
আবু সাঈদ চৌধুরী
Abu Sayeed Chowdhury
১৯২১ — ১৯৮৭৬৬ বছরের জীবন
বাংলাদেশের ২য় রাষ্ট্রপতি
- আবু সাঈদ চৌধুরী (জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯২১ - মৃত্যু ২ আগস্ট ১৯৮৭) বাংলাদেশের ২য় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- এছাড়া, এর পূর্বে তিনি বিভিন্ন সময় ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এর দায়িত্ব পালন করেছেন।
আবু সাঈদ চৌধুরী (জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯২১ - মৃত্যু ২ আগস্ট ১৯৮৭) বাংলাদেশের ২য় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এছাড়া, এর পূর্বে তিনি বিভিন্ন সময় ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এর দায়িত্ব পালন করেছেন।
জন্ম এবং শিক্ষা
আবু সাঈদ চৌধুরীর ১৯২১ সালের ৩১শে জানুয়ারী টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদার পরিবার ছাড়াও, তার পিতা আবদুল হামিদ চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার ছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তাকে খান বাহাদুর উপাধি প্রদান করেছিল।
তার দাদা হাজী এবাদত উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একজন সৎ ও পরোপকারী ব্যক্তিত্ব।
তিনি টাঙ্গাইল এর বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৪০ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৪২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তিনি লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন।
পেশাজীবন
আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৪৭ সালে কলকাতা হাই কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। দেশভাগের পরে ১৯৪৮ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৬০ সালে আবু সাঈদ চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের অ্যাডভোকেট জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৬১ সালের ৭ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান তাকে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ করেন এবং দুই বছর পরে ঢাকা হাইকোর্টে স্থায়ী নিয়োগ পান। তিনি পাকিস্তানের সাংবিধানিক কমিশনের সদস্য (১৯৬০-১৯৬১) এবং বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান (১৯৬৩-১৯৬৮) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অধিবেশনে যোগদানের জন্য জেনেভা যান। সেখানে জেনেভার একটি পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন ছাত্রের মৃত্যু সংবাদ দেখে বিচলিত হয়ে ২৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক শিক্ষা সচিবকে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরিত একপত্রে লেখেন, “আমার নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর পর আমার ভাইস চ্যান্সেলর থাকার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তাই আমি পদত্যাগ করলাম”। মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে জেনেভা থেকে তিনি লন্ডন যান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হন। এ কাজে তিনি বিশেষ সাফল্য অর্জন করেন।
স্বাধীনতার পরে আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন। একই বছর তিনি পদত্যাগ করেন এবং একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ৮ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রী ছিলেন। ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরে তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী হন এবং একই বছরের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যের অবসান এবং তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি প্রদান করে।
মৃত্যু
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৮৭ সালের ২ আগস্ট লন্ডনে হৃদেরাগের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগবাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।






