … অভ্যাসের কি অপার মহিমা! দাসত্বে অভ্যাস হইয়াছে বলিয়া দাসত্বসূচক গহনাও ভালো লাগে।

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড

স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর পর রোকেয়া নারীশিক্ষার প্রসার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থে তিনি বিহারের ভাগলপুরে পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তাঁকে ভাগলপুর ছেড়ে কলকাতায় চলে আসতে হয়। ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩ নম্বর ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়িতে আটজন ছাত্রী নিয়ে তিনি বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করেন। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়টির ছাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পায়; ১৯১৬ সালে সেখানে ১০৫ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করত।

গল্পটা ভালো লাগলে শেয়ার করুন