এম জাহিদ হাসান
M. Zahid Hasan
১৯৭১ — বর্তমানবয়স ৫৫
বাংলাদেশী মার্কিন বিজ্ঞানী
- এম. জাহিদ হাসান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইউজিন হিগিন্স অধ্যাপক।
- তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান ও কোয়ান্টাম স্থানিকবৃত্ত (টপোলজি)।
এম. জাহিদ হাসান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইউজিন হিগিন্স অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান ও কোয়ান্টাম স্থানিকবৃত্ত (টপোলজি)।
জীবনী
জাহিদ হাসান বাংলাদেশের ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ৫ বারের নির্বাচিত সাংসদ এডভোকেট রহমত আলী ও গৃহিণী নাদিরা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জাহিদ সবার বড়। তার বোন রুমানা আলী ১৪ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সাংসদ।[১] তিনি ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানী স্টিভেন ওয়াইনবার্গের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিতে এরপর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন ও সেখানকার ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও স্নাতক উপাধি লাভ করেন। তিনি ২০০২ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি অর্জন করেন। পিএইচডি করার সময় জাহিদ বের করেন কঠিন বস্তুর মধ্যে ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যা বের করার কৌশল। সেসময় তিনি স্ল্যাক জাতীয় ত্বরক পরীক্ষাগার ও ব্রুকহেভেন জাতীয় পরীক্ষাগারে কাজ করতেন।
তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে এক মেয়াদের জন্য রবার্ট এইচ ডাইক গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন এবং নিউ জার্সির মারি হিলে অবস্থিত বেল ল্যাবস পরীক্ষাগার, স্ল্যাক জাতীয় ত্বরক পরীক্ষাগার ও লরেন্স বার্কলি জাতীয় পরীক্ষাগেরে অতিথি গবেষক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
হাসান বর্তমানে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানিকবৃত্তীয় কোয়ান্টাম পদার্থ ও উন্নত বর্ণালীবীক্ষণ বিষয়ক পরীক্ষাগেরের প্রধান তদন্তকারী গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স বার্কলি জাতীয় পরীক্ষাগারের একজন অতিথি শিক্ষক ও বিজ্ঞানী। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো অ্যাল্টোতে অবস্থিত বেটি ও গর্ডন মুর ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ইপিআইওএস-মুর তদন্তকারী পদে কাজ করছেন; স্থানিকবৃত্তীয় পদার্থে উদীয়মান কোয়ান্টাম ঘটনাবলীর উপর গবেষণার জন্য তাঁকে এই বৃত্তি দান করা হয়। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ওয়াশিংটন ডি.সি.-ভিত্তিক অ্যাস্পেন ইনস্টিটিউট-এর বিশিষ্ট ভ্যানগার্ড সভ্য। ২০২০ সালে হাসান মার্কিন শিল্পকলা ও বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির বিশিষ্ট সভ্য বা "ফেলো" নির্বাচিত হন।
গবেষণা
হাসানের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মৌলিক পদার্থবিজ্ঞান। তিনি হয় ইলেকট্রনীয় কোয়ান্টাম পদার্থের নতুন দশা সন্ধান করেন বা সেগুলির উপর গভীর অনুসন্ধান সম্পাদন করেন। তিনি লরেন্স বার্কলি জাতীয় পরীক্ষাগারের বিক্ষিপ্ত-বর্ণালীবীক্ষণ মার্লিন বিম-রেখা ও প্রান্তিক-স্টেশন কেন্দ্রটির সহ-প্রস্তাবক ও সহনেতা ছিলেন। এছাড়া তিনি অতিদ্রুত লেজার বর্ণালীবীক্ষণ ও কোয়ান্টাম সামঞ্জস্য বিষয়ক ঘটনাবলীর জন্য প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষাগার নির্মাণ করেন।



