
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
Mahmudullah
১৯৮৬ — বর্তমানবয়স ৪০
বাংলাদেশী ক্রিকেটার
- মোহাম্মদ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (জন্ম: ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬) হলেন একজন সাবেক বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেটের সকল ফরম্যাটে অংশগ্রহণ করেন।
- এছাড়াও তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেন।
মোহাম্মদ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (জন্ম: ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬) হলেন একজন সাবেক বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেটের সকল ফরম্যাটে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেন। তিনি একজন অলরাউন্ডার হিসেবে মাঝারি ক্রম বা নিম্নক্রমের ব্যাটার এবং বোলার হিসেবে অফ-স্পিন বল করতে দক্ষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ১০,০০০-এর বেশি রান সংগ্রহ করেছেন এবং ১৫০টিরও বেশি উইকেট শিকার করেছেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে মাহমুদউল্লাহ নিজের ফিনিশিং ক্ষমতা জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি বিশ্বকাপে শতরান করেন। এছাড়াও প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুইবার সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। ২০২৫ সালে তিনি ক্রিকেটের সকল ফরম্যাট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
মাহমুদউল্লাহ তার ক্যারিয়ার একজন বোলার হিসেবে শুরু করেন। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ ব্যাটসম্যানে রূপান্তরিত করে।
ব্যাক্তিজীবন
২৫ জুন ২০১১ তারিখে মাহমুদুল্লাহ জান্নাতুল কাওসার মিষ্টিকে বিয়ে করেন। ২০১২, ৩ জুন তিনি পুত্র সন্তানের পিতা হন।
২০২০, ৭ এপ্রিল তিনি ২য় পুত্র সন্তানের পিতা হন। তার দুই ছেলের নাম রাঈদ ও মাঈদ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
তিনি ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য বাংলাদেশ দলে ডাক পান। ঐ সফরের তৃতীয় ওডিআই ম্যাচে তার অভিষেক হয়। এছাড়া ২০০৭ সালে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত চার-জাতি সিরিজ এবং ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ স্কোয়াডের জন্য তাকে দলে নেয়া হয়।
৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে আর্নোস ভ্যাল স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টে তার টেস্ট অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি একে-একে টিএম ডাউলিন, এফএল রেইফার, সিএকে ওয়ালটন, আরএ অস্টিন ও কেমার রোচকে আউট করে কৃতিত্ব দেখান। এরফলে তিনি তৃতীয় বাংলাদেশী বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকেই পাঁচ উইকেট লাভ করেন। তার ঐ ক্রীড়ানৈপুণ্যে বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলায় জয়লাভ করে।
১৫ জুন, ২০১৪ তারিখে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ১ম একদিনের আন্তর্জাতিকে মাহমুদুল্লাহ তার শততম ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেন। এরফলে তিনি ১০ম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে এ মর্যাদায় অভিষিক্ত হন। কিন্তু ওই খেলায় তার দল ৭ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। ভারতের বিপক্ষে তার ব্যাটিং গড় ৬৯ ও বোলিং গড় ১৯৮ যা যে কোনো দলের বিপক্ষে অংশগ্রহণকৃত একদিনের আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন।
৪ জুন ২০১৫ তারিখে ভারত দলের বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে অনুশীলন চলাকালীন আঙ্গুলে ব্যথা পাওয়ায় সিরিজের বাইরে থাকেন তিনি।
জানুয়ারি ২০২৫ সালে তাকে ২০২৫ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য বাংংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ৪ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে বিসিবি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলের ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। এতে তিনিও দলের অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। ৫ মার্চ, ২০১৫ তারিখে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ৪র্থ খেলায় তামিম ইকবালের সাথে ১৩৯ রানে জুটি গড়েন। পরবর্তীতে সাকিব, মুশফিকের অনন্য নৈপুণ্যে ঐ খেলায় বাংলাদেশ দল বিশাল রান তাড়া করে ৬ উইকেটের কৃতিত্বপূর্ণ জয়লাভ করে। এরফলে বাংলাদেশ সফলভাবে একদিনের আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে বিজয়ী হয়।
৯ মার্চ, ২০১৫ তারিখে অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ৫ম খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সেঞ্চুরি করেন। এরফলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন। ১০৩ রানের তার এ ইনিংসে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১৩৮ বল স্থায়ী ছিল। কিন্তু ক্রিস উকসের হাতে রান-আউটের শিকারে পরিণত হন। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপের যে-কোন উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে ১৪১ রানের সর্বোচ্চ জুটি গড়েন। এছাড়াও একদিনের আন্তর্জাতিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মধ্যকার এ জুটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। একদিনের আন্তর্জাতিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলগতভাবে সর্বোচ্চ রান তোলে। পরবর্তীতে রুবেল হোসেনের প্রশংসনীয় বোলিংয়ে (৪/৫৩) বাংলাদেশ ১৫ রানের ব্যবধানে জয়ী হওয়াসহ কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। ১৩ মার্চ সেডন পার্কে গ্রুপ পর্বে দলের সর্বশেষ খেলায় নিউজিল্যান্ডের সাথে ১২৮* রান করে অপরাজিত থাকেন ও নিজস্ব দ্বিতীয় শতরান করেন। এ খেলায় তিনি বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে দুই খেলায় শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন, যা এর আগে কোনো বাংলাদেশী খোলোয়াড় করতে পারেননি। কিন্তু তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ওই খেলায় বাংলাদেশ দল ৩ উইকেটে পরাজিত হয়।
রেকর্ড
টেস্টে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম-উইকেটে ২য় সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ(১৯১)
অবসর
২০২১ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের সময় মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন।
৮ই অক্টোবর ২০২৪ এ তিনি টি২০ থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
১২ই মার্চ ২০২৫ এ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।






